ইসলামের আলোকে ধর্ষণ থেকে মুক্তির উপায়

প্রকাশিতঃ ২:০৩ অপরাহ্ণ, বুধ, ৭ অক্টোবর ২০

মাওঃ মোবারক বিন নুরুল আলম :

ধর্ম, জাতি ও দেশের মানুষের পরিচয় প্রকাশ পায় তাদের সভ্যতা ও সাংস্কৃতিক কালচারের উপর। যদিও মানুষ নিজের পরিচয় নিয়ে গর্ববোধ করে যে, সৃষ্টিকর্তা মানুষকে সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ বলে স্বীকৃতি দিয়েছেন।

কিন্তু মনে রাখা দরকার যে, একটি সন্তান মায়ের গর্বে থেকে ভুমিষ্ট হলেই শ্রেষ্ঠ হতে পারে না বরং তাকে বয়সের পরিক্রমায় শ্রেষ্ঠত্বের গুণ অর্জন করেই শ্রেষ্ঠ হতে হয়। তেমনি একজন মানুষ তার মনুষ্যত্বের জ্ঞান প্রয়োগ না করে মানুষ হতে পারে না।

বরং যারা মনুষ্যত্বের জ্ঞান ব্যবহার না করে জীবন পরিচালনা করে এদেরকে কুরআনের পরিভাষায় চতুষ্পদ জন্তু জানোয়ারের চেয়েও নিকৃষ্ট বলা হয়েছে। (আল কুরআন)

তাইতো দেখা যায় নিজের ব্যক্তিত্বকে চিহ্ন করে দিয়ে পশুত্বের আচরনে একে অন্যের উপর ঝাপিয়ে পড়ে এক শ্রেনীর নরপশুর দল।

# প্রিয় পাঠক আজ আমরা জানবো ধর্ষণ থেকে কিভাবে মুক্তি পাওয়া যায়?

আমরা জানি ইসলাম আবির্ভাবের পূর্বে জাহেলি যুগে নারীদেরকে পন্যের মতো ব্যবহার করা হতো এবং কন্যা সন্তানদেরকে জীবন্ত কবরস্থ করা হতো। কিন্তু যখনি ইসলাম ধর্মের আবির্ভাব হলো তখন থেকেই নারী জাতির সম্মান, মর্যাদা বাড়তে লাগলো। এমন কি রাসূল (সাঃ) নারী জাতির মর্যাদা দিতে গিয়ে বলেছেন, নারী তথা (মায়ের) পায়ের নিচে সন্তানের জান্নাত।

# ধর্ষণ প্রতিরোধে ধর্মীয় জ্ঞানের ব্যবহার #

সুস্থ, সুন্দর জীবন সাজাতে ধর্মীয় জ্ঞানের বিকল্প নেই, আল্লাহ তা’য়ালা বলেন পড় তোমার প্রভুর নামে যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন। (আল কুরআন)

আদম সন্তানের সম্মান, মর্যাদা বৃদ্ধি ও ইমান রক্ষার লক্ষ্যে আল্লাহ তা’য়ালা বলেন, হে নবী আপনি মু’মিন পুরুষ ও মু’মিন নারীদেরকে বলেদিন তারা যেন তাদের চক্ষুকে নিম্নগামী ও সংযত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানকে হেফাজত করে এটাই তাদের জন্য উত্তম পদ্ধতি। (আল কোরআন)

রাসূল (সাঃ) বলেছেন নজর হচ্ছে বিষাক্ত তীরের ন্যায়। তাই তাকে সংযত করা অতি জরুরী। কারণ চক্ষু লজ্জা ও ধর্মীয় ব্যবহার না থাকায় এক শ্রেনীর নরপশু শিশু, কিশোরী ও মায়ের বয়সী বৃদ্ধার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে নৈতিক চরিত্রকে ধ্বংস করে দিচ্ছে- যেমনটা আজকে আমাদের সমাজে দেখা যায়।

## ধর্মীয় শাসন #

বনি আদমকে আল্লাহ তা’য়ালা অত্যন্ত ভালোবেসে সৃষ্টি করেছেন এবং ভালো কাজের বিনিময়ে জান্নাতের সুসংবাদ ও দিয়েছেন। সাথে সাথে তাদের পার্থিব জীবনকে অলংকৃত করতে দিক নির্দেশনা স্বরুপ মহাগ্রন্থ আল কুরআন দিয়েছেন।

আর সেই কুরআনে বলা হয়েছে, ব্যভিচারী পুরুষ ও ব্যভিচারিনী নারীকে একশত করে বেত্রের আঘাত কর। (আল কুরআন)

তাহলে বুঝা যায় সুস্থ, সুন্দর সমাজ গঠনে কুরআনের আয়াতের শিক্ষার বিকল্প নেই। না হয় তনু, ইসরাতের মতে আরো অনেকে ধর্ষণে শিকার হতে পারে। মুক্তি পাবে না ছোট্ট সোনামনি ও বৃদ্ধা মায়েরাও। তাই আমাদের ভাবা উচিত আগামি প্রজন্মকে কোথায় ঠেলে দিচ্ছি।

সক্রেটিস বলেছিলেন, তুমি আমাকে একটি শিক্ষিত মা দাও আমি তোমাকে একটি শিক্ষিত জাতী উপহার দিব। আজকে সার্টিফিকেটধারী শিক্ষিত লোকের অভাব নেই। কিন্তু নৈতিক চরিত্রের অধিকারী শিক্ষিত লোকের বড়ই অভাব। তাইতো দেখা যায়- যারা মানুষ গড়ার কারিগর (শিক্ষক) তাদের কাছেও নারীরা নিরাপদে নেই। অবস্থা এমন হয়েছে যে, আমরা এখন সহায় দেশে অসহায় নাগরিক।

# ধর্ষণ থেকে বাচাঁর উপায়।

সৃষ্টির সেরা আদম সন্তানদেরকে আল্লাহ তা’য়ালা বলেন তোমরা ব্যভিচারের কাছে ও যেয়োনা। নিঃসন্দেহে এটি হচ্ছে একটি অশ্লীল কাজ এবং নিকৃষ্ট পথ। (আল কুরআন)

তাহলে বুঝা যায় যারাই এ অশ্লীল কাজে পা বাড়ায় তারা দুনিয়া ও আখিরাতে অপমানিত হবে।

রাসূল (সাঃ) বলেন তোমাদের মধ্যে যারা আমার কাছে তার দু’ চোয়ালর মধ্যস্থিত জায়গা (মুখ) এবং দু’পায়ের মধ্যস্থিত জায়গা তথা (লজ্জাস্থানের) জিম্মাদার হতে পারবে, আমি তার জন্য জান্নাতের জিম্মাদার হবো। (বুখারী)

# রবের সাথে বান্দার স্বীকৃতি #

সকল বনি আদম রুহের জগতে আল্লাহর সাথে ওয়াদাবদ্ব হয়েছে যে, আল্লাহর সকল বিধিবিধান ও নিয়ম কানুন মেনে চলবে। কিন্তু পৃথিবীতে আসার পর সময়ের পরিক্রমায় নফসের তাড়নায় মানুষ আল্লাহকে ভুলে গিয়ে শয়তানের পথ অনুসরন করে জীবনতরীকে সমুদ্রে ভাসিয়ে দিচ্ছে। প্রবাদ আছে Carecter is lost everything is lost । অর্থাৎ যার চরিত্র নষ্ট হয়ে গেছে, তার সব ধ্বংস হয়ে গেছে।

তাইতো আল্লাহ তায়ালা বলেন, হে ঈমানদারগন তোমরা নিজে বাচোঁ ও পরিবারের সকলকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাচাঁও। (আল কুরআন)

সুতারাং একজন সচেতন মানুষের ভূমিকা হবে সে রাষ্ট্রের আইনের অপেক্ষা না করে সন্তানদেরকে নৈতিক চরিত্রের শিক্ষা দিয়ে সম্পদে পরিনত করবে। তাহলেই আগামি প্রজন্ম অন্ধকারের ভিতরে ও আলোর সন্ধান পাবে।

কবির ভাষায়,
চল চল চল
উর্ধ্ব গগনে বাজে মাদল
নিম্ন উতলা ধরনি তল
অরুন প্রাতের তরুন দল
চলরে চলরে চল।

রাসূল ( সাঃ) বিদায় হজ্জের ভাষনে উম্মতের জন্য একটি কথা বলেছিলেন যে, আমি তোমাদের মাঝে দুইটি কিতাব (কুরআন ও হাদিস) রেখে যাচ্ছি। যতদিন তোমরা এই দুইটি কিতাবের শিক্ষাকে গ্রহন করে আমল করবা- ততদিন তোমরা ক্ষতিগ্রস্ত হবা না। (আল হাদিস)

সুতরাং ধর্ষন থেকে মুক্তি পেতে চাইলে তরুণ-তরুণী, আবাল বৃদ্ধা বনিতা সকলকে কুরআন ও হাদিসের শিক্ষা নিয়ে মাথা উচুঁ করে দাড়াতে হবে। মনে রাখতে হবে- পরিবার, সমাজ ও দেশ আমার এটাকে রক্ষা করার দায়িত্ব ও আমার তাই নিজে ভালো হই অন্যকে ভালো হতে উৎসাহিত করি।

মাওঃ মোবারক বিন নুরুল আলম
খতিব
বাইতুল মাতিন জামে মসজিদ
ঢাকা।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।