উত্তর প্রদেশে ফের গুলি : নিহত ৬, বিক্ষোভে উত্তাল দিল্লি

প্রকাশিতঃ ৯:১০ পূর্বাহ্ণ, শনি, ২১ ডিসেম্বর ১৯

বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে শুক্রবারও বিক্ষোভে উত্তাল ছিল ভারতের উত্তর প্রদেশ। ১৪৪ ধারা অমান্য করে মিছিল-সমাবেশ হয়েছে। এদিন ফের পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন ৬ জন। বৃহস্পতিবার একইভাবে এ রাজ্যের লখনৌতে একজন নিহত হন। এ নিয়ে উত্তর প্রদেশে মোট প্রাণ হারালেন সাতজন।

তবে রাজ্য পুলিশের প্রধান ওমপ্রকাশ সিং দাবি করেছেন, পুলিশের গুলিতে কেউ মারা যাননি। তিনি বলেন, ‘আমরা একটি গুলিও চালাইনি। যদি গুলির কোনো ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে সেটা বিক্ষোভকারীদের পক্ষ থেকেই ঘটেছে।’

পুলিশের তথ্যানুযায়ী, শুক্রবার বিজনর এলাকায় দু’জন এবং সামভাল, ফিরোজাবাদ, মিরুত ও কানপুরে একজন করে নিহত হয়েছেন। গুলিবিদ্ধ দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এদিন জুমার নামাজের পর রাজ্যের ১৩ জেলায় বিক্ষোভ শুরু হয়। দিল্লির জামা মসজিদের কাছেও বিক্ষোভ করে মানুষ। এখানে বিক্ষোভ যেন জনস্রোতে রূপ নেয়। পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে দলিতদের সংগঠন ভীম আর্মির প্রধান চন্দ্রশেখর আজাদ ওই মসজিদ এলাকায় বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেন। বিক্ষোভ ঘিরে এলাকায় চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশের হাতে একবার আটক হলেও নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে আবারও মিছিলে যোগ দেন চন্দ্রশেখর। এ আন্দোলনের পর সন্ধ্যায় আবারও রাস্তায় নামেন বিক্ষুব্ধ লোকজন। পরে তারা রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা গাড়িতে ভাংচুর চালান ও আগুন দেন। এদিন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বাড়ির বাইরে নাগরিকত্ব আইনের বিরোধিতায় প্রতিবাদ জানান সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির মেয়ে শর্মিষ্ঠা মুখার্জিও। তাকে আটক করেছে পুলিশ। এ ছাড়া টানা আন্দোলনের মধ্যে শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গজুড়ে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। খবর এনডিটিভি, হিন্দুস্তান টাইমস ও আনন্দবাজারের।

শুক্রবার সকাল থেকেই উত্তর প্রদেশের বুলন্দশহর, গোরক্ষপুরসহ একাধিক জায়গায় রাস্তায় নামেন বিক্ষোভকারীরা। সেই সঙ্গে ব্যাপক ভাংচুর চলে। আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় একাধিক গাড়িতে। পরিস্থিতি সামাল দিতে গেলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে বিক্ষোভকারীদের। বুলন্দশহরের জেলা শাসক রবীন্দ্র কুমার বলেন, মোবাইল ও ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত তা চালু হবে না।

উত্তর প্রদেশের অতিরিক্ত মুখ্য সচিব অশ্বিনী কুমার শুক্রবার ছয়জনের মৃত্যুর বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তবে পুলিশের গুলিতেই তাদের মৃত্যু হয়েছে কি-না, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কিছু জানাননি।

নাগরিকত্ববিরোধী আন্দোলন ঘিরে বৃহস্পতিবারই রক্তাক্ত হয়েছিল লখনৌয়ের রাজপথ। ওইদিন রাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছিল এক ব্যক্তির।

বিক্ষোভকারীদের দাবি, বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশ গুলি চালিয়েছিল। তাতেই গুরুতর আহত হয়েছিলেন ওই ব্যক্তি। রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। বৃহস্পতিবার কর্ণাটক থেকেও পুলিশের গুলিতে দু’জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়।

সহিংসতার আভাস পেয়ে বুধবার রাত থেকেই সারা উত্তর প্রদেশে ১৪৪ ধারা জারি করেছিল প্রশাসন। চারজনের বেশি লোকের জমায়েতের ওপর জারি করা হয়েছিল নিষেধাজ্ঞা। সংবেদনশীল এলাকা হওয়ায় সকাল থেকে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন ছিল। সেই নির্দেশ উপেক্ষা করেই এদিন লখনৌতে মিছিল করে সমাজবাদী পার্টিসহ একাধিক সংগঠন। কারফিউ উপেক্ষা করেই বিক্ষোভে যোগ দেয় মানুষ। মিছিল আটকানোর চেষ্টা করা হলে পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে।

এদিকে নাগরিক আইনের প্রতিবাদে আগামী সোমবার থেকে রাজ্যজুড়ে মিছিলের ডাক দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার তিনি এ ঘোষণা দেন। নরেন্দ্র মোদির সরকারকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, পেশিশক্তি না দেখিয়ে গণতন্ত্রের কাছে মাথা নত করতে হয়।

‘বিহারে এনআরসি হতে দেব না’: ‘কিসের এনআরসি’- এভাবেই সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে প্রতিক্রিয়া জানালেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার। শুক্রবার তিনি বলেন, বিহারে তিনি এনআরসি হতে দেবেন না। নিঃসন্দেহে তার এই ইঙ্গিতে বিজেপির অস্বস্তি আরও বাড়ল। দেশজুড়ে নতুন নাগরিকত্ব আইন ও প্রস্তাবিত এনআরসির প্রতিবাদ-বিক্ষোভে নতুন মাত্রা যোগ করল নীতিশ কুমারের এই মন্তব্য।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ