করোনায় ইকরচালীতে অনাহারে ৫ পরিবার, ত্রাণ পায়নি আজও

প্রকাশিতঃ ৭:০২ অপরাহ্ণ, বৃহঃ, ১৬ এপ্রিল ২০

মো. আরিফ শেখ, তারাগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি: তারাগঞ্জ উপজেলার ইকরচালী ইউনিয়নের দক্ষিণ লক্ষীপুর মাঝের হাট পূর্বপাড়ার ৫ পরিবার খাবারের অভাবে অনাহারে অর্ধাহারে দিনাতিপাত করছেন। সরকারিভাবে এখন পর্যন্ত কোন অনুদান না পাওয়ায় ওই এলাকার অনেক পরিবার খাবারের জন্য সরকারি বেসরকারি ব্যক্তিদের সাহায্যের জন্য প্রহর গুনছে। এলাকায় নতুন কেউ গেলে তারা খাবারের আশায় ছুটে আসেন।

গত ৯ এপ্রিল থেকে তারাগঞ্জ উপজেলার প্রবেশদ্বারগুলো বন্ধ করে দেয় উপজেলা প্রশাসন। খেটে খাওয়া মানুষ ও ব্যবসায়ীরা কোন কর্ম করতে না পেরে খাবারের জন্য বাইরে বের হচ্ছেন চুপে চাপে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলার সকল মানুষকে ঘর থেকে বের হতে নিষেধ করলেও এলাকার কিছু মানুষ খাবারের অভাবে বাইরে বের হতে বাধ্য হচ্ছে। ফলে এলাকায় ভয়াবহ করোনার সংক্রমনের আশঙ্কা করছে এলাকার সচেতন মানুষ।

বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার ইকরচালী ইউনিয়নের দক্ষিণ লক্ষীপুর মাঝের হাট পূর্বপাড়ার মৃত মোজাম্মেল হকের বাড়ীতে গিয়ে দেখা তার স্ত্রী শরিফুন বেগম খাবার অভাবে অনাহারে আছেন। বাড়ীতে খাবার না থাকায় পাশের বাড়ী থেকে খাবার চেয়ে নিয়ে খাচ্ছেন।

ওই এলাকার মৃত নছির উদ্দিনের স্ত্রী মহিজন বেওয়া,ফরজ মিয়ার স্ত্রী আছিয়া বেওয়ারও অবস্থা একেবারেই বেহাল। তাদের সাথে কথা হলে তারা বলেন, খাবার অভাবে রাতে ঘুমও আসে না। এই এলাকায় এখন পর্যন্ত কোন মানুষ ত্রাণ নিয়ে আসেনি।

কৃষক আব্দুল মালেক ও তার স্ত্রী মনিফা বেগমের সাথে কথা হলে তারা হাউমাউ করে কেঁদে বলেন, সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী বাইরে কোন কাম কাজ করতে যাইতে পারি না। আবার এলাকায় কোন বাড়ীতে কামোতে নেয় না। এখন কি করে ২ ছেলেকে মানুষ করবো। বড় ছেলে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করে। ছোট ছেলে কারমাইকেল কলেজে পড়ালেখা করে। তাদের পড়ালেখার খরচ দিতে পারছে না কৃষক আব্দুল মালেকের। এমন অবস্থায় সরকারিভাবে কোন ত্রাণ সহযোগিতা না পেলে এসব পরিবার খাবারের অভাবে মারাও যেতে পারে।

এ ব্যাপারে ইকরচালী ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড সদস্য মিলন মিয়ার সাথে কথা হলে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত ত্রাণ আসেনি। ত্রাণ আসলে তাদেরকে সহযোগিতা দেয়া হবে।

ইকরচালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, তারাগঞ্জ উপজেলার সকল ভিক্ষুকদেরকে ১০ কেজি করে চাল দেয়া হয়েছে। এবং আগামী শনিবার কিছু ব্যক্তিকে চাল দেয়া হবে। সেই তালিকায় তাদেরকে রেখে সরকারি বরাদ্দ দেয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আমিনুল ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী গতকাল ১৫ এপ্রিল তারাগঞ্জ উপজেলাসহ গোটা রংপুর জেলাকে লকডাউনের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। উপজেলার প্রবেশদ্বার গুলোতে পুলিশের শক্ত চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। আর যেসব পরিবার একেবারেই অসহায় তাদের পরিবারের মাঝে খাবারের ব্যবস্থা করার জন্য উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদ তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিচ্ছে।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ