আদৌও কি মানা হচ্ছে লকডাউন?

প্রকাশিতঃ ১০:২৯ অপরাহ্ণ, মঙ্গল, ২৬ মে ২০

সাইফুল আহমেদ : দুনিয়াজুড়ে চলছে কোভিড-১৯ বা করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কাল। সারাবিশ্বেই ছড়িয়ে পড়েছে এই মহামারি। মৃত্যুর তাণ্ডব চলছে দেশে দেশে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী আট লাখেরও বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছে এই ভাইরাসে। লাশের সারি তিনলাখ পয়তাল্লিশ হাজারের বেশি। চীনে শুরু হলেও ইউরোপ আর উত্তর আমেরিকায় মৃত্যুর মিছিল ডেকে এনেছে করোনাভাইরাস। অন্য অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশে করোনা পরিস্থিতি অনেকখানিই নিয়ন্ত্রনে থাকলেও এটা এখন নিয়ন্ত্রণের বাহিরে। দিনে দিনে বেরেই চলেছে আক্রান্তদের সংখ্যা সাথে বেরে চলেছে মৃত্যুর মিছিল।

দেশের সাথে সাথে ছোট বড় শহর লকডাউনের পথে বাদ যাচ্ছে না গ্রাম গুলোও।কিন্তু আমরা কি আদৌও এই লকডাউন মেনে চলছি? একটুও কি সতর্ক হচ্ছি? নাহ,আমরা এসবের ধার ধারি না কারন আমরা মনে করি আল্লাহ যারে দিবে তার ই হবে তাহলে সতর্কতার কি প্রয়োজন-এই হলো আমাদের মতো সো-কলড বাংগালীর কথা।আল্লাহর উপর ভরসা তো আমাদের রাখতেই হবে সাথে সতর্কতা ও প্রয়োজন।

জাতিসংঘ তথ্যকেন্দ্র জানিয়েছিলো, সারাবিশ্বের মতোই বাংলাদেশে এই ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়া রোধ করার জন্য জলদি কোনো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে তা দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়তে পারে। জনগণের প্রতি প্রতিরোধমূলক সব ব্যবস্থা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়। এতে বলা হয়, সরকার, জাতিসংঘের সংস্থা, নাগরিক সমাজ ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো দেশব্যাপী স্বাস্থ্যব্যবস্থা আরও জোরদার করার জন্য কিছুটা সময় পাবে। আর তার ফলে বাংলাদেশ এই মহামারি কার্যকরভাবে মোকাবিলা করতে পারবে বলেও প্রতিবেদনে আশা প্রকাশ করা হয়েছিলো।

এদিকে দিন দিন বেড়েই চলছে লকডাউনের দিন।যান চলাচল বন্ধ।মাসকে মাস ঘরে আটকে গেছে হাজারো মানুষ।ঈদ থাকলেও বাড়িতে আসতে পারতেছেনা কেউই।তাও দেখা যায় সচেতনতার বেড়াজাল ভেঙে মাঝ রাতে বাড়ির পথে ফিরছে মানুষ দলে দলে, কেউ মাইক্রোবাসে কেউ সব্জির ট্রাকে কেউবা মটরযানে। গ্রাম অঞ্চলে ও ঢুকছে এই মটর যানের মাধ্যমে। সরকার তার ঠিক পদক্ষেপ নিলেও নিচ্ছে না স্থানীয় প্রশাসন।

পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলায় এতদিন করোনা মুক্ত থাকলেও গত ২৩ মে স্থানীয় এক মাছ ব্যবসায়ীর শরীরে পাওয়া গেছে করোনা ভাইরাস। এদিকে আবার শোনা যাচ্ছে কলাপাড়ার মহিপুরের এক গ্রাম্য ডাক্তার মারা গেছে করোনা নিয়ে। এমন ক্রান্তিলগ্নে মটরযানের মাদ্ধ্যমে গ্রাম থেকে গ্রামে শহর থেকে শহরে লোক ঢুকছে এমনকি তারা এসেই সবার সাথে মিশছে। প্রশাসন ও কিছু করতেছে না।

আমার দেখা মতে কলাপাড়ার মহিপুরের অনেক এলাকায় প্রশাসনের তার মদ্ধ্যে সতর্কতার ‘স’ ও দেখা যাচ্ছে না।তাদের অনুমতিতে প্রতিদিন বিভিন্ন খেলা হয় এবং সে নিজেও খেলে আর সে খেলে হয় টাকার মাদ্ধ্যমে।তাদের অনুমতিতেই চলছে মটরযান।শুধু এইসব এলাকায় না সেভাবে দেখলে দেশের প্রতিটি এলাকায় ই এমন ঘটনা ঘটছে প্রতিনিয়ত। আর এ এলাকা গুলোই বেশি ঝুকিতে আছের।

করোনার আক্রামন দিনে দিনে যতই বাড়ছে মানুষের মদ্ধে অসচেতনতা ততই বাড়ছে।আজকে ঈদের দিনে সর্বোচ্চ রেকর্ড করেছে আক্রান্ত দিয়ে ১৯৭৩ জন ২১ জন মৃত্যু। আর কত অসচেতন হবো আমরা?কবে বুঝবো আমরা? এখন প্রযন্ত আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৩৫৫৮৫+ মৃত্যু সংখ্যা ৫০১ জন। আর এর মদ্ধেও গ্রামে লোক ঢুকতেছে রাত-বিরেতে মানতেছে না কোয়ারেন্টাইন।গ্রামের প্রশাসন ও কঠর হচ্ছে না।

স্থানীয় প্রশাসন যদি এমন করতে থাকে তো সাধারণ জনগন কি করবে?

আমি সরকারের কাছে অনুরোধ করতেছি গ্রাম অঞ্চল গুলোর দিকে একটু দৃষ্টি আকর্ষণ করতে। সেনাবাহিনীর, পুলিশ ইত্যাদি শহরে নয় আমার মতে গ্রামে দরকার গ্রামের মানুষ ই বেশি অসচেতন।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।