করোনায় ক্লাস পদ্ধতি নিয়ে একান্ত সাক্ষাৎকারে যা বললেন জবি উপাচার্য

প্রকাশিতঃ ৮:৫৮ অপরাহ্ণ, শুক্র, ২৯ মে ২০

বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাসের প্রকোপ কিছুটা কমে আসায় বিভিন্ন দেশে ধীরে ধীরে শিথিল হচ্ছে লকডাউন। অন্যদিকে দিন দিন আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকলেও একই পথে হাঁটছে বাংলাদেশ। এরইমধ্যে দেশের বেসরকারি কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হয়েছে অনলাইন ক্লাস-পরীক্ষা। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার ব্যাপারেও তাদের সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। যদি কোন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় অনলাইনে ক্লাস-পরীক্ষা নিতে চায় সে ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) সহযোগিতা করবে বলে জানিয়েছেন ইউজিসির চেয়ারম্যান কাজী শহীদুল্লাহ।

লকডাউন শিথিল বা উঠে যাওয়ার পর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কিভাবে তাদের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করবে ও কোন পদ্ধতিতে হবে তাদের ক্লাস-পরীক্ষা, করোনাকালীন শিক্ষার্থীদের সমস্যা-করণীয় এবং করোনায় কেমন কাটছে সময়- এসব বিষয়ে সময় জার্নালের সঙ্গে কথা বলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান। সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন রায়হান উদ্দিন তন্ময়।

সময় জার্নাল : শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ১৫ জুন পর্যন্ত বন্ধ থাকছে, আপনার বিশ্ববিদ্যালয় কবে খুলবে?
ড. মীজানুর রহমান : শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার ব্যাপারে সরকার যখন সিদ্ধান্ত নিবে তখনই আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় খোলা হবে।

সময় জার্নাল : আপনি বলছেন সরকারি সিদ্ধান্তের আলোকে বিশ্ববিদ্যালয় খুলবে। কিন্তু এ ছোট পরিসরের জায়গায় কিভাবে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করে ক্লাস-পরীক্ষা নেওয়া হবে?
ড. মীজানুর রহমান : এটা অবশ্যই কষ্টকর হবে। তবে আমাদের একটা উপায় বের করতে হবে। আমরা ভাবছি যদি প্রতিদিন ব্যাচ ভিত্তিক যেমন- আজ প্রথম বর্ষ কাল দ্বিতীয় বর্ষ এভাবে রোস্টার করে ক্লাস নেওয়ার। অথবা সকালে প্রথম বর্ষ দুপুরের পর দ্বিতীয় বর্ষ এভাবে নিতে পারলে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ক্লাস করা যাবে। এরপর ক্লাসের সেকশন বাড়াতে হবে। কেননা একসাথে এত ছাত্রকে ক্লাস করাতে পারবো না।

সময় জার্নাল : ইউজিসি অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে, অন্যদিকে শিক্ষামন্ত্রণালয়েরও মত রয়েছে। আপনারা কি ভাবছেন?
ড. মীজানুর রহমান : আন্তরিকতা ও বাস্তবতা এক জিনিস নয়। করোনার কারণে শিক্ষা ব্যবস্থার ক্ষতি হচ্ছে না-এটা বললে ভুল হবে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। আমার গ্রামের বাড়ি থেকেই অনলাইনে কথা বলা কষ্ট হয়ে যায়। ইন্টারনেটের গতির যে অবস্থা তাতে সবাইকে অনলাইনে আনা সম্ভব নয়। যদি আমরা ৮০ শতাংশ শিক্ষার্থীকে অনলাইনের আওতায় আনি, বাকি ২০ শতাংশেরও ক্লাস নিয়েই কোর্স সম্পন্ন করতে হবে। কাউকে বাদ দিয়ে ক্লাস শেষ করা যাবে না। তাছাড়া শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কাছেও ইন্টারনেট ও ডিভাইসের স্বল্পতা রয়েছে। তবে আমরা একটা করতে পারি তা হলো যেসব শিক্ষক ভালো বলতে পারেন তাদের দিয়ে পাঠ ভিত্তিক ভিডিও তৈরি করে ভিডিওটা দিতে পারি। তাতে কিছুটা হলেও শিক্ষার্থীদের উপকার হবে। তবে এ বিষয়ে এখনো ফাইনাল সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। একাডেমিক কাউন্সিলে এটা নিয়ে আলোচনা হবে। তবে আমরা এবিষয়ে ভাবছি।

সময় জার্নাল : করোনায় অনেক শিক্ষার্থী আর্থিক সমস্যায় রয়েছেন। সেমিস্টার ফি কি মওকুফ করা হবে?
ড. মীজানুর রহমান : সবাই তো সমস্যায় নেই। সেমিস্টার ফি মওকুফ ও বাড়ি বা মেস ভাড়ার সমস্যা তো জাতীয় সমস্যা। তবে আমরা সেমিস্টার লেট ফি মওকুফ করে দিব।

সময় জার্নাল : ভর্তি পরীক্ষার ব্যাপারে কি চিন্তা আপনাদের?
ড. মীজানুর রহমান : বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ক্ষতি হলো উচ্চ মাধ্যমিকের পরীক্ষা এ বছর আমরা নিতে পারেনি। কখন এটা নেয়া যাবে তাও বলা যাচ্ছে না। এর সাথে উচ্চ শিক্ষার সংশ্লিষ্ট থাকায় ভর্তি পরীক্ষা খুবই অনিশ্চিয়তার মধ্যে পড়ে গেল।

সময় জার্নাল : করোনায় শিক্ষার্থীদের জন্য আপনার পরামর্শ কি?
ড. মীজানুর রহমান : করোনায় সারাবিশ্বের শ্রম বাজারে যে শূন্যতা তৈরি হবে আগামী দুই বছর নতুন কোনো চাকরি হয় কিনা সেটাও সন্দেহ। তাই খুব তাড়াতাড়ি সার্টিফিকেট দিয়ে বের করে দিয়ে আমরা কিছু শিক্ষিত বেকার তৈরি করবো, আর কিছু না। শিক্ষা নিয়ে এই তাড়াহুড়োর কিছু নেই। তবে শিক্ষার্থীদের বলবো, তারা যেনো এই সময়টা নষ্ট না করে। শিক্ষা, সংস্কৃতি, সাহিত্য, বিশ্ব সাহিত্য নিয়ে অধ্যায়ন করার এখনই সময়। যারা পড়াশোনা করতে চায়, তারা বাইরের পড়া পড়ুক।

সময় জার্নাল : করোনার কারণে অনেক শিক্ষার্থীই সমস্যায় পড়ছেন, তাদেরকে কিভাবে সমাধান করছেন?
ড. মীজানুর রহমান : শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধানে আমারা কাজ করে যাচ্ছি। খাদ্য সংকট থেকে শুরু করে বাসা ভাড়ার সমস্যা সমাধানে আমরা আর্থিক সহায়তা নিয়ে তাদের পাশে থাকছি। আমাদেরকে কোন শিক্ষার্থী সমস্যার কথা জানালেই আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাচ্ছি।

সময় জার্নাল : করোনায় ঘরবন্দি সময় কিভাবে পার করছেন?
ড. মীজানুর রহমান : পরিবারকে বেশী সময় দিচ্ছি। আগে কখনো বুঝার সুযোগ হয়নি বাসায় যারা থাকেন তাদের কি পরিমাণ ব্যস্ততা। করোনার কারণে এটা জানার সুযোগ হয়েছে এবং তাদের প্রতি শ্রদ্ধার পরিমাণটা আরও বেড়ে গেছে। এক কথায় বলতে গেলে পারিবারিক কাজে বেশ সহযোগিতা করতে পারছি। তাছাড়া আমার বই পড়ার অভ্যাস রয়েছে। অনেক বই কিনে রেখেছিলাম সময়ের অভাবে সেগুলো পড়তে পারিনি। কিন্তু করোনায় ঘরবন্দি হয়ে সবগুলোই পড়ে শেষ করেছি।

সময় জার্নাল : আমাদের সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
ড. মীজানুর রহমান : সময় জার্নালকেও ধন্যবাদ।

 

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।