আসুন আমরা সচেতন হই, দেশের জন্য পরিবারের জন্য

প্রকাশিতঃ ৪:০৬ অপরাহ্ণ, শনি, ৪ এপ্রিল ২০

সাদিয়া আফরোজ, শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়:

আজ পুরো দেশের মানুষ মহামারী এই করোনা ভাইরাস নিয়ে আতঙ্কে আছে। আমিও অনেক আতঙ্কে। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করি। হঠাৎ করেই শুনলাম করোনাভাইরাস বাংলাদেশে চলে এসেছে। এর জন্য পুরো দেশের সব স্কুল প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। আমি তখন ঢাকা থেকে আমার গ্রামের বাসায় চাঁপাইনবাবগঞ্জে চলে আসি। আমার মনের ভিতরে একটা ভয় কাজ করছিল, তেমনি অনেকটা আনন্দ ছিল আমার মন জুড়ে অনেকদিন পর গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছি। ঢাকা থেকে সোজাসুজি নানার বাড়িতে গিয়ে উঠলাম।

চারপাশে অনেককে দেখতে পাচ্ছি- নানা, নানী, মামা, মামী, ছোট ভাই বোন সবাই ছিলো। মনে হচ্ছিল এই দেখা হইত না যদি না করোনা ভাইরাস বাংলাদেশ আসতো!

খুব আনন্দ হচ্ছিল সবাইকে একসাথে দেখে। সাথে ভয়-আতঙ্কও ছিলো। ঢাকা থেকে এসেই কাউকে না ছুয়ে বাথরুমে গিয়ে আগে নিজে পরিস্কার হয়েছি।

এইদিকে আমার ছোট ভাই বোনেরা আমাকে পেয়ে বলে, “ঘুরতে যাবো, আপু।
আমি তাদের বড় বোন তাদের আবদার রাখা তো আমার কর্তব্য, তাই ঘুরতে বের হলাম।
বের হয়েই এক ফুটপাতের দোকানে চা খেলাম, ব্রিজের নিচে বসে ফুচকা খেলাম, ছোট ভাই বোনেরা অনেক খুশি তাই আমিও অনেক খুশি।

কিন্তু আমার মা, উনিতো আমার গ্রামের বাড়িতে তাই মন আর মানলো না, ভাইকে সাথে নিয়ে নিজের গ্রামের বাড়িতে হাজির হলাম।

কিন্তু রাত থেকেই আমার ছোট ভাইটার অনেক জ্বর হলো, ঠান্ডাও লেগে গেল। এই সময়টা অনেকের জ্বর হয়, কিন্তু জ্বর তো করোনার লক্ষণ এর মধ্যেই পড়ে তাই ভয় পেয়ে গেলাম আমি।

নামাজে গিয়ে অনেক কান্নাকাটি ও করলাম ছোট ভাইটার জন্য। হঠাৎ, রাতে তার অনেক জ্বর এলো আমি তো ভয়ে কাঁদতে লেগেছি। কারণ ভাইটা বেহুঁশ হয়ে পড়ে আছে। ৬ ঘন্টা পর পর জ্বর ছাড়ে আবার আসে।
যদিও করোনার চিন্তা ভুলেও মাথায় আনতে চাই না। তবুও আসে। কারণ করোনার লক্ষণ হচ্ছে জ্বর গলাব্যথা।

যত দিন যায় ভাইটা দুর্বল হয়ে পড়ে, কিছু খাচ্ছে না, এমনকি হাঁটতে গেলেও মাথা ঘুরে পড়ে যায়। তখন ঠিক করলাম, শহরের মধ্যে চলে আসি ভালো ডাক্তার দেখাতে হবে।

এদিকে হালকা গলা ব্যথা ছিল, এসবের মধ্যে নিজেকে বড্ড অসহায় লাগছিল।
আমরা সরাসরি নানার বাড়িতে গিয়ে হাজির হলাম। কিন্তু গিয়ে শুনলাম কোন ডাক্তার জ্বর ঠান্ডার রোগী দেখতে চাচ্ছে না।

হাসপাতালে নিয়ে গেলে তো আরো ভয়ের ব্যাপার, যদি করেনটাইনে রাখে।
মামার এক পরিচিত ডাক্তার ছিল তার কাছে গিয়ে হাজির হলাম।
আমরা আন্দাজ করলাম যে, হয়ত টাইফয়েড হয়েছে। তাই রক্ত পরীক্ষা করানো হলো ডাক্তার বলল টাইফয়েড, ডাক্তার ওষুধ দিল। তখন একটু স্বস্তি পেলাম যে, করোনা হয়নি।

এখন আমার ভাই সুস্থ আল্লাহর রহমতে। বর্তমানে যে অবস্থা, তাতে আমাদের সচেতন হওয়া ছাড়া আর কোন উপায় নেই।

একটু সচেতন হলেই আমরা এই মহামারী করোনা ভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে পারি। এখন সামান্য একটু জ্বর, ঠান্ডা, গলাব্যথা অনেক বড় একটি আতঙ্ক। তাই আমরা চেষ্টা করব যাতে আমরা এই ঠান্ডা জ্বর, গলাব্যথা কাশি থেকে রক্ষা পায় আর এই মহামারী ভাইরাস করোনা থেকেও।

আসুন আমরা নামাজ পড়ি আর আল্লাহর কাছে দোয়া করি আর সচেতন হয়। আপনার এ সচেতনতা পারবে আপনার পরিবারকে দেশের মানুষকে সুন্দর জীবন দান করতে।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ