ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে সফল উপাচার্য অধ্যাপক আসকারী

প্রকাশিতঃ ৫:০৪ অপরাহ্ণ, সোম, ২০ জুলাই ২০

সময় জার্নাল প্রতিবেদক : ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ১২তম উপাচার্য হিসেবে সফলতার সঙ্গে আগামী ২০ আগস্ট মেয়াদপূর্ণ করতে যাচ্ছেন অধ্যাপক ড. মো. হারুন-উর-রশিদ আসকারী। প্রতিষ্ঠার পর থেকে তার আগে উপাচার্যের পদে মেয়াদ পূর্ণ করতে পারেননি কোনো উপাচার্য। দীর্ঘ চার বছরে অধ্যাপক আসকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক, প্রশাসনিক, অবকাঠামোগত, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতায় নৈপুণ্য দেখিয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৮১ সালের ৩০ জানুয়ারি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম উপাচার্য নিযুক্ত হন। এরপর একে একে ১১ জন উপাচার্য দায়িত্ব পালন করেন। স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি, নিয়োগ বাণিজ্য ও বিভিন্ন অনিয়মের কারণে মেয়াদ পূরণ করার আগেই চেয়ার ছাড়তে হয়েছে তাদের। ১১ জনের মধ্যে চারজন উপাচার্যকে সরকার অপসারণ করেছে। বাকি ৭ জনকে  তীব্র আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করতে হয়েছে। সর্বশেষ ২০১৬ সালের ৩০ জুন বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে অধ্যাপক হাকিম সরকারকে উপাচার্য পদ থেকে অব্যাহতি দেয় সরকার। একই বছরের ২১ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২তম উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পান ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. হারুন-উর-রশিদ আসকারী।

উপাচার্য অধ্যাপক আসকারীর নেতৃত্বে বর্তমান প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- ১৬ বছর পর চতুর্থ সমাবর্তন অনুষ্ঠানের আয়োজন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিব নামে ম্যুরাল স্থাপন, বঙ্গবন্ধু চেয়ার প্রতিষ্ঠা এবং বঙ্গবন্ধু চেয়ার অধ্যাপক নিয়োগ, বঙ্গবন্ধু হলের সামনে ৭ই মার্চের ভাষণ উপলক্ষে মুক্তির আহ্বান ও শাশ্বত মুজিব নামের আলাদা দুটি ম্যুরাল স্থাপন, মুজিববর্ষের ক্ষণ গণনায় ডিজিটাল বোর্ড স্থাপন, প্রথমবার পূর্ণাঙ্গ গবেষণা নীতিমালা সংস্কার, কারিকুলামের উন্নয়নে ৫টি অনুষদ থেকে ৮টি অনুষদে রুপান্তর। ২৫টি বিভাগ থেকে ৩৪টি বিভাগে উপনীতকরণ, বর্ষভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা বন্ধ করে সেমিস্টার পদ্ধতি চালুকরণ এবং সেশন জট দূরীকরণ। এছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে এমওইউ স্বাক্ষর বিশ্ববিদ্যালটিকে করেছে আরও স্বনামধন্য। এমন অভূতপূর্ব উন্নয়নমূলক কাজের মধ্যদিয়ে দেশে নতুন করে ভিন্ন পরিচয়ে পরিচিতি লাভ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।

অধ্যাপক আসকারীর নেতৃত্বাধীন প্রশাসন সম্পর্কে ইবি ছাত্রলীগের সভাপতি রবিউল ইসলাম পলাশ বলেন, বর্তমান উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য যে অভাবনীয় উন্নতি করেছেন তার জন্য সাধারণ শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানাই।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার ড. নওয়াব আলী খাঁন বলেন, বর্তমান প্রশাসন যে স্বচ্ছতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে আশাকরি আগামীতে আরও সুন্দরভাবে এ বিশ্ববিদ্যালয়টি পরিচালিত হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. কাজী আক্তার হোসেন বলেন, কোনো বিষয়ে কেউ শতভাগ সফল হয় না। বর্তমান উপাচার্য অভূতপূর্ব সাফল্যে বিশ্ববিদ্যালয় ইতিবাচক অবস্থায় ঘুরে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান প্রশাসন দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে একদিনের জন্যও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শাপলা ফোরামের সভাপতি প্রফেসর ড. রেজওয়ানুল ইসলাম বলেন, বিগত ৪ বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার যে সুন্দর পরিবেশ বিরাজ করছে তা অবশ্যয় অব্যাহত থাকবে।

উপ-রেজিস্টার আলমগীর হোসেন খাঁন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে বর্তমান উপাচার্যকে সরকার যেন আবারও সুযোগ দেন সেই দাবি জানাচ্ছি।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হারুন-উর-রশিদ আসকারী সময় জার্নালকে বলেন, উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে গত চার বছরে আমি চেষ্টা করেছি মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আলোকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ এবং জননেত্রী শেখ হাসিনার শিক্ষা দর্শন বাস্তবায়ন করতে। এছাড়াও চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের ক্ষেত্রে যে চ্যালেঞ্জ রয়েছে সেগুলো মোকাবেলা করে বাংলাদেশের ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের সর্বোচ্চ ব্যবহারে যুগোপযোগী জন সম্পদ গড়ে তোলার। শুরু থেকেই প্রতিটি পরিকল্পনা সফলতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করে এসেছিলাম। কিন্তু শেষ মুহুর্তে এসে করোনা ভাইরাসের কারণে কিছু পরিকল্পনা অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পরিচালনার ক্ষেত্রে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিক সহযোগিতার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

প্রাকৃতিক রূপ বৈচিত্রে ভরপুর দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে শিক্ষার আতুড় ঘর হিসেবে খ্যাত এই বিশ্ববিদ্যালয়টির চলমান উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের ধারা অব্যাহত রাখতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হারুন-উর-রশিদের নেতৃত্বে বর্তমান প্রশাসনকে পুনর্বহাল চান শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ প্রশাসনিক কর্মকর্তারা।

আরও পড়ুন : একজন সফল উপাচার্যের গল্প

সময় জার্নাল/শাহ্ আলম

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।