আজও কাঁদছেন আমেনা বিবি

প্রকাশিতঃ ৫:১৩ অপরাহ্ণ, রবি, ১৫ নভেম্বর ২০

এম পলাশ শরীফ, বাগেরহাট : দুঃসহ স্মৃতি বিজড়িত ভয়াল ১৫ নভেম্বর। ২০০৭ সালের এই দিনে রাত সাড়ে ৯টায় সুপার সাইক্লোন সিডর আঘাত হানে উপকূলীয় এলাকা মোড়েলগঞ্জ-শরণখোলার ৬৩৮বর্গ কিলোমিটারের এ জনপদ। সরকারি হিসেব অনুযায়ী সিডরে মোড়েলগঞ্জ উপজেলায় ৯৩ জন লোকের প্রাণহানি ঘটে।

লন্ডভন্ড করে দেয় সুন্দরবনসহ বিশাল আয়তনের প্রকৃতি ও মানবতাকে। ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয় উপকূলীয় অঞ্চল। একারণে উপজেলার মানুষের হৃদয়ে জড়িয়ে আছে এই দিনটি। ১৩ বছর অতিবাহিত হলেও আজও কেঁদে বেড়াচ্ছেন মোড়েলগঞ্জ উপজেলার উত্তর বারইখালী গ্রামের আমেনা বিবি (৭০)।

রোববার সরেজমিনে দেখা যায়, পানগুছি নদীর তীরবর্তী বারইখালী ইউনিয়নের উত্তর বারইখালী গ্রামের মৃত জব্বার শেখের স্ত্রী ভূমিহীন আমেনা বিবি চাল নেই চুলা নেই মাথাগোজার কোন মতে খুপড়ি বেঁধে নদীর পাড়ে তার বসবাস। সিডরের পরপরই বড় ছেলে দুলাল শেখকে হারাতে হয়েছে। ছোট ছেলে দিনমজুরের কাজ করে অন্যত্র বসবাস। খোঁজ খবর রাখে না বৃদ্ধ মায়ের। সাগরে মাছ ধরাই ছিলো দুই ছেলের পেশা। বয়সের ভারে অসুস্থ শরীর নিয়ে পেটের তাগিদে কোনমত দিন চলে আমেনা বিবির। দুপুরের খাবার প্রস্তুতি নিচ্ছেলেন ছৈলা গাছের ৫টি পাকা ফল ও আটা গোলা। দু’নয়ন থেকে অশ্রু ঝরছে। কি দেখছেন বাবা। এর আগেতো অনেকেই এসেছেন লিখে নিয়েছেন অনেক কথা। ইঞ্জিনিয়ার বলছে আপনার ঘর হবে। কিন্তু কবে হবে? এ রকম অনেক প্রশ্ন তুলেন সংবাদকর্মীদের কাছে তিনি। বয়স্ক ভাতা ৬ মাস পরপর ৩ হাজার টাকায় কি হয়। এদিকে গোটা গ্রামে নদীর তীরবর্তী শত শত বাড়ি ঘর ফসলী জমি পানগুছি নদীর করাল গ্রাসে বিলীন হয়ে গেছে। ভূমিহীনভাবে বসবাস করছে ১৫-২০টি পরিবার।

কথা হয় ভূমিহীন রহিমা বেগম, হনুফা বেগম, ফারুক শেখ, আনোয়ার শেখসহ একাধিক পরিবারের সাথে। তারা বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগতো রয়েছেই তার পরেও অতিরিক্ত জোয়ারের পানিতে প্রতিনিয়ত দু’বার পানিতে প্লাবিত হয় বাড়িঘর। ছেলে মেয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটছে তাদের। টেকসই বেড়ি বাঁধ ও স্থায়ীভাবে মাথাগোজার ঠাঁই দাবি করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে।

এ সর্ম্পকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী এ উপজেলায় ১৬৭ জন ভূমিহীন পরিবারের তালিকা করা হয়েছে। চেয়ারম্যানদের সমন্বয়ে সভার করার পরবর্তীতে প্রতিটি ইউনিয়নে সরকারি খাস জমি ভূমিহীনদের মাঝে বন্টন করা হবে।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।