এবার ভারতে আঘাত হানলো ঘূর্ণিঝড় ‘বায়ু’

প্রকাশিতঃ ১০:৪৬ পূর্বাহ্ণ, বৃহঃ, ১৩ জুন ১৯

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : সুপার সাইক্লোন ‘ফণী’র আঘাতের পর আজ আবারো গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড় ‘বায়ু’ উপকূলে আঘাত হানতে শুরু করেছে।

ভারতের পশ্চিমাঞ্চলের রাজ্য গুজরাটের উপকূলীয় এলাকা মাধবপুর, সোমনাথ, কোদিনাথ, মাঙ্গরোল ও খোদাদায় আঘাত হানতে শুরু করে। এ সময় ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রে বাতাসের একটানা গতিবেগ ছিল ১৮৬ থেকে ১৯৫ কিলোমিটার।

এদিকে ভারতের আবহাওয়া বিভাগের জানাচ্ছে, ভোরনাগাদ স্থালভাগে আঘাত হানলেও ঘূর্ণিঝড়টি উপকূল অতিক্রম না করার সম্ভাবনা রয়েছে।

আন্তর্জাতিক বেসরকারি ঘূর্ণিঝড় পর্যবেক্ষণ সংস্থা উইন্ডি জানাচ্ছে, ঘূর্ণিঝড় বায়ু সারাদিন গুজরাটের উপকূলের কাছাকাছি অবস্থান করার পর সেটি ক্রমে দুর্বল হয়ে ফের সাগরেই নিঃশেষ হবে।

এদিকে ঘূর্ণিঝড় ‘বায়ু’র প্রভাবে গতকাল দুপুর থেকে গুজরাটে ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে তুমুল বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। আবহাওয়াবিদরা বলছেন এই বৃষ্টিপাতের পরিমাণ আরো বাড়তে পারে।

বাংলাদেশে প্রভাব:

এদিকে বাংলাদেশের আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, এই ঘূর্ণিঝড় ’বায়ু’ নিয়ে বাংলাদেশের মানুষের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।

দেশে এই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব পড়বে না বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। তবে বায়ুর দূরবর্তী প্রভাবে আগামীকাল শুক্রবার কিংবা তার পরের দিন বৃষ্টি হতে পারে বাংলাদেশে।

আবহাওয়াবিদ শাহিনুল ইসলাম জানান, বায়ু নিয়ে আমাদের কোনো শঙ্কা বা আশঙ্কা নেই। বর্তমানে টেকনাফ দিয়ে যে মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেছে তা ক্রমশ সারাদেশে বিস্তার লাভ করছে।

লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত অবস্থান করছে। দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু চট্টগ্রাম উপকূল পর্যন্ত অগ্রসর হয়েছে। এর প্রভাবে বৃষ্টি হতে পারে। তবে বর্তমানে লঘুচাপের প্রভাবে তাপমাত্রা বাড়ছে।

রাজশাহী, খুলনা, মংলা, সাতক্ষীরা, যশোর ও সিলেট অঞ্চলে যে মৃদু তাপ প্রবাহ বয়ে যাচ্ছে তা আজ বৃহস্পতিবারও অব্যাহত থাকতে পারে।

আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ জানান, আষাঢ়ের টানা বর্ষণ শুরু হওয়ার আগে গরম কমার সম্ভাবনা কম। ‘বায়ু’বাংলাদেশে প্রভাব ফেলবে না। আকাশ শুষ্ক থাকবে।

গুজরাটের সিনিয়র রাজ্য কর্মকর্তা জেএন সিং টাইমস অব ইন্ডিয়াকে জানিয়েছেন, উপকূলবর্তী দশটি জেলার প্রায় তিন লাখ মানুষকে আশ্রয় কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া কচ্ছ থেকে দক্ষিণ গুজরাট পর্যন্ত রেড অ্যালার্ট জারি করেছে কেন্দ্র ও গুজরাট রাজ্য সরকার। এদিকে, ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম জানায়,‘বায়ু’র প্রলয়ের মুখে পড়েছে ১০টি চীনা জাহাজ।

তবে ভারতীয় সরকার ঝড় থামা পর্যন্ত তাদেরকে রতনাগিরি পোতাশ্রয়ে অবস্থান করার অনুমতি দিয়েছে। ‘বায়ু’র পর এই অঞ্চলে পরবর্তী ঘূর্ণিঝড়ের নাম রাখা হয়েছে ‘হাইকা’।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ