করোনা: সময়টা এক গল্পটা ভিন্ন

প্রকাশিতঃ ২:০০ অপরাহ্ণ, বৃহঃ, ২ এপ্রিল ২০

রাব্বি হাসান

ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়, পূর্নিমা-চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি!

যুগে যুগে মানবসভ্যতাকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিয়েছে কোন না কোন দুর্যোগ, নয়তো মহামারি কোন রোগ শোক। তবুও মানুষ স্বপ্ন দেখেছে নতুন করে বেঁচে থাকার নতুন কোন গল্প খুঁজবার।

বিশ্ব জুড়েই তোলপাড় করোনা ভাইরাস, লক ডাউন হয়ে গেছে বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশ। কোন যুদ্ধ নেই কোন হুমকি নেই স্থবির হয়ে পড়েছে দেশ, দেশের অর্থনীতি। যুদ্ধ, ক্ষেপণাস্ত্র ছাড়াও যে মানবসভ্যতাকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাওয়া যায় তাই আবার প্রমানিত হলো।

উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশে বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বিপাকে যারা পড়েছে তারা হলো নিম্নবিত্ত শ্রমজীবি। চিত্ত করার প্রাণপণ ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও বিত্ত যে নেই! এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছে সাধারণ মানুষ। তবে বর্তমানে চিত্ত করার ইচ্ছে থেকে ও মানুষ নিজেকে গুটিয়ে নিচ্ছে।

পরিচিত কিংবা অপরিচিত কারো সাথেই এখন চিত্ত অথবা সাক্ষাৎ করার চেষ্টা করছেন না কেউ। সরকারি, বেসরকারি অফিস আদালত বন্ধ করার পাশাপাশি বন্ধ হয়েছে গণপরিবহন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ, বিভিন্ন কর্মক্ষেত্র। এতে কাজ হারিয়েছে শতশত মজুরি ভিত্তিক শ্রমিক কর্মচারী।

সরকারের পক্ষ থেকে সবাইকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলা হয়েছে। এই হোম কোয়ারেন্টাইন যে এক প্রকার জেলখানা তা নিম্নবিত্ত মানুষ বেশ উপলব্ধি করতে পারছেন।

অনেকেই এই হোম কোয়ারেন্টাইনের দিনগুলো পার করছেন পরিবারের সবার সাথে আনন্দে, আড্ডা দিচ্ছে সন্তান, মা বাবার সাথে। মাঝে মাঝেই ফুটো তুলে বন্ধি হচ্ছে স্মৃতির ‘হোম কোয়ারান্টাইন’ নামক এলবামে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ঢুকলেই দেখা মিলে এমন শতশত ছবি। খাবারের কোন চিন্তা-ফিকির নেই কারন মাস দুয়েক এর খাবার কিনে মজুদ করেছে রেখেছে তারা।

অপর গল্পে- শ্রমজীবি মানুষগুলোর হোম কোয়ারেন্টাইন চলছে ছোট্ট শিশুর খাবার না পাওয়ার কান্নার শব্দে, ছোট্ট টিনের চালের ভাড়া দিতে না পারার তীব্র লজ্জা, সংকোচে। মানুষগুলো না পারছে বাহিরে গিয়ে কাজ খুঁজে নিতে, না পারছে ঘরে বসে খাবার জোগাড় করতে। অনেকেই মাটির হাঁড়িতে জমানো খুচরো কিছু পয়সা, দু’চারটি খসখসে পুরনো নোট বের করে এক বা দুবেলার খাবার কেনার চেষ্টা করছে। তাতেই বা কতটুকু হয়।

স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, প্রশাসন থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য- চাল, ডাল, পেঁয়াজ, তেল বিতরণ করছে। কোন ত্রাণের গাড়ি দেখলেই ছুটে যাচ্ছে শতশত মানুষ। কেউ পায় আবার কেউ বা খালি হাতেই টিনের চালের ছোট্ট বাসায় মলিন হাসি দিয়ে ফিরে। এই সভ্যতা যেন তাদের বিপরীতে মুখ ফিরে দাঁড়িয়েছে।

সমাজের ধনী, বিত্তবান শ্রেণির মানুষেরা যদি নিজ থেকে বিপাকে পড়া অনাহারে থাকা নিম্নবিত্ত মানুষের গুটিকয়েক দিনের খাবার জোড়ার দিতে এগিয়ে আসে তবেই শ্রমজীবি মানুষকে তার প্রাপ্য টুকু দেয়া হবে।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ