এক জোটে ছাত্র সংগঠন গুলো শাস্তির দাবি জানিয়েছে

প্রকাশিতঃ ৯:৫৬ পূর্বাহ্ণ, মঙ্গল, ৮ অক্টোবর ১৯

নিউজ ডেস্ক: নীল কন্ঠ বানিয়ে পশুর মত আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে হলের সিড়ির নিচে রেখে যায়। মায়ের আহাজারি, বাবার অবলা আকুতি সকল শিক্ষার্থীদের হৃদয় নাড়িয়েছে। আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া ও এ হত্যার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তির দাবি করেছে তারা এক জোটে সারা বাংলাদেশের ছাত্র সংগঠন গুলো।

ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আবরার হত্যায় ছাত্রলীগ জড়িত রয়েছে এমন কথা তারা শুনেছেন। এটি যদি প্রমাণ হয়, তাহলে কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেয়া হবে না।

শুরু থেকে গুঞ্জন উঠে আবরার ছাত্রশিবিরের সাথে জড়িত। যোগাযোগ করা হলে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি দাবি করেন- আবরার শিবিরের কেউ নয়। কোনো পর্যায়ের কর্মী নয়। কিংবা তাদের দায়িত্বশীল কিংবা জনশক্তিও নয়। তবুও তারা আবরার হত্যার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষে থাকার কথা জানান।

ছাত্র ইউনিয়নের পক্ষ থেকে এরই মধ্যে কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। আগামীকাল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিমুখে অভিযাত্রা এবং সারা দেশে বিক্ষোভ পালন করা হবে এবং আবরার হত্যায় জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা মাঠে থাকবেন।

অন্যদিকে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে বলা হয়, আবরার মূলত সেবাদাসের বিরোধিতা করার কারণে খুন হয়েছে। আর এই খুনের সঙ্গে ছাত্রলীগ জড়িত। আবরার হত্যাকারীদের কঠিন শাস্তি নিশ্চিতে কেন্দ্র থেকে কর্মসূচি দেয়া হবে।

ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল নাহিয়ান জয় বলেন, আবরার নামের যে শিক্ষার্থী মারা গেছে, এটি কোনোভাবেই কাম্য নয়। আমরা ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এর সাথে ছাত্রলীগের কেউ জড়িত আছে কিনা আমরা এখনো নিশ্চিত নই। এ নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে আমরা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছি।

এরপরও ঘোষণা দিতে চাই, ছাত্রলীগের যদি কেউ জড়িত থাকে, বিন্দুমাত্র ছাড় দেয়া হবে না। তাদের বিরুদ্ধে কঠিন ব্যবস্থা নেয়া হবে। দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও শাস্তি নিশ্চিত করতে ছাত্রলীগ প্রশাসনের পক্ষে থাকবে এবং সহযোগিতা করবে বলেও জানান তিনি।

ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মেহেদী হাসান বলেন, আবরারের হত্যাকারীদের শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথে থাকবো। গতকাল সকালে আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ করেছি।

এছাড়াও আবরারের হত্যাকারীদের শাস্তি নিশ্চিতের দাবি নিয়ে ছাত্র ইউনিয়ন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে রয়েছে আগামী ৯ তারিখ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিমুখে অভিযাত্রা এবং সারা দেশে বিক্ষোভ পালন করা হবে। তিনি আরও বলেন, আবরার হত্যা ছাত্রলীগের সন্ত্রাসের একটি অংশ।

ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ড. মোবারক হোসাইন বলেন, আবরার আমাদের কেউ নয়। আমাদের কোনো পর্যায়ের কর্মী নয়। কিংবা আমাদের দায়িত্বশীল কিংবা জনশক্তিও নয়।

একটা সাধারণ ছাত্রের ওপর যে হামলা হয়েছে ছাত্রশিবির তার তীব্র নিন্দা ও ঘৃণা জানাচ্ছে। আবরার মূলত দেশপ্রেমের পক্ষে দেশের সার্বভৌমত্বের পক্ষে কথা বলে ছাত্রলীগের হাতে নির্যাতনের শিকার হয়ে খুন হয়েছে। ইসলামী ছাত্রশিবির বিশ্বাস করে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রশাসন সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে এবং আবরার হত্যায় যারা জড়িত তাদের কঠিন শাস্তি দাবি করি।

ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল বলেন, প্রতিবেশীর সাথে সুসম্পর্ক রাখতে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সবসময় চায়। কিন্তু সেবাদাস হয়ে নয়। আমরা দেখতে পাচ্ছি একটি ছাত্রসংগঠন ভারতের সেবাদাস হয়ে কাজ করছে। তারা সেবাদাসে পরিণত হয়েছে। দেশবিরোধী সব চুক্তির সাথেই তাদের মতের মিল দেখা যাচ্ছে। তারই অংশ হিসেবে গতকাল গভীর রাতে বুয়েটের এক মেধাবী শিক্ষার্থীকে হত্যা পর্যন্ত করেছে। আমরা বলতে চাই, আবরার নামের যে ছেলেটিকে হত্যা করা হয়েছে সে কোনো ছাত্র রাজনীতি করতো না।

সাধারণ ছাত্র হিসেবেই আমরা জেনেছি। দেশপ্রেম থেকেই আবরার সেবাদাসের বিরোধী হয়ে খুন হয়েছে। ছাত্রদল এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ জানাচ্ছে। গতকাল এ নিয়ে বিক্ষোভ করেছে। এ নিয়ে ছাত্রদল রাজধানীসহ দেশব্যাপী কর্মসূচি দেয়ারও ঘোষণা দেয় এবং আবরার হত্যাকারীদের শাস্তি নিশ্চিত হওয়া পর্যন্ত মাঠে থাকার কথাও জানায়।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ