আসন্ন দুর্ভিক্ষ মোকাবেলায় আমাদের ভাবনা

প্রকাশিতঃ ৩:৩৩ অপরাহ্ণ, বৃহঃ, ১৬ এপ্রিল ২০

আব্দুল্লাহ্ আল মেহেদী

প্রতিদিন চাল চুরি নিয়ে মিডিয়া জুড়ে হৈ চৈ দেখছি, ভয়-ভীতি ও লজ্জা-শরমের মাথা খেয়ে চাল চোরেরা যেন প্রতিযোগিতায় নেমেছে। করোনার সাথে পাল্লা দিয়ে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে প্রতিদিন চুরির রেকর্ড। কিন্তু আমি এতে মোটেও শংকিত হচ্ছি না, কারণ এটা চোরদের একটা সাধারণ স্বভাব। যখনই সুযোগ পাবে তখনই সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটাবে- এটাই স্বাভাবিক কথা। বরং আমি ভয় পাচ্ছি কবে হতে যেন আমি আপনিও চোর বা ছিনতাইকারী হয়ে না যাই। হ্যা, আমি আমাদের মত মধ্যবিত্ত শ্রেণির ভদ্রলোকদের নিয়েই সেই আশংকা করছি।

মাত্র দুটি ঘটনা নিয়ে কথা বলতে চাই- এক. সম্প্রতি জামালপুরে চলন্ত ট্রাক থামিয়ে ত্রাণের খাদ্য সামগ্রী ছিনিয়ে নেয় সেখানকার গরীব-অসহায় ক্ষুধার্ত মানুষেরা, তারা যে যা পারে লুটে নিয়ে যায়। এ ঘটনা নিশ্চয়ই আপনারা জানেন। দুই. স্যোসাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, একজন অপেশাদার চোর ক্ষুধার জালায় ৩টি পানির মটর চুরি করেছে এবং বাড়ির মালিকের কাছে ক্ষমা চেয়ে একটি লম্বা চিঠি লিখে রেখে গেছে। সেখানে সে এটাও লিখেছে যে, সে কাজে যেতে পারলে টাকা রোজগার করে আবার মটর কিনে ফেরত দিয়ে দেবে, তবে যেন বাড়ির মালিক তার বাবা-মায়ের নাম ধরে কোন গালি না দেন এবং কোন দাবী না রাখেন। সে লিখেছে যে, আপনারা হয়তো আরেকটা মটর কিনতে পারবেন কিন্তু আমি চুরি না করলে আমার বাচ্চারা না খেয়ে থাকবে। বারবার বলার চেষ্টা করেছে যে, সে কোন পেশাদার চোর নয়, পরিস্থিতির শিকার।

কোন ঘটনায় আপনি অবাক হচ্ছেন, চেয়ারম্যান-মেম্বারদের চাল চুরি নাকি এই মটর চুরির ঘটনায়? মটর চুরির ঘটনায় আমি শুধু অবাকই হচ্ছিনা বরং দুরকম ভয় পাচ্ছি। প্রথমত, হয়তো আমাদের সামনে এমন দুর্ভিক্ষ অপেক্ষা করছে যে, যেকোন সময় এরকম অভাবী ক্ষুধার্ত চোরের চুরি বা ছিনতাইয়ের শিকার হতে পারি আমি নিজেও। হয়তো রাস্তায় হাত হতে আমার বাজারের ব্যাগটাও ছিনতাই হয়ে যেত পারে। দ্বিতীয়ত, অবস্থা এমনও হতে পারে যে, আমি নিজেও ঐ চোর বা ছিনতাইকারী দলের সদস্য হয়ে যেতে পারি, পরিবারের জন্য খাদ্য জোগাড় করার তাড়নায়।

লকডাউন শেষ হয়ে যাওয়া মানেই সব ঠিক হয়ে যাওয়া নয়, আরো অপেক্ষা করতে হবে সব ঠিক হতে। জাতিসংঘ বলছে, পৃথিবী এক ভয়ানক দুর্ভিক্ষের কবলে পড়তে যাচ্ছে। বিশ্বের শক্তিশালী ও ধনী দেশগুলোও করোনা নামক এই অপ্রতিরোধ্য শত্রুর মোকাবেলায় দিশেহারা হয়ে পড়ছে, সেখানে আমাদের মত গরীব একটি দেশের অবস্থা কী হতে পারে তা দুশ্চিন্তার বিষয় কেন নয়! আমাদের এমপি মন্ত্রীরা যতই লাগামহীন কথা বলুক, আমাদের শক্তি ও সামর্থ্য এতদিনে আমরা নিশ্চয়ই বুঝে গেছি।

আপনি আমি করোনায় আক্রান্ত হলে কী হবে, কেমন চিকিৎসা হবে, বাঁচবো কিনা- এসব নিয়ে আমার খুব বেশি চিন্তা হচ্ছে না। এমনিতেই করোনার ওষুধ এখনো আবিষ্কার হয়নি, তারপরও আমাদের দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা সম্পর্কে আমরা সবাই খুব ভালো করে জানি। যদিও আমাদের চিকিৎসকগণ নিজেদের জীবনবাজি রেখে, পরিবার-পরিজনের নিরাপত্তা ভুলে দেশ ও জাতির জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন, তাদের এই অবদান জাতি কখনো ভুলবেনা। বরং সরকারের কাছে আমার অনুরোধ থাকবে এই যুদ্ধটায় চিকিৎসা কর্মী, পুলিশ, আর্মি, প্রশাসন, সংবাদকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকসহ যারা অগ্রণী ভুমিকা পালন করে যাচ্ছেন তাদেরকে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার মতই সম্মান ও স্বীকৃতির ব্যবস্থা করা হোক। বিশেষ করে চিকিৎসাকর্মীদেরকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি দেয়া হবে বলে আশা করি।

যাইহোক, আমার মূলত বেশি চিন্তা হচ্ছে এই যুদ্ধটা শেষ হয়ে যাওয়ার পরে নতুন পৃথিবীতে আমরা কীভাবে বাঁচবো এবং অভাব-অনটনের নতুন যুদ্ধটা কতদিন চলবে তা নিয়ে।

এবার আসি মূল প্রসঙ্গে। দেশ এখন এমন একটি বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে যে, ধনী-গরীব সকল শ্রেণির নাগরিকই সরকারি বা বেসরকারি সহযোগিতার অপেক্ষায় রয়েছেন। শুধু খাদ্য বা অর্থ সহযোগিতা নয়, একটি স্বাভাবিক জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় সকল সহযোগিতা।

একেক জনের কাছে সহযোগিতার প্রয়োজন ও গুরুত্বটাও ভিন্ন। যেমন সরকার যদি এখন সকল ভাড়াটিয়ার বাসা ভাড়া মওকুফের ঘোষণা দেন তাতে ঐ মানুষগুলোর কিছুই আসে যায়না যাদের ঘর বলতে ফুটপাত কিংবা কোন এক রেলস্টেশন বা লঞ্চ টার্মিনাল। তবে ব্যক্তির জীবন বাঁচাতে যেমন প্রত্যেক ব্যক্তিকে সহযোগিতা করা দরকার, তেমন দেশ বাঁচাতে দেশের শিল্প ও প্রতিষ্ঠানগুলোকেও সহযোগিতা করা দরকার।

বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার ইতোমধ্যে যেসব সহযোগিতার উদ্যোগ ও পরিকল্পনা নিয়েছে তা অবশ্যই প্রশংসনীয়। সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিরাও যেভাবে জনগণের পাশে এগিয়ে এসেছেন তা আমাদের সাধারণ মানুষের মনোবল আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে আক্ষেপের জায়গাও তৈরি হয়েছে অনেক। মানুষের পাশে সহযোগিতার হাত বাড়াতে কারোরই আন্তরিকতার কোন ঘাটতি নেই, ঘাটতি দেখা যাচ্ছে আমাদের ব্যবস্থাপনায়। সমন্বয়হীনতা আর অব্যবস্থাপনার জন্যই আমরা প্রতিনিয়ত আরো বেশি অনিশ্চয়তার দিকে এগোচ্ছি। পৃথিবীজুড়ে দুর্ভিক্ষ হোক বা না হোক আমরা ঠিকই দুর্ভিক্ষ ডেকে নিয়ে আসছি।

প্রতিনিয়ত চাল চুরির ঘটনা গরীবের সাথে কেবল তামাশাই নয়; বরং রীতিমত আমাদেরকে বিশ্ব দরবারে অভিশপ্ত এক জাতি হিসেবে চিহ্নিত করছে। শুধু চাল চুরি নয়; বরং ত্রাণ চাইতে গিয়ে যুবক হতে শুরু করে ৮০ বছরের বৃদ্ধও দায়িত্বশীলদের হাতে রক্তাক্ত হওয়া কিংবা ত্রাণ নেয়ার সময় ক্যামেরার সামনে ফেস দেখিয়ে ঠিকমত ছবি না তোলায় লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনাও এখন একটা নিত্য-নৈমিত্তিক সস্তা খবর হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব ঘটনায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী শেখ হাসিনাও নিশ্চয়ই বিব্রতবোধ করছেন।

মাদক, জুয়া ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা দিয়ে যে রাষ্ট্রনায়ক একটার পর একটা দৃষ্টান্তমূলক অভিযান চালিয়ে বিশ্ব খ্যাতি কুড়ানোর চেষ্টা করছিলেন, করোণা ভাইরাস এসে কী সেই সফলতার নৌকা ঘাটে ডুবিয়ে দিয়ে যাবে, নাকি বহু আগেই ডুবে গেছে তা! হলমার্ক কেলেংকারী হতে শুরু করে বালিশ, পর্দা, কলাগাছ ইত্যাদি কী কেলেংকারী নেই এ সরকারের! সর্বশেষ যোগ হলো চাল কেলেংকারী। তবে দেশের এই ক্রান্তিকালে আমরা সরকারের সমালোচনা না করে অন্যায়গুলোকে ভুল আখ্যা দিয়ে এভাবে বলতে পারি যে, যার কাজ বেশি তার ভুলটাও বেশি। সরকারের মেয়াদকাল যেহেতু বেশি সেহেতু আগাছা জন্মানোর সুযোগটাও তৈরি হয়েছে খুব বেশি। এখন সময় এসেছে চূড়ান্ত পরীক্ষার মাধ্যমে সকল কেলেংকারী হতে নিজেদেরকে মুক্ত করার। প্রত্যেক নাগরিকের অবশ্যই উচিত সরকারের মনোবল শক্ত করতে সব রকম সহযোগিতা ও উৎসাহ দেয়া, নচেৎ এ যুদ্ধে আমাদের পরাজয় নিশ্চিত। পক্ষান্তরে সরকারেরও উচিত এই সংকট মোকাবেলায় সকল পর্যায়ে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা এবং প্রত্যেক সেক্টরে তুলনামূলক অভিজ্ঞ ও যোগ্যদেরকে কাজ করার সুযোগ করে দেয়া।

আসন্ন মহা সংকট মোকাবেলায় জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার পাশাপাশি আরো দুটি বিষয় সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে লেখাটি শেষ করতে চাই। প্রথমেই শুরু করতে চাই ঘর ভাড়া, বিদ্যুত ও গ্যাস বিল নিয়ে। সরকার যদি সত্যিকারার্থে এই দুর্দিনে জনগণের পাশে দাঁড়াতে চায় তাহলে সরকারের উচিত সকল ঘর ভাড়া, বিদ্যুত বিল ও গ্যাস বিল মওকুফ করে দেয়া, অন্তত: যতদিন মানুষের কর্ম রোজগার চালু না হয় ততদিনের জন্য। যদিও বিগত কয়েকদিন ধরে এ বিষয়ে কোন কথা শোনা যাচ্ছেনা, তবে মাসের শুরুতে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর বরাত দিয়ে বিভিন্ন ভুল প্রচারণাও চালানো হয়েছে যে, তিনি ভাড়া মওকুফের ঘোষণা দিয়েছেন। এই গুজবটি যারা প্রচার করেছেন তারাও নিশ্চয় মধ্যবিত্ত ভদ্রলোকেরাই হবেন, নয়তো ঐ মটর চোরের মত। না পারছেন ভাড়া দিতে আবার না পারছেন বাড়িওয়ালাকে কিছু বলতে, তাই হয়তো প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য একটা গুজব রটিয়ে দিলেন।

যদিও ইতোমধ্যে কয়েকজন হৃদয়বান বাড়িওয়ালা নিজ উদ্যোগে ভাড়াটিয়াদের ভাড়া মওকুফ করে দিয়েছেন, কিন্তু সেই সামর্থ্য বা কয়জনের আছে। বাড়ির মালিক মানেই যে সবাই ভাড়া মওকুফ করে দেয়ার মত সামর্থ্য রাখেন তাও নয়; অনেকেই বাড়ী ভাড়ার ওপর নির্ভর করেন। এক্ষেত্রে সরকার চাইলে অবশ্যই পারে। যদি সরকার চায় যে, সকল পর্যায়ে সরকারের সহযোগিতা পৌঁছে যাক তাহলে সরকার অবশ্যই বিষয়টি নিয়ে ভাববে বলে আমার বিশ্বাস।

এক্ষেত্রে সরকার দুটো পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেন-
এক. প্রত্যেক বাড়িওয়ালার প্রতি নোটিশ জারি করবেন যে, কোন বাড়িওয়ালা কোন ভাড়াটিয়ার কাছ থেকে ভাড়া নিতে পারবেন না।
দুই. সরকারি হিসেবে উক্ত বাড়ির যে ভাড়া আছে সরকার তা সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে পরিশোধ করে দেবে।

এক্ষেত্রে দেখা যাবে, একটা বাড়ি থেকে সাধারণত সিটি কর্পোরেশনকে কম ভাড়া দেখানো হয়ে থাকে। সরকার এক্ষেত্রে বাড়িওয়ালাদেরকে সেই ভাড়াই দিবে যে হিসাব সিটি করপোরেশন বা পৌরসভায় নথিভুক্ত রয়েছে। সরকার চাইলে পুরো ভাড়া এক সাথে না দিয়ে অন্যভাবেও সমন্বয় করতে পারে।

এখন কথা হলো যে, দেশের সকল মানুষের তো আর ভাড়া দিতে অসুবিধা নাই। তাহলে এটা কীভাবে সমন্বয় হবে? এক্ষেত্রে দুই শ্রেণির মানুষ পাওয়া যাবে, প্রথমত: যারা সরকারি বা ভালো প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে, যাদের বেতন চালু রয়েছে, তাদের বেতন হতে ঘর ভাড়ার নির্ধারিত টাকা সরকার কেটে নেবে। দ্বিতীয়ত: যারা ভাড়া দিতে সামর্থ্যবান রয়েছেন এবং দিতে চান তারা সরকারি ফান্ডে সমপরিমাণ বা কম বেশি দান করবে, এ ব্যাপারে তাদের জন্যও উৎসাহমূলক ব্যবস্থা রাখতে হবে।

এবার আসি অন্য সহযোগিতা প্রসঙ্গে। ইতোমধ্যেই এটা পরীক্ষিত সত্য যে, সরকার যে বিশাল বাজেটের খাদ্য সামগ্রী জনগণের জন্য পাঠাচ্ছে তাতে দুই রকম সমস্য হচ্ছে। এক. দায়িত্বশীলরা হয় তা সমবন্টনে ব্যর্থ হচ্ছে বা চুরি করছে। দুই. গরীব মানুষের আস্থা নেই বলে ট্রাক থামিয়ে খাদ্য লুটে নিচ্ছে, ক্ষুধার্ত মানুষেরা রাস্তায় বিক্ষোভ করছে, নিম্ন-মধ্যবিত্তরা কিছুই পাচ্ছেনা বলে গোপনে চুরি ছিনতাই বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। এক্ষেত্রে যদি সরকারের শতভাগ আন্তরিকতা থাকে তাহলে সরকার খুব সহজেই জনগণের পাশে দাঁড়াতে পারে বলে আমি বিশ্বাস করি। যেহেতু আমাদেরকে আরো দীর্ঘমেয়াদে একটা সংকটের মোকাবেলা করতে হতে পারে, সেহেতু সরকারি ত্রাণ বা সহযোগিতা কয়েক দফায় বা দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজন হতে পারে। একটা সুন্দর ব্যবস্থাপনা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখলে এক্ষেত্রে সরকারের ফান্ডের ঘাটতি হবেনা বলে আশা করা যেতেই পারে।

সরকার প্রথমেই সিদ্ধান্ত নিবে যে, খাদ্য সামগ্রীর পরিবর্তে নগদ টাকা পৌঁছে দেবে জনগনের কাছে। ব্যক্তিগত দানের ক্ষেত্রেও আমি এখন থেকে চাল-ডাল বিতরণ না করে নগদ টাকা উপহার দিতে বেশি উদ্বুদ্ধ করছি সকলকে। কারণ এতে প্রথমত: বাইরে লোক সমাগম কমে যাবে, দ্বিতীয়ত দুর্নীতি কমে যাবে ও গ্রহীতার আত্মসম্মান রক্ষা পাবে। তবে সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে যেন নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রীর উৎপাদন, সরবরাহ ও বাজার দর ঠিক থাকে এবং কেউ যেন অবৈধ মজুদ করতে না পারে।

সরকার প্রত্যেক নাগরিককে দ্রুত বিশেষ মোবাইল ব্যাংকিংয়ের আওতায় এনে সফটওয়্যারের সাহায্যে নগদ টাকা ক্যাশ-ইন করে দেবে, যা করতে একটা ক্লিকই যথেষ্ট হবে। এতে যেমন ত্রাণ যানবাহন ও ব্যবস্থাপনা খরচও কমবে তেমন চাল চোরদেরকেও ঠেকানো যাবে।

সরকার ম্যাজিস্ট্রেটদের মাধ্যমে বিশেষ মনিটরিং সেল পরিচালনা করবে, তারা বাজার দর মনিটরিং করবেন এবং সরবরাহ নিশ্চিত করবেন। প্রয়োজনে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটগণকে বাড়িতে বসিয়ে না রেখে তাদেরকেও মোবাইল কোর্ট পরিচালনার ক্ষমতা দিয়ে কাজে লাগানো যেতে পারে।

প্রত্যেককে যদি বিশেষ সিস্টেমে একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে অটোমেটিক একটি করে মোবাইল ব্যাংকিং হিসাব খুলে দেয়া হয় এবং তাতে ক্যাশ-ইন করে দেয়া হয়, যা বিকাশ/ রকেট/নগদ বা যেকোন মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্ট বা বুথ হতে ক্যাশ আউট করা যাবে, তাহলে ব্যাপারটা অতি আধুনিক ও সহজ হবে মানুষের জন্য। আর এটা বাস্তবায়ন করার মত এই ডিজিটাল সরকারের নিশ্চয়ই যথেষ্ট আইটি বিশেষজ্ঞ রয়েছেন বলে আশা করতেই পারি। এছাড়া চাল চোরদের হাত থেকে সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষা করা কোনভাবেই সম্ভব নয়- বিষয়টি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অবশ্যই বুঝবেন বলে আশা করি।

এক্ষেত্রে সরকার যদি প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি ও সংস্থাগুলোর সাথে সমন্বয় করতে পারেন তাহলে ফান্ড নিয়েও আপাতত বেগ পেতে হবে না। ব্যবস্থাপনা ভালো হলে বিদেশী ডোনেশনও সহজে পাওয়া যাবে। সকল পর্যায়ে সরকারের বিশেষ অনুপ্রেরণা ও হিসাবের স্বচ্ছতা সৃষ্টি হলে ব্যক্তিগতভাবেও মানুষ সরকারি এই বিশেষ ফান্ড গঠনে এগিয়ে আসবে, প্রতিযোগিতা করে ডোনেট করবে। প্রয়োজনে দাতাদেরকে উদ্বুদ্ধ করতে সিআইপি-ভিআইপি, বীর, বীর উত্তম বা এরুপ কোন সম্মাননা পদ ঘোষণা করবে সরকার। ছোট ছোট সংগঠন বা প্রতিষ্ঠান কিংবা সমাজসেবকগণ প্রয়োজনে আনুষ্ঠানিকভাবে স্থানীয় প্রশাসনের নিকট এই ফান্ডে টাকা জমা দেবে। এমনকি সরকার চাইলে নাম পরিচয় গোপন রেখে ১:১ অনুপাতে দানের মাধ্যমে কালো টাকা সাদা করার সুযোগও দিতে পারে দেশ রক্ষার স্বার্থে।

আর যারা অফিস-আদালত বন্ধ থাকা সত্বেও নিয়মিত বেতন তুলতে পারছেন, তাদের বেতন হতে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা বাধ্যতামূলকভাকে এই ফান্ডে কেটে নিতে পারে। প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রী নিজে সকল এমপি, মন্ত্রী, মেয়রসহ বড় বড় দানবীর ব্যক্তি ও দেশের সাথে কথা বলবেন। এমপি’রা কথা বলবেন উপজেলা ও ইউনিয়ন চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় ধনী ও সমাজসেবকদের সাথে, তাদেরকে সাধ্যমত অংশগ্রহণের জন্য উৎসাহ দিবেন।

তবে এই ফান্ড কালেকশনের ব্যাপারেও শতভাগ স্বচ্ছতার প্রমাণ দিতে হবে সরকারকে। প্রয়োজনে করোনা আপডেটের মত ফান্ড আপডেটেরও একটি সফটওয়্যার ব্যবেহার করতে হবে, যাতে ফান্ড ডিপোজিট ও উইথড্র রিপোর্ট জনসাধারণই সাথে সাথে দেখতে পায়।

তবে দুর্ভিক্ষ মোকাবেলায় মূলত: খাদ্য সংকট অতিক্রম করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এজন্য খাদ্য উৎপাদনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে, কৃষি কাজে প্রত্যেককে উদ্বুদ্ধ করতে হবে এবং বিশেষ করে এখন থেকেই গবাদি পশুসহ হাস, মুরগি ও মাছ চাষীদের পাশে থাকতে হবে, যাতে তারা কোনরকম ক্ষতিগ্রস্থ বা নিরুৎসাহিত না হয়।

উৎপাদন না থাকলে একাউন্টে টাকার পাহাড় থাকলেও দেশের মানুষের ক্ষুধা মেটানো যাবেনা, তাই উৎপাদনের পাশাপাশি আমাদের সবাইকে পরিমিত খাদ্য গ্রহণ করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে এবং কোনভাবেই খাবার নষ্ট করা যাবেনা, নষ্ট হতে দেয়াও যাবেনা। সর্বোপরি সৃষ্টিকর্তার অনুগ্রহ ছাড়া এই মহামারী মোকাবেলা করার ক্ষমতা আমাদের নেই।

লেখক: সাংবাদিক ও সংগঠক।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ