অপকর্মগুলিতে জড়িত সবাইকে শাস্তির মুখোমুখি হতেই হবে

প্রকাশিতঃ ৯:১৯ অপরাহ্ণ, বৃহঃ, ২৩ এপ্রিল ২০

ডা. কামরুজ্জামান খান :

কয়েকদিন আগে জানতে পারলাম, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সম্প্রতি সেন্ট্রাল মেডিকেল স্টোরস্ ডিপো (সিএমএসডি) থেকে বিশেষায়িত এন 95 মাস্ক পেয়েছে এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মাস্কগুলি নিম্নমানের বলে দাবী করে এবং আসল কিনা তার প্রমান চায়। এতেই সাধারণ মানুষ সহ সবাই খুবই আশংকিত হয়ে পড়ে। যদিও সি এম এস ডি একটি নোটিশ দিয়ে তার দ্বায়মুক্ত হয়েছেন এবং এ নিয়ে যারা এরপরও প্রশ্ন করবেন তাদের আইসিটি এক্টে মামলার ভয়ও দেখিয়েছেন৷ তা দেখাতেই পারেন তারা। কিন্তু আমরা সাধারণ মানুষ কি তথ্য অধিকার আইনে একটি প্রশ্ন রাখতে পারিনা?

প্রশ্ন হলো CMSD নিজেই স্বীকার করেছেন আমেরিকার ছাড়া কেউ আসল N-95 মাস্ক সরবরাহ করতে পারছেনা এখন। কিন্তু মুগদা হাসপাতালে রিসিভ করা ডকুমেন্টস তো বলে তারা সেখানে আসল N-95 সরবরাহ করেছেন। তাহলে এটি কোথা থেকে আসলো সেখানে? । CMSD বলছে তারা কোন N-95 মাস্কের ওয়ার্ক অর্ডার দেয়নি, তাহলে মুগদায় হাসপাতালে N-95 মাস্ক (লিখিত) কে সরবরাহ করেছে? নিশ্চয় সকল রিসিভ কপি ও সরবারাহের ডকুমেন্টারিতে N-95 নামেই জমা হয়েছে।বাকি ছবি গুলো দেখুন৷ আবার CMSD বলছে তারা ভুল করে ভুল মাস্ক পাঠিয়েছে৷ যেখানে আমেরিকা ছাড়া কারোও কাছেই আসল N-95 মাস্ক নাই,তাহলে JMI প্রতিষ্ঠানের কাছে মুদ্রন করা N-95 মোড়ক / মাস্কের বাক্স কোথা থেকে এলো? এটা নিশ্চয় তারা দেশে প্রিন্ট করে বাক্সে লাগিয়েছে যা একটি জালয়াতি।

ভুল আসলে কোনটা? আজ এই দুরাবস্তায় মানুষ জানতে চাইতেই পারে? এমন ভাবলে কি ভুল হয়, দেশের সকল হাসপাতালেই একই চিত্র কিনা? আর কি/কোন ওয়ার্ক অর্ডারের ভিত্তিতে এই মাস্ক সরবরাহ হচ্ছে তার নোটিশ কিংবা অফিস আদেশ আজ অব্দি কেউ জানতে পারলোনা, তাই এত ঘোলাসা। এত এত প্রশ্ন আসাতেই ফ্রন্টলাইন চিকিৎসাকর্মীদের মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে … সুতরাং তারা স্বাভাবিকভাবেই উত্তেজিত! সবচেয়ে খারাপ বিষয়, সেসকল চিকিৎসাকর্মীদের সংস্পর্শে আসা হাজার হাজার রোগীর জন্য এখন ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি।আবারো বলছি

কৌতূহলজনকভাবে, সিএমএসডি প্রেস নোটের মাধ্যমে দাবি করে যে এগুলি সাধারণ মাস্ক ছিল, ভুল করে এন 95 বাক্সগুলিতে প্যাক করা হয়েছিল! এটি আশ্চর্যের বিষয় যে সিএমএসডি-র নিজস্ব প্রাপ্তি রশিদ মাস্কগুলিকে WHO-এর প্রস্তাবিত N95 মাস্ক হিসাবে তালিকাভুক্ত করেছে (এবং তাদের দাবি হিসাবে ‘সাধারণ মাস্ক নয়’)। আসলে, প্রাপ্তির রশিদ এবং গ্রহন কমিটির স্বাক্ষর পত্র উভয়ই উল্লেখ করেছে যে সরবরাহিত সাধারণ মুখোশগুলি পৃথক আইটেম এবং ভিন্ন সরবরাহকারী সরবরাহ করে!

এমন মারাত্মক মহামারীর সময়ে এধরনের নাশকতা সংঘটিত করার প্রয়াসের কথা ভেবে আমি কাঁপছি। আর আমি একা নই। যদি আমাদের আশঙ্কা ভিত্তিহীন হয় – সিএমএসডি অবশ্যই জেএমআইয়ের ক্রয় আদেশ এবং ডেলিভারি চালান একবারে প্রকাশ্যে আনতে হবে। এবং ব্যাখ্যা করুন কেন এটি বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ মহামারী চলাকালীন নিম্ন-গ্রেড মাস্ক পাঠাচ্ছে।

অন্যথায়, সিএমএসডি নিজেই এই কেলেঙ্কারির পিছনে অপরাধীদের (বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট এবং সংবাদপত্রের পরামর্শ অনুসারে) বাঁচানোর প্রচেষ্টা করছে ব্যতীত অন্য কিছুই বলে বিবেচিত হবে না। এবং এই অপকর্মগুলিতে কে বা কারা জড়িত তা নির্বিশেষে শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ