করোনা পরবর্তী সময়েও অনলাইন শিক্ষার গুরুত্ব থাকবে : ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী

প্রকাশিতঃ ১০:১১ অপরাহ্ণ, সোম, ২০ জুলাই ২০

করোনা ভাইরাসের কারণে বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস বন্ধ থাকলেও অনলাইনে শিক্ষাকার্যক্রম চলছে। শিক্ষকদেরকে অনলাইন ক্লাসে দক্ষ করে তুলতে নিয়মিত ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করেছি। উন্নত বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে আমরা অনেক আগেই অনলাইন শিক্ষা চালুর প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলাম। করোনাকালে তা ভালোভাবে কাজে লাগাতে পেরেছি বলে জানিয়েছেন ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ’র উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী

বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী ১৯৪৮ সালের ১ জানুয়ারি কুমিল্লা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর শেষে ইংল্যান্ড থেকে এমবিএ ও পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ১৯৭৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্য অনুষদের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এবং ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সান্ধ্যকালীন এমবিএ প্রোগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালকের পদসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ’র উপাচার্য হিসেবে সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।

অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী ম্যানচেস্টার বিজনেস স্কুল অ্যাসোসিয়েশন, ব্রিটিশ কাউন্সিল স্কলারস অ্যাসোসিয়েশন অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ, ন্যাশনাল ম্যানেজমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশসহ অনেকগুলো সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের আজীবন সদস্য। অনলাইন নিউজ পোর্টাল সময় জার্নালের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে খ্যাতিমান এ শিক্ষাবিদ দেশের করোনাকালীন পরিস্থিতিতে অনলাইন শিক্ষাকার্যক্রমের গুরুত্ব, সমস্যা ও সম্ভাবনা এবং ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ’র নেয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন শাহ্ আলম

জুলিওকুরি পদক প্রাপ্তিতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে পুষ্পমাল্য দিয়ে বরণ করে নিচ্ছেন অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী।

সময় জার্নাল : করোনা ভাইরাসের কারণে দীর্ঘ দিন থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস বন্ধ। কখন খুলবে তারও কোন নিশ্চয়তা নেই। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন যাতে থেমে না থাকে সে জন্য কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেন…

ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী : করোনা ভাইরাসের কারণে বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস বন্ধ থাকলেও আমাদের শিক্ষাকার্যক্রম থেমে নেই। মার্চের শুরুতে দেশে প্রথম করোনা ভাইরাস সনাক্ত হলে আমরা সেই মাসের ১২ তারিখে ক্যাম্পাস বন্ধ করে অনলাইনে ক্লাস চালু করার সিদ্ধান্ত নিই। এর এক সপ্তাহের মধ্যে আমরা অনলাইন ক্লাস শুরু করি। কিভাবে এত তাড়াতাড়ি এটা সম্ভব হয়েছে তা বলার জন্য এর সাথে মিলিয়ে একটা বিষয় বলা দরকার, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে আমরা অতি অল্প সময়ের মধ্যে ট্রেনিংয়ের সুযোগ পেয়েছিলাম এবং ট্রেনিং দিতে শুরু করেছিলাম। কারণ আগে থেকে আমাদের একটা প্রস্তুতি ও যোগাযোগ ছিল। এ কারণে আমরা অতি দ্রুত ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করতে পেরেছিলাম এবং যুদ্ধক্ষেত্রে অবতীর্ণ হয়েছিলাম। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে ঘটনাটি ঠিক এমনই হয়েছে। আমরা অনেকদিন থেকেই অনলাইন ক্লাস চালু করার জন্য চিন্তা করেছিলাম। পূর্ব প্রস্তুতি থাকায় করোনার শুরুতেই আমরা তা বাস্তবে প্রয়োগ করতে পেরেছি। ইতোমধ্যে আমাদের এক সেমিস্টারের ক্লাস-পরীক্ষা শেষে ফলাফলও দেওয়া হয়েছে। এখন নতুন সেমিস্টার শুরু করে দিয়েছি।

সময় জার্নাল : এই মুহুর্তে উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে বাস্তবতাগুলো কি কি এবং এক্ষেত্রে কোন কোন সমস্যা মোকাবেলা করতে হচ্ছে?

ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী : নতুন সেমিস্টার শুরু করতে গিয়ে আমরা কিছু কিছু সমস্যা দেখতে পেয়েছি। অনেক শিক্ষার্থীকে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে একটি মাত্র কম্পিউটার ভাগাভাগি করে ব্যবহার করতে হচ্ছে। আবার এমনও হচ্ছে- বাবা স্মার্টফোন নিয়ে অফিসে চলে যাওয়ার কারণে সন্তানরা ক্লাসে সংযুক্ত হতে পারছে না। ইন্টারনেটের ব্যাপারেও নানা অভিযোগ শুনতে হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সরকার যদি এগিয়ে আসে তাহলে খুব দ্রুত এসব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। অনলাইন ক্লাস শুরু করতে আমাদেরকে খুব একটা কষ্ট করতে হয়নি। প্রথমে আমরা জুম সফটওয়্যার ব্যবহার করেছি। এতে কিছু সীমাবদ্ধতা থাকায় পরবর্তীতে আমরা নতুন করে ই-লানিং প্লাটফর্মে ফিরে এসেছি। এটা খুবই ইন্টারেকটিভ। শুধু শিক্ষার ক্ষেত্রে নয়, সবকিছুতেই আমাদেরকে অনলাইনে চলে যেতে হচ্ছে। অনলাইন ক্লাস চালু রাখতে কিছু অফিসিয়াল কার্যক্রম চালাতে হয়। যার ফলে কিছু লোককে স্বাস্থ্যবিধি মেনে অফিসে উপস্থিত থাকতে হচ্ছে। তাছাড়া আমাদেরকেও বিভিন্ন প্রয়োজনে ক্যাম্পাসে আসা যাওয়া করতে হয়।

সময় জার্নাল : অনলাইন ক্লাসে অংশগ্রহণের জন্য ডিজিটাল ডিভাইস প্রয়োজন। এক্ষেত্রে যে সকল শিক্ষার্থীর ডিজিটাল ডিভাইস নেই তাদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে কোন আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা আছে কি-না?

ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী : আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থীর ল্যাপটপ স্মার্টফোনসহ ডিজিটাল ডিভাইস রয়েছে। তবে খুব কম সংখ্যক শিক্ষার্থীর এসব সুবিধা নেই বলে জেনেছি। তাদের সংখ্যা ১০ থেকে ১৫ শতাংশের মত হবে। এই ধরণের পরিস্থিতি পূর্বে ছিল না বিধায় আমরা এজন্য কোন ফান্ড গঠন করিনি। আর এই মুহূর্তে এটা করা সম্ভবও হচ্ছে না। কারণ শিক্ষার্থীরা আমাদেরকে টিউশন ফিসহ অন্যান্য ফি দিচ্ছে না। আমরা অত্যন্ত কম ফি নিয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করে থাকি। তাছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ করতে গিয়ে আমরা তাদের কাছে অতিরিক্ত কোন ফি ধার্য করিনি। স্থায়ী ক্যাম্পাসে যাতায়াতের জন্য তাদেরকে বিনামূল্যে বাস দিয়েছি। তবে এ ব্যাপারে সরকারের একটা বিকল্প চিন্তা রয়েছে বলে ইউজিসি’র চেয়ারম্যানের কাছ থেকে কিছুটা ইঙ্গিত পেয়েছি। ইতোমধ্যে তারা আমাদের কি ধরণের অবকাঠামোগত অসুবিধা রয়েছে তার একটি পরিসংখ্যান করেছে। এছাড়া একটি বিদেশি সংস্থাও শিক্ষার্থীদের জন্য কি পরিমাণ কম্পিউটার, ল্যাপটপ ও স্মার্টফোন প্রয়োজন তার একটি পরিসংখ্যান করেছে। যে সকল শিক্ষার্থী আর্থিক সংকট রয়েছে তাদেরকে এসব উপকরণ বিনামূল্যে দেওয়া হবে। বর্তমানে যা আছে তার সদ্ব্যবহারেও শিক্ষার্থীদেরকে গুরুত্ব দিতে হবে।

সময় জার্নাল : অনলাইন ক্লাসে অংশগ্রহণের জন্য নিরবিচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগ প্রয়োজন। ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় অধিকাংশ শিক্ষার্থী গ্রামে অবস্থান করছে। অনেক জায়গায় ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট লাইন নেই। সেক্ষেত্রে তাদেরকে মোবাইল অপারেটরগুলো থেকে উচ্চমূল্যে ধীরগতির ইন্টারনেট প্যাকেজ কিনতে হচ্ছে। যার ফলে অনেকের পক্ষে নিয়মিত অনলাইন ক্লাসে অংশগ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে ইন্টারনেট সেবা এখন খুবই প্রয়োজন। আপনাদের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে এধরণের কোন দাবি জানানো হয়েছে কি-না?

ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী : শিক্ষার্থীদের জন্য নামমাত্র মূল্যে ইন্টারনেট সেবা সরবরাহের জন্য আমরা ইতোমধ্যে সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছি। এছাড়াও ইন্টারনেটের উপর সরকার যে কর ধার্য করেছে তা প্রত্যাহারের জন্য আবেদন জানিয়েছি। হতদরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে ইন্টারনেট সরবরাহের কথা বলেছি। এব্যাপারে শিক্ষামন্ত্রণালয় ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। তবে কোন কার্যকরী পদক্ষেপ এখনও দেখছি না। তাছাড়া এবারের বাজেটে ইন্টারনেটের উপর যে ১৫ শতাংশ ভ্যাট নির্ধারণ করা হয়েছে সে বিষয়টিও সরকারের বিবেচনায় নেওয়া উচিত।

সময় জার্নাল : চলমান অনলাইন ক্লাসগুলোতে কি পরিমাণ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করছে?

ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী : আগের চেয়ে বর্তমানে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি অনেক বেড়েছে। আমরা যখন প্রথম অনলাইন ক্লাস শুরু করেছিলাম তখন ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থী উপস্থিতি ছিল। পরবর্তীতে এ সংখ্যা বেড়ে বর্তমানে ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ হয়েছে। আগে ইভিনিং পোগ্রামে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি অনেক কম ছিলো। এখন দেখা যাচ্ছে যে ডে এবং ইভিনিং কোর্সে উপস্থিতি প্রায় সমান। যারা কোন কারণে যথা সময়ে ক্লাসে উপস্থিত থাকতে পারেনি তারা পরবর্তীতে অনলাইন থেকে রেকর্ডেড ক্লাসটি দেখে নিতে পারছে। অনলাইন ক্লাসের সুবিধা হচ্ছে ভিডিও’র মাধ্যমে লেসনগুলো সরবরাহ করতে পারছি। তাছাড়া ভিডিওটি রেকর্ড হয়ে থাকার ফলে শিক্ষার্থীরা তাদের সুবিধানুযায়ী পরবর্তীতে দেখতে পারছে। এছাড়াও সপ্তাহের ছয়দিন আমাদের শিক্ষার্থীরা সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত শিক্ষকদের ফোন করে প্রশ্ন করতে পারছে। কুইজের মাধ্যমে আমরা তাদের মূল্যায়ন করতে পারছি। এতে শিক্ষার্থীদের ফিডব্যাক আমরাও পাচ্ছি তারাও পাচ্ছে।

সময় জার্নাল : করোনাকালীন সংকট দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় ইতোমধ্যে সরকারের পক্ষ থেকেও অনলাইন ক্লাস চালু করার জন্য বলা হয়েছে। এক্ষেত্রে আপনাদের প্রস্তুতি কেমন…

ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী : অনলাইন ক্লাস চালুর বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) একটি গাইডলাইন দিয়েছে। আমাদের শিক্ষামন্ত্রীও বলেছেন যে, ‘করোনা চলে গেলেও ই-লার্নিং চালু থাকবে।’ এজন্য আমরা শিক্ষকদেরকে দক্ষ করে তুলতে ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করেছি। আমি নিজেও প্রতিনিয়ত এব্যাপারে খোঁজ-খবর রাখছি। পৃথিবীর অনেক দেশেই অনলাইন শিক্ষা চালু আছে। তারা এর মাধ্যমে একদিকে যেমন অনেক শিক্ষার্থীকে আকৃষ্ট করতে পেরেছে অন্যদিকে দক্ষ শিক্ষকদেরকেও এখানে অন্তর্ভূক্ত করতে পেরেছে। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের বিবিধ প্রকার চাহিদার ইতিবাচক সমাধান দিতে পেরেছে। যেমন- অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম চালু করলে এক্ষেত্রে হোস্টেল এবং ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থার প্রয়োজন নেই। এছাড়া আরও অনেক আনুষঙ্গিক ব্যয় রয়েছে এক্ষেত্রে সেগুলোর প্রয়োজন হয় না। উন্নত বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে আমরা আরো অনেক আগে থেকেই অনলাইন শিক্ষা চালুর ব্যাপারে চিন্তা করেছিলাম। আমরা অ্যাসোসিয়েশন অব কমনওয়েলথ ইউনিভার্সিটি ও অ্যাসোসিয়েশন অব এশিয়া প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটির সদস্য। তারা আমাদেরকে অনলাইন ক্লাস চালুর জন্য উৎসাহ দিয়েছিলেন। সেই প্রস্তুতিটাকে আমরা করোনাকালে ভালোভাবে কাজে লাগিয়েছি।

সময় জার্নাল : শিক্ষার্থীদের জন্য সরাসরি ক্লাসের পরিবর্তে ভার্চুয়াল ক্লাস কতটুকু কার্যকর হবে বলে মনে করেন…

ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী : সেক্ষেত্রে অবশ্য একটি প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। ব্যক্তিগত সম্পর্ক, ব্যক্তিগত স্পর্শের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের বঞ্চিত হতে হবে। তবে প্রাথমিক থেকে শুরু করে উচ্চ মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত ব্যক্তিগত সংস্পর্শ যতটুকু গুরুত্বপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে এটা ততটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। কারণ তাদেরকে তো নিজেদের কাজ নিজেরা করার যথেষ্ট স্বাধীনতা রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এসব ব্যক্তিগত সংস্পর্শকে অহেতুক হস্তক্ষেপ বলে বিবেচনা করে। আবার অনেক ক্ষেত্রে ভার্চুয়াল শিক্ষায় কোন বিষয়ে সম্ভব না হলে (যেমন বিজ্ঞান ও ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষায়) মিশ্র পদ্ধতি চালু করা যায়। এই পদ্ধতিতে তাত্ত্বিক বিষয়গুলো অনলাইনে আর ব্যবহারিক শিক্ষার পরীক্ষাগুলো মুখোমুখি পদ্ধতিতে নেওয়া হয়। এছাড়াও আমাদের বিদ্যুতের মাত্র ৪৩ ভাগ ব্যবহৃত হচ্ছে এবং ব্রডব্যান্ড সুবিধা পর্যাপ্ত অব্যবহৃত রয়েছে। এগুলোকে কাজে লাগিয়ে আমরা ই-লার্নিংকে গ্রাম পর্যন্ত পৌঁছে দিতে পারি। আইসিটি ও ব্রডব্যান্ডের ক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে ধন্যবাদ জানাতে হয়।

সময় জার্নাল : দেশে বিভিন্ন ক্যাটাগরির বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। অনলাইন ক্লাস চালু করার ক্ষেত্রে সবার কি সমান সক্ষমতা রয়েছে…

ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী : অনলাইন ক্লাস চালুর জন্য ল্যাপটপ, স্মার্টফোন, নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ এবং ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের প্রয়োজন। এক্ষেত্রে সবার সমান সক্ষমতা নেই। সক্ষমতার অভাব দুই কারণে হতে পারে। একটা হলো- অবকাঠামোগত সক্ষমতা নেই, দ্বিতীয়ত হলো- তাদের মানসিক প্রস্তুতি নেই। মানসিক প্রস্তুতি না থাকলে অবকাঠামোগত সুবিধা কোন কাজে আসবে না। মনের দিক থেকে প্রস্তুতি থাকতে হবে যে- আমরা অনলাইনে শিক্ষা দিতে পারি, এটা সম্ভব এবং উচিত। অনলাইন ক্লাস নেয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সংশ্লিষ্ট বিষয়ে শিক্ষক কতটা দক্ষতার সাথে ক্লাস পরিচালনা করছেন।

সময় জার্নাল : বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আয়ের প্রধান উৎস নতুন ছাত্র ভর্তি করানোর মাধ্যমে। করোনা ভাইরাস সংক্রমণের কারণে এবারের এইচএসসি পরীক্ষা এখনও শুরু করা সম্ভব হয়নি। চলমান পরিস্থিতিতে বিকল্প কোন উপায়ে এই পরীক্ষা নেয়া সম্ভব কি-না?

ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী : এইচএসসি পরীক্ষা হবে কি হবে না সে বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী সিদ্ধান্ত নিবেন। আশা করছি সিদ্ধান্তটা তিনি দ্রুতই নিবেন। তা না হলে আমরা তো আন্ডারগ্রাজুয়েট ক্লাসের ছাত্র-ছাত্রী একেবারেই পাচ্ছি না। এছাড়াও আমাদের যেসকল শিক্ষার্থী গ্রাজুয়েট হয়ে যাচ্ছে তারা কোথায় ভর্তি হবে। এজন্য আমরা কিছু বিষয়ে মাস্টার্স কোর্স চালুর জন্য ইউজিসির কাছে অনেক আগেই আবেদন করে রেখেছিলাম, কিন্তু বিভিন্ন কারণে তারা আমাদেরকে সেগুলোর অনুমোদন দেয়নি। ইউজিসির বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০১০ অনুযায়ী স্থায়ী ক্যাম্পাসে স্থানান্তরিত না হলে নতুন কোন প্রোগ্রামের অনুমোদন দেয়া হয় না। বর্তমানে আমরা স্থায়ী ক্যাম্পাসে স্থানান্তরিত হয়ে একটি শর্ত পূরণ করেছি। দ্বিতীয়ত অন ক্যাম্পাস লার্নিং না হয়ে যদি ই-লার্নিং হয় তাহলে তো আর ক্যাম্পাসের প্রয়োজন হচ্ছে না। ইউজিসি অনুমোদন দিলে অন্তত আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি পাশ করা শিক্ষার্থীরা এখানে এমএসসি প্রোগ্রামে ভর্তি হতে পারতো। এতে তাদের যেমন সুবিধা হতো আমাদেরও আয়ের একটা সুযোগ হতো। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফান্ড থেকে আর কতো খরচ করবো।

সময় জার্নাল : করোনা সংকটের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা কি পরিমাণ টিউশন ফি পরিশোধ করেছে…

ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী : খুবই অল্প পরিমাণে দিচ্ছে। আমরা এমনিতেই শিক্ষার্থীদের উপর সামান্য টিউশন ফি ধার্য করেছি। তাছাড়াও বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীকে আমরা বিনা বেতনে অধ্যয়নের সুযোগ দিয়ে থাকি। যাদের উপর সামান্য টিউশন ফি ধার্য করেছি তাদের মধ্য থেকেও খুবই কম সংখ্যক শিক্ষার্থী তা পরিশোধ করেছে। আমরা তাদের প্রতি কোন চাপ সৃষ্টি করছি না। যেহেতু বাড়ি ভাড়া বিদ্যুৎ ও পানি বিলসহ আমাদেরকে অনেক টাকা পরিশোধ করতে হচ্ছে, সেহেতু আমরা তাদেরকে সাধ্য অনুযায়ী টিউশন ফি জমা দেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। আমাদের সকল শিক্ষার্থীই যে একেবারে গরিব তা কিন্তু না। যাদের সামর্থ আছে অন্তত তারাও যদি টিউশন ফি জমা দিতো তাহলে এই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠা আমাদের জন্য সহজ হতো। তারা যদি স্বেচ্ছায় আমাদেরকে সহযোগিতা না করে তাহলে সামনের দিনগুলোতে আমাদের জন্য চলা খুবই কষ্টকর হয়ে দাঁড়াবে। সামনে ঈদ আসছে শিক্ষক এবং কর্মকর্তা কর্মচারীদেরকে তো বেতন দিতে হবে।

সময় জার্নাল : করোনায় ঘরবন্দি সময় কিভাবে পার করছেন…

ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী : করোনায় ঘরবন্দি থাকলেও বাইরের কোন কিছুই থেমে নেই। প্রতিদিনই অনলাইনে দেশ-বিদেশের কোন না কোন সেমিনারে অংশগ্রহণ করতে হচ্ছে। তাছাড়া কয়েকটি সংগঠনের সাথে সংযুক্ত থাকার কারণে সেখানেও সময় দিতে হচ্ছে। এক কথায় ব্যস্ততার মধ্যদিয়ে সময়গুলো পার করতে হচ্ছে।

সময় জার্নাল : শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে যদি কিছু বলতেন…

ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী : পাঠ্য বইয়ের পাশাপাশি তাদেরকে মানুষ হওয়ার শিক্ষাও গ্রহণ করতে হবে। এই শিক্ষা তারা বিভিন্ন দিক থেকে নিতে পারে। অনলাইনে বিভিন্ন সেমিনারে অংশ নিতে পারে। আর বিশ্বায়নের এই যুগে শিক্ষার্থীরা চাইলে ঘরে বসেই যেকোন বিষয় সম্পর্কে জ্ঞানার্জন করতে পারে। তার হাতের ডিজিটাল ডিভাইসটিইতো তার জন্য জ্ঞানের সাগর, যদি সেটির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারে। মোটকথা জীবনে সফল হতে চাইলে তাদেরকে প্রতিটি মুহূর্ত এবং সুযোগকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে।

সময় জার্নাল : ব্যস্ততার মধ্যেও আমাদের মূল্যবান সময় দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী : সময় জার্নালের পাঠদেরকেও ধন্যবাদ।

সময় জার্নাল/শাহ্ আলম

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।