অতঃপর করোনার জেনোম সিকুয়েন্স সমাচার

প্রকাশিতঃ ৮:৪৫ অপরাহ্ণ, শুক্র, ৫ জুন ২০

ড. মোহাম্মদ সরোয়ার হোসেন :

করোনার জেনোম সিকুয়েন্সকে কেন্দ্র করে নাকি কয়েক শত কোটি টাকার (২০০-৫০০) বরাদ্দের প্রস্তাব দেয়া হচ্ছে? আমি অন্তত এই ফিল্ডের দুজনের কাছ থকে ব্যক্তিগতভাবে শুনেছি? আমি এটা বিশ্বাস করতে চাই না; এর সত্যতা জানতে চাই।

বাংলাদেশে কোন কিছুর হাইপ তৈরী করে সরকারকে বোকা বানায় পজিশনওয়ালা প্রফেসররা। এমন আগেও হয়েছে। পাটের জিনোম সিকুয়েন্স করার ইস্যুতেও শত কোটি টাকার মত নাকি বরাদ্দ হয়েছে। জিনোম সিকুয়েন্স থেকে সুবিধা পাওয়ার মত সেট আপ বাংলাদেশে আগামী ২০-৩০ বছরেও হওয়ার কথা নয়।

পত্রিকায় দেখেছি সরকার করোনার রিসার্চের ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করছে। অনেকের বিরাগভাজন হবো জেনেও এই টাকাগুলো যেন অপচয় না হয় সেই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে লিখছি।

এই দেশকে সত্যিই ভালবাসি বিধায় লেখি। এর জন্য বিপদেও পড়তে হয়েছে অনেকবার। দেশের ফেরার পর গত ৮ বছরে সীমানহীন কষ্টের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে, জব ছাড়তে বাধ্যও করা হয়েছে। পরিবার চালানোর তাগিদে বিজনিস দাঁড় করাতে চেষ্টা করেছিলাম সেই সময়টাতে। অবশেষে একাডেমিয়াতে আবার ফিরে আসার সুযোগ হয়।

আমরা অনেকে নিজের পয়সা খরচ করে রিসার্চ করি, অন্যরা যাতে করতে পারে সেজন দিন-রাত এফোর্ট দিয়ে থাকি। রিসার্চ সংক্রান্ত দূর্নীতির ইস্যুকে কেন্দ্র করে বিএমআরসি’র (BMRC) রিসার্চ গ্রান্টের ৫ লক্ষ টাকা গ্রহন করেনি। এই কারনে সেখান ফান্ডের জন্য আর এপ্লাইও করতে পারি না। অফিসের লোকজন আমাকে ভালভাবে মনে রেখেছে! রিসার্চ না করেও যেন কোন রকম একটি ভুয়া রিপোর্ট বানিয়ে সেই ফান্ডের ২০% দিয়ে বাকী টাকা উঠিয়ে নিতে চাপও দিয়েছিল BMRC! তাদের যুক্তি ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসররা এইভাবে নিতে পারলে আপনার সমস্যা কোথায়? কেউ তো এত সমস্যায় ফেলেনি।

রিসার্চে বরাদ্দ কম । কিন্তু রিসার্চের নামে টাকার অপচয় হবে তা মেনে নেয়া কঠিন।

লেখক : নির্বাহী পরিচালক, বায়োমেডিকেল রিসার্চ ফাউন্ডেশন (বিআরএফ)
সহযোগী অধ্যাপক, ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ (আইইউবি)

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।