করোনা এবং সমসাময়িক ভাবনা

প্রকাশিতঃ ১:৫৩ অপরাহ্ণ, শনি, ১১ এপ্রিল ২০

ইফতেশাম বাশার, ঢাকা : আশা করি, সৃষ্টিকর্তার কৃপায় সবাই ভাল আছেন। আমি আদতে একজন চিকিৎসক কিংবা মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নই। তারপরও আমার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার নিরিখে কিছু টিপস শেয়ার করতে চাই, যা করলে হয়ত এই ঘরে থাকার সময়টা আপনার জন্য সুন্দর এবং সৃষ্টিশীল হয়ে উঠতে পারেঃ

১. সবসময় ইতিবাচক এবং ধৈর্যশীল থাকুন। মনে রাখবেন, বিপদ কখনো চিরস্থায়ী হয়না। নিজেদের আত্মবিশ্বাস, সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং মহান সৃষ্টিকর্তার রহমতের কল্যাণে যেকোন বিপদকে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। তবে এই সময়টা আপনাকে ধৈর্য ধরতে হবে।

২. যেহেতু করোনাভাইরাস আপনার শাসতন্থ্রের সংক্রমণ ঘটায়, তাই এই সময়টা আপনি ঠান্ডাজাতীয় যেকোন কিছু খাওয়া এবং পান করা থেকে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে বিরত রাখুন। যদি আপনি পারেন, ঘনঘন কুসুম গরম পানি, দিনের কোন একবেলায় লেবুচা ইত্যাদি পান করতে পারেন। আর ঘুমানোর আগে সম্ভব হলে একগ্লাস গরম দুধ। এছাড়া, বাসায় ইলেক্ট্রিক ওয়াটার হিটার থাকলে দিনে ২-৩ বার পানি গরম করে নাক এবং মুখ দিয়ে সেই গরম পানির ভাপ নেওয়ার অভ্যাস করুন। ব্যস আপনার দুশ্চিন্তা অনেকটাই লাঘব হবে।

৩. পরিবারের সদস্যদের সাথে বেশি করে সময় দিন। তাদের সাথে বাসার বিভিন্ন কাজে সাহায্য করতে পারেন। সকালে বা সন্ধ্যায় নাস্তার পর তাদের সাথে যেকোন ইনডোর গেইমে অংশ নিতে পারেন। এতে সম্পর্কেরও উন্নয়ন হবে। এছাড়া আপনি হাসির নাটক বা কমিক সিরিজ ইউটিউব থেকে দেখতে পারেন সপরিবারে।

৪. আপনার পরিবারের বয়স্ক সদস্যদের এসময় আরো বেশি সময় দিন। তাদের মনের কথা, চাহিদা ইত্যাদি মনোযোগ দিয়ে শুনুন এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিন। এতে করে আপনার ওপর তাদের আস্থা এবং বিশশাস ফিরে আসবে। তারা আপনার কাছে সঠিকভাবে মূল্যায়িত হচ্ছেন বলে মনে হবে। ফলে তারাও মানসিকভাবে তৃপ্ত থাকবেন।

৫. আপনার দৈনন্দিন জীবনে এখন থেকে শরীরচর্চার বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন। যেকোন শরীরচর্চা আমাদের দেহের রক্তসঞ্চালন বৃদ্ধি করে শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। কী ধরনের শরীরচর্চা বাসায় থেকে করতে পারেন, তা সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করছে আপনার ওপর। আপনি ইউটিউব থেকে দেখে আপনার জন্য পছন্দসই শরীরচর্চার প্র‍্যাকটিস করতে পারেন। এক্ষেত্রে খুব সহজ কিছু এক্সারসাইজ করতে পারেনঃ

– আপনার বাসায় যদি সোজাসুজি হাটার জন্য কমপক্ষে ১০ থেকে ১২ ফিট জায়গা থাকে, তাহলে প্রতিদিন একবার ১৫ থেকে ৩০ মিনিটের লম্বা হাটা দিতে পারেন।

– দিনে একবার অন্ততপক্ষে ২০ বার উঠ-বস করতে পারেন।

– প্রতিদিন অন্তত ২০ বার দড়িলাফ দিতে পারেন।

– আপনি ২০ থেকে ২৫ বার প্রথমে হালকা স্পিডে, পরে কিছুটা হাইস্পিডে এবং শেষে আবার হালকা স্পিডে জগিং করতে পারেন।

– আর এই বিশেষ সময়টাতে প্রতিদিন শাসতন্ত্রের সুরক্ষায় ব্রিদিং এক্সারসাইজ করতে পারেন দিনে ২ থেকে ৩ বার। এক্ষেত্রে প্রতিবার আপনি চিত হয়ে শুয়ে বা সোজা হয়ে বসে অন্তত ২০ থেকে ২৫ বার শাস টেনে ১৫ থেকে ২০ সেকেন্ড ধরে রেখে এরপর ধীরে ধীরে নিঃশাস ছেড়ে দিতে হবে।

৬. নিয়মিত প্রার্থনা এবং শরীরচর্চার বিষয়গুলো অব্যাহত রাখুন। এতে শারিরীক এবং মানসিকভাবে প্রফুল্ল থাকতে পারবেন। এক্ষেত্রে এ বিষয়গুলো দলগতভাবে আপনার পরিবারের সব সদস্যদের নিয়ে করতে পারেন, যাতে তারা এই কাজগুলো নিয়মিতভাবে করতে উতসাহিত হয়, এতে করে তারা নিজেরাও ভবিষ্যতে এই বিষয়গুলো মেইন্টেইন করবেন বলে আশা করা যায়।

৭. এসময় আপনার শখের কাজ (গান করা, ছবি আকা, গল্প/কবিতা/সচেতনতামূলক/অনুপ্রেরণামূলক কিছু লেখা, সেলাই করা, গাছের যত্ন নেওয়া, ঘর সাজানো ইত্যাদি), দীর্ঘদিনের যেকোন জমানো কাজ এসবে সময় দিতে পারেন। আপনার পরিবারের সদস্যদের সাথে নিয়ে ভবিষ্যতে কি কি প্ল্যান করতে চান, সেসব নিয়ে কথা বলতে পারেন।

৮. যেহেতু একটি দীর্ঘ সময় একসাথে পরিবারের সদস্যদের সাথে থাকছেন, তাই চেষ্টা করুন একে অপরকে মানসিকভাবে সুস্থ রাখতে- কারো কোন কথা বা কাজ আপনার ভাল লাগলে তাকে প্রশংসা করতে ভুলবেননা। আপনার একটি প্রশংসামূলক বাক্য তার জীবনে অনেক ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে। সাথেসাথে পরিবারের ছোটদের মধ্যেও এই সু-অভ্যাসটি গড়ে উঠবে।

৯. আপনার বাসার যেসব সদস্যরা আপনার সাথে বর্তমানে নেই, তাদের এবং বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়সজনের খোজ নিন ফোনে এবং ভিডিওকলের মাধ্যমে।

১০. সামাজিক মাধ্যমে যতটা সম্ভব নেগেটিভ নিউজ পড়া বন্ধ করে দিন এবং কোন পোস্ট করতে চাইলে যা সবার উপকারে আসতে পারে, এমন পোস্ট শেয়ার করুন।

সর্বোপরি, প্রতিটি ক্ষেত্রে আপনার দায়িত্বশীল আচরণ, নৈতিকতাবোধ এবং ইতিবাচক আচরণ এর মাধ্যমেই এই সময়ের ভয়াবহতা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব বলে আমি মনে করি।

একটি সুস্থ বাংলাদেশ এবং একটি সুস্থ বিশশের প্রত্যাশায়,
ইফতেশাম বাশার
১০.০৪.২০২০

***বিশেষ কৃতজ্ঞতাঃ আমার বাবা Prof. Dr. Mohammad Bashar কে, [সিনিয়র কনসালটেন্ট, ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগ, বিআরবি হসপিটাল লিমিটেড] মেডিক্যাল রিলেটেড পয়েন্টগুলো লেখার ব্যাপারে উনার পরামর্শ নিয়েছি।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ