আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে হলি আর্টিসানে জঙ্গি হামলা মামলার রায়

প্রকাশিতঃ ৬:০৫ অপরাহ্ণ, বুধ, ২৭ নভেম্বর ১৯

আলোচিত গুলশানের হলি আর্টিসান রেস্তোরাঁয় ভয়াবহ জঙ্গি হামলা মামলার রায় ঘোষণার পরপরই বিষয়টি অন্যতম  প্রধান শিরোনাম হয়ে উঠেছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে। যা নিয়ে এরই মধ্যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম ‘আল-জাজিরা’, ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা ‘রয়টার্স’, চীনা বার্তা সংস্থা ‘সিনহুয়া’, ব্রিটেনভিত্তিক গণমাধ্যম ‘বিবিসি নিউজ’, ‘দ্য টেলিগ্রাফ’, ‘দ্য গার্ডিয়ান’, ‘সাউথ এশিয়ান মনিটর’, ভারতীয় মিডিয়া ‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’, ‘জি নিউজ’, ‘ইন্ডিয়া টুডে’, ‘হিন্দুস্তান টাইমস’, পাকিস্তানের ‘দ্য ডন’-সহ আরও অনেক গণমাধ্যম।
চীনা বার্তা সংস্থা ‘সিনহুয়া’ তাদের প্রতিবেদনে লিখেছে, ‘Bangladesh sentences 7 militants to death over 2016 cafe terror attack’, ‘২০১৬ সালের ক্যাফে হামলায় সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে বাংলাদেশ।’ দক্ষিণ এশিয়াভিত্তিক গণমাধ্যম সাউথ এশিয়ান মনিটর লিখেছে, ‘HOLEY ARTISAN CAFÉ ATTACK: 7 MILITANTS GET DEATH, ONE ACQUITTED’, ‘হলি আর্টিজান ক্যাফেতে হামলা : ৭ জঙ্গিকে মৃত্যুদণ্ড, একজনের খালাস।’
এ দিকে কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম ‘আল-জাজিরার’ প্রধান শিরোনাম ছিল, ‘Holey Artisan cafe attack: Dhaka court sentences seven to death’, ‘হলি আর্টিসানে হামলা : ঢাকার আদালতে ৭ জঙ্গির মৃত্যুদণ্ডাদেশ।’ ভারতীয় গণমাধ্যম ‘জি নিউজে’ শিরোনাম করা হয়েছে, ‘Bangladesh court gives death to 7, acquits 1 in 2016 Holey Artisan Cafe terror attack case’, ‘২০১৬ সালে হলি আর্টিসান ক্যাফেতে সন্ত্রাসী হামলা মামলা : বাংলাদেশের আদালতে সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড ও একজনকে খালাস।’
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা ‘রয়টার্সেও’ বাংলাদেশের আলোচিত এই মামলার রায় নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। গণমাধ্যমটি তাদের প্রধান শিরোনাম করেছে, ‘Bangladesh sentences seven to death for 2016 cafe attack’, ‘২০১৬ সালের ক্যাফে হামলায় সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে বাংলাদেশ।’
অপর দিকে বহু প্রতীক্ষিত এ রায় নিয়ে মোটা দাগে সংবাদ প্রকাশ করেছে ব্রিটেনভিত্তিক গণমাধ্যম ‘বিবিসি নিউজ’, জার্মান গণমাধ্যম ‘ডয়চে ভেলে’। তাছাড়া প্রতিবেশী ভারত, পাকিস্তান, নেপাল এবং মিয়ানমারের বিভিন্ন গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে হলি আর্টিসানে হামলা চালিয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবির সদস্যরা দেশি-বিদেশি নাগরিকসহ ২০ জনকে হত্যা করে। এই হামলায় দুইজন পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হন। পরে কমান্ডো অভিযানে পাঁচ জঙ্গি নিহত হয়।
ওই ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গুলশান থানায় একটি মামলা করেন থানার এসআই রিপন কুমার দাস। পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের পরিদর্শক হুমায়ুন কবির মামলাটি তদন্ত করে ২০১৮ সালের ১ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। একই বছরের ২৬ নভেম্বর অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মজিবুর রহমান।
এক বছরের বিচারকালে মামলার মোট ২১১ জন সাক্ষীর মধ্যে ১১৩ জন আদালতে সাক্ষ্য দেন। এরপর আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন এবং রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের মাধ্যমে গত ১৭ নভেম্বর এ মামলার বিচারকাজ শেষ হয়। পরে আদালত ২৭ নভেম্বর দিনটি রায় ঘোষণার জন্য ধার্য করেন।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ