এবার উখিয়ায় চালু হলো বিনামূল্যে ‘সেনা বাজার’

প্রকাশিতঃ ৭:১০ অপরাহ্ণ, শনি, ৬ জুন ২০

গোলাম আজম খান : কক্সবাজার শহরের দুই দফার পর এবার উখিয়ায় ব্যতিক্রমধর্মী বিনামূল্যে ‘সেনা বাজার’ চালু করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

শনিবার (৬ জুন) ১০ পদাতিক ডিভিশন কক্সবাজারের উখিয়া ডিগ্রী কলেজ মাঠে বিনামূল্যের এই বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী (চাল, আটা, তৈল, লবন, ডাল এবং বিভিন্ন ধরনের তাজা সবজি) ৫শ’ হতদরিদ্র পরিবারে বিতরণ করা হয়।

প্রান্তিক আয়ের মানুষদের জীবনযাত্রাকে সহজ করার লক্ষ্যে নিজেদের রেশন বাঁচিয়ে মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছাতে ভিন্নধর্মী আয়োজন করে আসছে সেনা সদস্যরা।

প্রত্যন্ত এলাকায় প্রান্তিক কৃষকদের নিকট হতে উপযুক্ত মূল্যে সবজি ক্রয় করে বাজারে নিয়ে আসা হয়। প্রতিবারের ন্যায় এবারো দুস্থ্য ও অসহায় ৫শ’ পরিবার বিনামূল্যে এ বাজার হতে সুবিধা গ্রহণ করেন। ৬৫ পদাতিক ব্রিগেডের তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এই বাজার কার্যক্রম পরিদর্শন করেন ৬৫ ব্রিগেড এর ব্রিগেড কমান্ডার, রামু সেনানিবাসের ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তাবৃন্দ ও জেলা প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।

প্রধানমন্ত্রীর সার্বিক দিকনির্দেশনা ও সেনাবাহিনী প্রধানের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে দেশজুড়ে করোনা ভাইরাসের প্রভাব ও সাম্প্রতিক ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রকোপে ক্ষতিগ্রস্ত, অসহায় ও কর্মহীন হয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর সেবায় দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী শুরু থেকেই নিজেদের সম্পূর্ণরূপে নিয়োজিত করে মাঠ পর্যায়ের যোদ্ধা হিসাবে সম্মুখ সমরে নিয়োজিত রয়েছে। দেশের ক্রান্তিলগ্নে এই মহা দুর্যোগের সময় তারা নিজেদের ছুটি ও ঈদের আনন্দকে উহ্য করে পরিবারের প্রিয় মানুষদের কাছে না যেয়ে অম্লান মুখে বারবার ছুটে চলেছেন আর্তপীড়িত ও অসহায় মানুষদের দোরগোড়ায়।

সরেজমিনে দেখা যায়, সেনা বাজারের প্রবেশ পথে সেনাসদস্যদের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিল জীবাণুনাশক বুথ ও হাত ধোয়ার ব্যবস্থা। সারি সারি টেবিলে পরিপাটি করে সাজিয়ে রাখা ছিল বিভিন্ন ধরনের দরকারি ত্রাণ সামগ্রী। অসহায় ব্যক্তিরা জীবানুনাশক টানেলের মধ্যে দিয়ে জীবাণুমুক্ত হয়ে নির্ধারিত সময়ে বাজারে উপস্থিত হয়ে টোকেন দেখিয়ে কোন প্রকার জটিলতা ছাড়াই স্বল্প সময়ের মধ্যে তাদের প্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী ব্যাগে ভরে বাসায় নিয়ে যান। এ সময় হত দরিদ্র মানুষদেরকে এই দুঃসময়ে বিশেষ মানবিক সহায়তা পেয়ে আনন্দে উচ্ছসিত হতে দেখা যায়। এ ধরনের মানবিক সহায়তার জন্য তারা সেনাবাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তারা।

বাজার করতে আসা ফলিয়া পাড়ার কুলছুম আক্তার বলেন, করোনার কারণে সব ধরনের কাজ বন্ধ থাকায় আমরা অত্যন্ত কষ্টের মাঝে আছি। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে চাল, আটা, লবণ, তৈল, আলু, বরবটি, কচুর লতি, কাঁচামরিচসহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পেয়ে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। সেনাবাহিনীর এ ধরনের কার্যক্রম অবশ্যই প্রশংসার দাবি রাখে।

রামু সেনানিবাসের মিডিয়া সমন্বয়ক ও মুখপাত্র মেজর তানজিল এর বরাতে জানা যায়, ‘আপনাদের সুস্থ্যতাই আমাদের কাম্য’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন এলাকায় করোনা উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অসহায় ও দুস্থ মানুষদের জীবনযাত্রাকে সহজ করার লক্ষ্যে সেনাবাহিনীর গৃহীত নানাবিধ কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতায় কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার পূর্ব পাহাড়, লম্বার ঘোনা, শৈলের ডোবা, ফলিয়া পাড়া, রাজা পালং, গুচ্চগ্রাম থেকে সেনাবাহিনী কর্তৃক হত দরিদ্র মানুষদের তালিকা তৈরী করে বিশেষ টোকেন প্রদান করা হয়।

সময় জার্নাল/

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।