একটি গল্প আর একটি আহ্বান!

প্রকাশিতঃ ৬:৩২ অপরাহ্ণ, রবি, ১২ এপ্রিল ২০

ড. আব্দুল্লাহ্ আল মিজান

একদা কোনো এক গ্রামে একদল ইঁদুর খুব আরামে বসবাস করত। হঠাৎ একটা বিড়াল এল ওই গ্রামে। বিড়ালের আক্রমণে একে একে ইঁদুরগুলো প্রাণ হারাতে লাগল। বিড়ালের ভয়ে তারা নির্ভয়ে গর্তের বাইরে দিনে কিংবা রাতে বিচরণও করতে পারত না। এ জন্য বিপদাপন্ন ইঁদুর নিজেদের প্রাণ বাঁচানোর জন্য আলোচনা সভায় বসল।

এদের সবার শত্রু এক—একটি বিড়াল। নানা তর্ক-বিতর্ক শেষে ইঁদুরগুলো কিছু একটা করতে চাইল। ইঁদুরগুলো বুঝতে পারল, বিড়ালটি ওদের কাছাকাছি আসার আগেই ওর গতিবিধি ওদের বোঝা দরকার।

সবাই সিদ্ধান্ত নিল, একটি পিতলের ঘণ্টা বানিয়ে বিড়ালের গলায় ঝুলিয়ে দেবে, যাতে বিড়াল আশপাশে থাকলে টুং টুং শব্দ হয়, আর এতে ইঁদুরগুলো সতর্ক হয়ে গর্তে ঢুকে যেতে পারবে। এই মহান গুরু দায়িত্ব নিল ইঁদুরের দলের একজন প্রতিনিধি। সব ইঁদুর টাকা তুলে প্রতিনিধি ইঁদুরের হাতে দিল, যাতে বাজার থেকে একটা ঘণ্টা কিনে বিড়ালের গলায় পরিয়ে দেয়।

প্রতিনিধি ইঁদুরটি নিজের হাতে টাকা আসার পর ভাবল, এত টাকা দিয়ে ঘণ্টা কিনে কী লাভ? এই টাকা দিয়ে অনেক খাবার কিনে আমি গর্তে লুকিয়ে থাকব, ফলে বিড়াল আমাকে আর খুঁজেই পাবে না।

এদিকে দলের সব ইঁদুর ঘণ্টা কেনার টাকা দিয়ে নির্ভয়ে চলাচল করতে লাগল, আর একে একে বিড়ালের হাতে মারা পড়তে লাগল। সবশেষে বিড়াল যখন খাওয়ারের জন্য কোনো ইঁদুর খুঁজে পেল না, তখন ওই প্রতিনিধি ইঁদুরের গর্তে হানা দিয়ে তাকেও মেরে ফেলল।

ইঁদুরের একটি বড় দলের পরিণতি হলো সবার মৃত্যু, যার পেছনে ছিল একটি মাত্র ইঁদুর প্রতিনিধির ব্যক্তিস্বার্থের প্রবল লোভ। যে লোভ তাকেসহ গোটা দলটাকে খুন করেছে।

গত ১০-১১ দিনে অন্তত হাজারো বস্তা সরকারি ত্রাণের চাল চুরির অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রতিটি চাল চুরির পেছনে স্থানীয় জনপ্রতিনিধির নাম এসেছে। আমাদের মন–মানসিকতা, নীতি–নৈতিকতা কতটা নিচে নামলে আমরা অভাবী, অনাহারী, অসহায় মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত চালও চুরি করতে পারি!

স্বাধীনতার এত বছর পরও বাংলাদেশের সমাজব্যবস্থায় জনপ্রতিনিধিদের এমন আচরণ শোভা পায় না। উন্নয়ন উন্নয়ন বলে চিৎকার করা আমাদের কখনোই প্রকৃত উন্নয়ন হবে না। উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন নৈতিক ও ইসলামের সুমহান শিক্ষা। সময় এসেছে দেশের সকল প্রতিনিধিদের দায়িত্ব দেয়ার আগে ইসলামি অনুশাসন ও নৈতিকতার উপর স্পেশাল ট্রেনি, বাস্তবায়ন ও অমান্যকারীদের জন্য দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিধান রেখে মনিটরিং –এর ব্যবস্থা করা।

লেখক: গবেষক ও প্রবন্ধকার।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ