আন্দোলনে ছাত্রদলকে ভূমিকায় চায় বিএনপি

প্রকাশিতঃ ২:২৮ অপরাহ্ণ, রবি, ১৩ অক্টোবর ১৯

নিউজ ডেস্ক: বিএনপির স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ দবি করে বলেন, আবরারের আত্মত্যাগ ক্ষমতাসীন সরকারের পতনের আন্দোলনে পরিণত হবে। যেমনি নব্বইয়ে স্বৈরাচার এরশাদ সরকারবিরোধী আন্দোলনে শহীদ নাজির হোসেন জেহাদের আত্মত্যাগ সরকার পতনের আন্দোলন ত্বরান্বিত করেছিলো। ছাত্রদলকে অতীতের মতো চলমান এই আন্দোলনের নেতৃত্বে দেখতে চায় বিএনপি। দেশ রুপান্তর

সাম্প্রতিক বাংলাদেশ-ভারত চুক্তি নিয়ে ফেসবুকে মন্তব্য করায় বুয়েটের তড়িৎ কৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে ৬ অক্টোবর রোববার রাতে শেরেবাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। পরদিন সোমবার থেকে এ ঘটনার প্রতিবাদ ও হত্যাকারীদের বিচারসহ ১০ দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করে বুয়েট শিক্ষার্থীরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ রাজধানী ও এর বাইরের অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও এই হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে আন্দোলন করে আসছে।

আন্দোলন নিয়ে গত বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, শহীদ আবরার তার জীবন দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের বীজ বপন করে গেছেন, শুভ সূচনা করে গেছেন। এখন তার সমাপ্তি ঘটানোর দায়িত্ব নিতে হবে বর্তমান ছাত্রসমাজকে।

মোশাররফ হোসেন বলেন, আবরার হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে ছাত্রসমাজের যে আন্দোলন চলছে, তার সঙ্গে আমরা ইতিমধ্যে সমর্থন দিয়েছি। এর পাশাপাশি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান ও জাতীয় মুক্তি মঞ্চের আহ্বায়ক কর্নেল (অব.) অলি আহমদসহ সরকারবিরোধী সব রাজনৈতিক দল ছাত্রসমাজের আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছে, সমর্থন করেছে। এখন ছাত্রসমাজের দায়িত্ব এই আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।

তিনি বলেন, অতীতে দেশে যত আন্দোলন হয়েছে, তার নেতৃত্ব দিয়েছে ছাত্রসমাজ। বিশেষ করে ’৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান এবং সর্বশেষ ’৯০-এর স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনের মতো আবারও একটি গণআন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। আর সেই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে হবে ছাত্রসমাজকেই।

নব্বইয়ে স্বৈরাচার সরকারবিরোধী আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন বিএনপির বর্তমান জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। শনিবার একই অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘আবরারের স্ট্যাটাসের পেছনের কারণই ছিলো দেশবিরোধী চুক্তির বিরোধিতা ও সত্য ইতিহাস তুলে ধরা। আর চুক্তিটি করেছে বর্তমান সরকার। সুতরাং আবরার খুনের দায় সরকারও এড়াতে পারে না। দেশবিরোধী চুক্তি বাতিল ছাড়া আবরারের আত্মা শান্তি পাবে না।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মুক্তিযুদ্ধের সময় ভূমিকার কথা উল্লেখ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘সে সময় সেনাবাহিনীতে অনেক মেজর ছিলেন। কিন্তু শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিজে থেকে উদ্যোগী হয়ে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে জনগণের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। জনগণ তার নাম জেনেছে। ঠিক একইভাবে এখন কার কী পদ আছে তা না ভেবে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। আন্দোলনই নেতৃত্ব সৃষ্টি করবে। যে সফলতা দেখাতে পারবেন তিনিই নেতা হবেন। জনগণের মণিকোঠায় জায়গা করে নেবেন।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ