অধিক মুনাফার আশায় পিয়াজ গুদামজাতে ইসলামের হুশিয়ারি

প্রকাশিতঃ ১১:০৮ অপরাহ্ণ, সোম, ৩০ সেপ্টেম্বর ১৯

ইসলাম ডেস্ক: খাদ্যদ্রব্য মজুদ করা অথবা তা বাজার থেকে তুলে নিয়ে দাম বাড়ানো এবং অধিক মুনাফার প্রত্যাশা করাকে ইসলাম অবৈধ করেছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পায় এবং অনেক মানুষ দুর্গতির মধ্যে পতিত হয়।

এ ধরনের কাজ মানুষের কষ্টকে বাড়িয়ে দেয়। তাই ইসলাম এ প্রকার কাজকে হারাম ঘোষণা করেছে।

এ প্রসঙ্গে রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি মুসলমানদের খাদ্য শস্য মজুদ রাখে, আল্লাহপাক তার ওপর দরিদ্রতা চাপিয়ে দেন।’ (আবু দাউদ : ৫৫)

ব্যবসায়িক পণ্য বিক্রি না করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বর্ধিত মুনাফা আদায়ের প্রচেষ্টা একটি সামাজিক অপরাধ।

রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে খাদ্যশস্য গুদামজাত করে সে অভিশপ্ত।’ (ইবনে মাজাহ)

তিনি আরো বলেন, ‘যে ব্যক্তি ৪০ দিনের খাবার মজুদ রাখে, সে আল্লাহর জিম্মা থেকে বেরিয়ে যায়।’ (মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা : ২০৩৯৬)

অন্য হাদিসে এসেছে: ‘যে ব্যক্তি খাদ্যশস্য গুদামজাত করে সে অপরাধী।’ (আল মু’জামুল কাবির: ১০৮৬)

মজুদের ফলে ধনসম্পদ বিকেন্দ্রীকরণ ও বণ্টন হওয়ার পরিবর্তে শ্রেণী ও সম্প্রদায় বিশেষের মধ্যে কেন্দ্রীভূত হয়ে পড়ে আর সাধারণ মানুষ হয় নিঃস্ব ও দরিদ্র। লেনদেনেও স্থবিরতা দেখা দেয় এবং উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়।

আল্লাহ তায়ালা দৃষ্টান্তস্বরূপ আল কোরআনে কারুনের ঘটনা উল্লেখ করেন। কারুন ধনসম্পদ জমা করে স্বীয় সম্প্রদায়ের প্রতি অন্যায় আচরণ করে এবং যমীনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। ফলে আল্লাহ তায়ালা তাকে, তার ঘরবাড়ি ও ধনসম্পদসহ জমিনে ধসিয়ে দিয়ে শাস্তি দেন।

আল্লাহ তায়ালা বলেন,‘কারুন ছিল মুসা (আ.) এর সম্প্রদায়ভুক্ত। সে তার প্রতি ঔদ্ধত্য প্রকাশ করল। আমি তাকে এত ধনভান্ডার দান করেছিলাম, যার চাবি বহন করা কয়েকজন শক্তিশালী লোকের পক্ষে কষ্টসাধ্য ছিল।

যখন তার সম্প্রদায় তাকে বলল, দম্ভ করো না নিশ্চয় আল্লাহ দাম্ভিকদের ভালোবাসেন না। আল্লাহ তোমাকে যা দান করেছেন, তা দ্বারা পরকালের গৃহ অনুসন্ধান কর এবং ইহকাল থেকে তোমার অংশ ভুলে যেও না।

তুমি অনুগ্রহ কর যেমন আল্লাহ তোমার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন এবং পৃথিবীতে অনর্থ সৃষ্টি করতে প্রয়াসী হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ অনর্থ সৃষ্টিকারীদের পছন্দ করেন না। সে বলল, আমি এ ধনসম্পদ আমার নিজস্ব জ্ঞানগরিমা দ্বারা অর্জন করেছি।

সে কি জানে না যে, আল্লাহ তার আগে অনেক সম্প্রদায়কে ধ্বংস করেছেন, যারা শক্তিতে ছিল তার চেয়ে প্রবল এবং ধনসম্পদে অধিক সমৃদ্ধ। পাপীদের কি তাদের পাপকর্ম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে না?’

কারুন ছিল অহংকারী। সে অঢেল ধনসম্পদের মালিক ছিল। তার সম্প্রদায় তাকে এ থেকে দান করার জন্য উপদেশ দিয়েছিল, কিন্তু সে দান করেনি। বরং আরও ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করে বলেছিল, ধনসম্পদ সে নিজ জ্ঞানগরিমায় অর্জন করেছে। আল্লাহ সীমালঙ্ঘন ও অবাধ্যতার কারণে তাকে তার ধনসম্পদ, সহায়-সম্পত্তি ও বাড়িঘরসহ ধ্বংস করে দেন।

ব্যক্তিগত বা সমষ্টিগতভাবে অতিমুনাফা অর্জনের লক্ষ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী মজুদ করে আল্লাহর সৃষ্টিকে কষ্ট দেয়া ইসলামের দৃষ্টিতে জঘন্য অপরাধ। রাসুলল্লাহ (সা.) পণ্য মজুদ করাকে কঠোরভাবে নিষেধ করেন।

রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন, ‘বাজারে পণ্য আমদানিকারক রিজিকপ্রাপ্ত হয় আর পণ্য মজুদকারী অভিশপ্ত হয়।’

আল্লামা ইউসুফ কারজাভি এ হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেন, ‘ব্যবসায়ী দুইভাবে মুনাফা লাভ করে। একটি হচ্ছে, সে পণ্যদ্রব্য মজুদ করে অধিক মূল্যে বিক্রি করার আশায়; অর্থাৎ পণ্য আটক করে রাখলে বাজারে তার তীব্র অভাব দেখা দেবে। তখন যত চড়া মূল্যই দাবি করা হোক না কেন, তা দিয়েই তা ক্রয় করতে বাধ্য হবে।

আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে, ব্যবসায়ী পণ্য বাজারে নিয়ে আসবে এবং অল্প অল্প মুনাফা নিয়েই তা বিক্রি করে দেবে। পরে এ মূলধন দিয়ে সে আরও পণ্য নিয়ে আসবে এবং তাতেও সে মুনাফা পাবে। এভাবে তার ব্যবসা চলতে থাকবে ও পণ্যদ্রব্য বেশি কাটতি ও বিক্রি হওয়ার ফলে অল্প অল্প করে মুনাফা হতে থাকবে। মুনাফালাভের এ নীতি ও পদ্ধতিই সমাজসমষ্টির পক্ষে কল্যাণকর।’

তবে গুদামজাত পণ্য যদি মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় বস্তু না হয় কিংবা মানুষ এর মুখাপেক্ষী না হয় অথবা এসব পণ্য চাহিদার অতিরিক্ত হয় বা গুদামজাতকারী বর্ধিত মুনাফা অর্জনের অভিলাষী না হয়, তাহলে এসব অবস্থায় পণ্য মজুদ রাখা অবৈধ বলে গণ্য হবেনা।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ