করোনাভাইরাসের মিছিলে নতুন মৃতের সংখ্যা ১০৮

প্রকাশিতঃ ১০:৫৬ পূর্বাহ্ণ, বৃহঃ, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: নতুন করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্রভূমি চীনের হুবেই প্রদেশে এক দিনে নতুন রোগীর সংখ্যা অনেকটা কমে এলেও মৃত্যুর মিছিল থামেনি।

বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত এ ভাইরাসের সংক্রমণে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১২৮ জনে, যাদের মধ্যে ১০ জন ছাড়া বাকি সবার মৃত্যু ঘটেছে চীনে।

রয়টার্স জানিয়েছে, জাপানের উপকূলে নোঙ্গর করে থাকা প্রমোদতরী ডায়মন্ড প্রিন্সেসের আক্রান্ত যাত্রীদের মধ্যে অশিতীপর এক নারী ও এক পুরুষের মৃত্যুর খবর জানিয়েছে এনএইচকে টেলিভিশন।

আগের দিন ইরানে মৃত্যু হয় আরও দুইজনের, যাদের নমুনা পরীক্ষায় করোনাভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছিল বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দেশটির মূল ভূখণ্ডে ৩৯৪ জনের শরীরে নতুন করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। আগের দিন এই সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৭৪৯ জন।

রয়টার্স লিখেছে, ২৫ জানুয়ারির পর বৃহস্পতিবারই সবচেয়ে কম নতুন রোগী নতুন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

সব মিলিয়ে চীনে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৪ হাজার ৫৭৬ জনে। আর অন্তত ২৮টি দেশ ও অঞ্চলে এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় বিশ্বে আক্রান্তের সংখ্যা ৭৫ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।

সোমবার চীনে মোট ১১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে নতুন এ করোনাভাইরাসে, এর মধ্যে হুবেই প্রদেশেই মারা গেছেন ১০৮ জন। তাতে চীনের মূল ভূখণ্ডে নতুন করোনাভাইরাসে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ২১১৮ জনে।

চীনের মূল ভূখণ্ডের বাইরে এ পর্যন্ত দশজনের মৃত্যু হয়েছে এ ভাইরাসে। তাদের মধ্যে জাপানে তিনজন, হংকং ও ইরানে দুজন করে এবং ফিলিপিন্স, ফ্রান্স ও তাইওয়ানে একজন করে আক্রান্তের মৃত্যু হয়েছে।

মধ্য চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ শনাক্ত করা হয়। নিউমোনিয়ার মত লক্ষণ নিয়ে নতুন এ রোগ ছড়াতে দেখে চীনা কর্তৃপক্ষ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে সতর্ক করে। এরপর ১১ জানুয়ারি প্রথম একজনের মৃত্যু হয়।

ঠিক কীভাবে করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরু হয়েছিল- সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত নন বিশেষজ্ঞরা। তবে ধারণা করা হচ্ছে, উহানের একটি সি ফুড মার্কেটে কোনো প্রাণী থেকে এ ভাইরাস প্রথম মানুষের দেহে আসে। তারপর মানুষ থেকে ছড়াতে থাকে মানুষে।

সার্স ও মার্স পরিবারের সদস্য নতুন এ করোনাভাইরাসের নাম দেওয়া হয়েছে নভেল করোনাভাইরাস। আর এর সংক্রমণে ফ্লুর মত উপসর্গ নিয়ে যে রোগ হচ্ছে, তাকে বলা হচ্ছে কভিড-১৯।

আক্রান্ত রোগীদের লালা ও শ্লেষ্মা পরীক্ষা করে চীনা বিজ্ঞানীরা এখন বলছেন, নভেল করোনাভাইরাস যেভাবে ছড়াচ্ছে, তাতে সার্সের চেয়ে ইনফ্লুয়েঞ্জার সঙ্গেই এর মিল পাওয়া যাচ্ছে বেশি। আগে যেমনটা ভাবা হয়েছিল, তার চেয়েও সহজে এবং দ্রুত গতিতে এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ