অনলাইন ক্লাস ও উপস্থিতির নম্বর নিয়ে বিপাকে কুবি শিক্ষার্থীরা

প্রকাশিতঃ ৭:৫৮ অপরাহ্ণ, বৃহঃ, ২৩ জুলাই ২০

কুবি প্রতিনিধি : দৃশ্যমান সমস্যা বিদ্যমান থাকা সত্বেও শিক্ষা কার্যক্রম সচল রাখতে অনলাইন ক্লাসের নির্দেশনা দিয়েছে ইউজিসি। দেশের অন্যান্য বিদ্যাপীঠের ন্যায় অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়েছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়েও (কুবি)। তবে নানা সমস্যার কারণে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার অর্ধেকের এদিক ওদিক। এতে প্রশাসনের সুনির্দিষ্ট কোন সিদ্ধান্ত না থাকায় উপস্থিত নম্বর নিয়ে বিপাকে পড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে শিক্ষার্থীদের মধ্যে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ১৫ জুলাই থেকে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হলেও উচ্চগতি সম্পন্ন ইন্টারনেট, প্যাকেজের উচ্চমূল্য, প্রান্তিক অঞ্চলে নেটওয়ার্ক না থাকা, আর্থিক সমস্যা, ডিভাইস না থাকাসহ নানা কারণে বিভিন্ন বিভাগের প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থী উপস্থিত হতে পারছেন না ক্লাসে। ফলে উপস্থিত নম্বর নিয়ে তৈরি হয়েছে জটিলতা। কেউ কেউ আবার অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমকে বৈষম্য বলেও ‌অভিহিত করে আসছেন।

এদিকে প্রতিটি বিভাগেই ক্লাসে উপস্থিতির উপর কিছু মার্ক বরাদ্দ থাকে। ৪০ (চল্লিশ) নম্বরের ইনকোর্সে ক্লাসে উপস্থিতির জন্য বরাদ্দ থাকে ৫ মার্ক। কোন কোন বিভাগে এটি ১০ মার্ক। এ উপস্থিতির হার ৬০ শতাংশ হলে একজন শিক্ষার্থীকে সেমিস্টার ফাইনালের অনুমতি দেওয়া হয়। ৬০ শতাংশের কম বা ৪০ শতাংশের বেশি হলে নির্দিষ্ট পরিমাণ জরিমানা দিয়ে একজন শিক্ষার্থী সেমিস্টার ফাইনালে বসতে পারেন। কিন্তু ৪০ শতাংশের কম হলে সেমিস্টার ফাইনাল দিতে দেওয়া হয়না। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার্থীরা বলছেন, প্রশাসন থেকে সুস্পষ্ট কোন সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি। ফলে একদিকে অনলাইন ক্লাসের কারণে বৈষম্যের পাশাপাশি নম্বরেও বৈষম্যের সৃষ্টি হচ্ছে।

নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী অর্ক গোস্বামী বলেন, “অনেক শিক্ষার্থী ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে অনলাইন ক্লাসে যুক্ত হতে পারছেন না। এক্ষেত্রে উপস্থিতির হার ৬০-৭০% এর নিচে। ফলে তারা ক্লাস লেকচার এবং এটেনডেন্স নাম্বার গুলো থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন। এ পরিস্থিতিতে কেউ যাতে বৈষম্যের স্বীকার না হয়। সেজন্য অতি দ্রুত প্রশাসনকে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে।”

সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মুহ. আমিনুল ইসলাম আকন্দ বলেন, “উপস্থিতির এ ৫ মার্ক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে অন্য কোন উপায়ে নেওয়া যায় কিনা সেটা ভাবতে হবে। যেমন এসাইনমেন্ট,কুইজ কিংবা অন্য কোন কিছু নিয়ে এ ৫ মার্ক নেওয়া যেতে পারে।”

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের বলেন, “আমরা একটি মিটিং এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছি। আমাদের সিদ্ধান্ত খুব শীঘ্রই বিভাগীয় প্রধানদের জানিয়ে দেব।”

যারা অস্বচ্ছল শিক্ষার্থী এবং যাদের ক্লাস করার মতো প্রয়োজনীয় ডিভাইস নেই তাদের নিয়ে কি ভাবছে প্রশাসন জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে আমরা আগামী সিন্ডিকেটে সিদ্ধান্ত নেব। সরকারেরও একটি উদ্যোগ আছে। তবে সেটি আসতে আরও মাস খানেক সময় লাগবে। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কিছু দেয়া যায় কিনা সেটি সিন্ডিকেটে সিদ্ধান্ত নেব।”

সময় জার্নাল/

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।