ইটভাটার কালো ধোঁয়ায় বোরো ধানের ক্ষতি

প্রকাশিতঃ ৪:৫৬ অপরাহ্ণ, শনি, ২ মে ২০

মো. আরিফ শেখ, তারাগঞ্জ (রংপুর) : ইটভাটার নির্গত কালো ধোঁয়া ও বিষাক্ত গ্যাসে কৃষকদের প্রায় একশত একর জমির বোরো ধান ক্ষেত পুড়ে নষ্ট হয়ে গেছে। রংপুর জেলার তারাগঞ্জ উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের বাঙ্গালিপুর এলাকায় ঘটনাটি ঘটে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা ইটভাটার সামনে ক্ষতিপূরণের দাবিতে বিক্ষোভ ও মানব বন্ধন করেন। কৃষকরা এ বিষয়ে তারাগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কাছে উর্বরা কৃষি জমি ও ফসলের ক্ষতির কারণে ইটভাটা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।

উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের খিয়ারজুম্মা ও বাঙালীপুর এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে জান যায়, এ এলাকায় জমি নিচু হওয়ার কারণে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়। চলতি বোরো মৌসুমে আর মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে চাষীরা ধান কেটে ঘরে তোলার স্বপ্ন দেখছেন। কৃষকদের সেই স্বপ্ন ভেঙ্গে দিয়েছে এলবিএল নামের একটি ইটভাটার বিষাক্ত কালো ধোঁয়া ও গ্যাস।

আর ভাটার বিষাক্ত কালো ধোঁয়া ও গ্যাসে অর্ধশতাধিক কৃষকের প্রায় একশত একর জমির বোরো ধান ক্ষেত পুড়ে গেছে। ক্ষতিপূরণের দাবিতে আলমপুর ইউনিয়নের খিয়ারজুম্মা, দোয়ালীপাড়া, বাঙালীপুর গ্রামের ক্ষতিগ্রস্থ প্রায় অর্ধ শতাধিক কৃষক তারাগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসে অভিযােগ করেন।

দোয়ালি পাড়া গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম (৪২) বলেন, আমার ১৫ শতক জমির ধান পুড়ে গেছে ইটভাটার মালিক আমাকে ১৫শ টাকা ক্ষতিপূরণ দিয়েছেন।

একই এলাকার তৈয়ছোন বেওয়া (৪৭) বলেন, ধানের গাছ পোড়া গেছে এতে আমার যে ক্ষতি হয়েছে তার টাকা পয়সা কেউ দেয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ক্ষতিগ্রস্ত একাধিক কৃষক অভিযোগ করে বলেন, আমাদের মত অনেকে ক্ষতির ন্যায্য মূল্য পায়নি।

ইটভাটার মালিক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, আমার ইটভাটা এলাকায় আরও বেশ কয়েকটি ইটভাটা রয়েছে। কৃষকদের যদি ক্ষতি হয়ে থাকে তাহলে আমি অবশ্যই ক্ষতিপূরণ পর্যায়ক্রমে দেব। তবে অন্য ইটভাটার মালিকদের সাথেও বসা উচিত। তাহলেই ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের সমস্যা সমাধান করা সম্ভব হবে।

প্রসঙ্গত, ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০১৩ এর ৮ ধারায় বলা আছে কৃষি জমি ও আবাসিক এলাকায় সরকারি বা ব্যক্তিগত বন, অভয়ারণ্য, বাগান, জলাভূমিতে ইটভাটা স্থাপন করা যাবে না। আবার ৮ এর দুই ধারায় বলা আছে নিষিদ্ধ এলাকার সীমানার মধ্যে ইটভাটা স্থাপনের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তর বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষ অনুমতি বা ছাড়পত্র কিংবা লাইসেন্স প্রদান করতে পারবে না।

এরপরেও আইন অমান্য করে গড়ে উঠেছে তারাগঞ্জে ৪৮টিরও বেশী ইট ভাটা। এর মধ্যে ১৫টি ইটভাটার বৈধ কাগজ থাকলেও বাকি ইটভাটাগুলো চলছে অবৈধ কাগজ পত্রে আর ক্ষমতার দাপটে।

এ ছাড়াও বর্তমানে বেশ কিছু ইট ভাটা তাদের ইট তৈরি করছেন।

আলমপুর ইউপি চেয়ারম্যান মঞ্জর কাদের চৌধুরী বলেন, আমার ইউনিয়নের ইটভাটাগুলো দেখাশুনা করি। আবহাওয়া খারাপ থাকায় আমি খোঁজ নিতে পারিনি। আমার এলাকায় গরিব কৃষকদের প্রায় শত একর ধান পুড়ে গেছে। আমার কাছে তারা অভিযোগ করে ক্ষতিপূরণ চেয়েছেন।

উপজেলা কৃষি অফিসার অশোক কুমার রায় বলেন, ফসলি জমির পাশে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ইটভাটা অনুমোদন দেয়ার কোনো নিয়ম নেই। ভাটা মালিকরা ক্ষমতার বলে যত্রতত্র ভাটা স্থাপন করায় এমন সমস্যা দেখা দিচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আমিনুল ইসলাম বলেন, কৃষকের ক্ষতি হলে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সময় জার্নাল/

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ