কী বলার কী বলছি!

প্রকাশিতঃ ৭:২১ অপরাহ্ণ, মঙ্গল, ৮ সেপ্টেম্বর ২০

ইমরান মাহফুজ

করোনায় লাখো মানুষ কর্মহীন। বন্যায় ঘরবন্দি হাজারো পরিবার। প্রযুক্তির উৎকর্ষতায় গতানুগতিক ধারার অনেক লোক চাকরি হারা! আত্মসম্মানের কারণে মধ্যবিত্ত সমাজ কারো কাছে মুখ খুলছে না। না খেয়েও আছে। কেউ কেউ ভাতের অভাবে হাড্ডিসার, রোজা রাখছে বলেও আমি জানি।

অন্যদিকে বাংলাদেশ বেকারের দিক থেকে এশিয়ায় দ্বিতীয়। ভয়াবহ পরিস্থিতি চলছে চলবে। কেউ কাউকে জানে না। কেউ কাউকে বুঝেও না। সেই সঙ্গে ভাসছে দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক ক্ষেত্রে চরম এক নৈরাজ্য পরিস্থিতির বিরাজমান চেহারা। যে ছায়া সরাসরি প্রভাব পড়ছে তরুণদের ওপর। ফলে হতাশ তরুণরা মিশে যাচ্ছে বিভিন্ন অসামাজিক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে আবার কখনো সাধারণ চিন্তা ও কাজ থেকে হয়ে পড়ছে নিষ্ক্রিয়।

চলমান সংকটে জীবনমুখী ভাবনার প্রবণতা বেড়েছে। আগ্রহী হচ্ছে কিছু একটা করার। এর মাঝে বিভিন্ন গ্রুপ অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করছে।

এর মাঝে দু’মুঠো ভাতের জন্য, কোন রকম টিকে থাকার চেষ্টায় করছে ওরা। কেউ অনলাইন ব্যবসা কেউ উদ্যাক্তা কেউ বা সমন্বয়কের কাজ করছে। এতে অনেকে ট্রল করছে— আমি এই জায়গা থেকে অমুক তমুক ব্যবসা করছি বলে বিদ্রুপ করছেন।

আচ্ছা তারা কি অসামাজিক কার্যকলাপে যুক্ত, ইয়াবা বিক্রি করে, অস্ত্রের আঘাতে মানুষ মারার প্ল্যান করছে? তাহলে কাদের নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ট্রল করেছেন? কি জন্য? খুব মজা পান। নিশ্চয় খুব ভালো আছেন আপনি! বিলাশী জীবন যাপন করেন। করোনায় আপনার ভাবনা পরিবর্তন হয়নি??

আচ্ছা কই আপনারা ত বদিকে নিয়ে এখন আর কিছু বলেন না, ক্ষমতাসিনের অকাজ নিয়ে পোস্ট দেন না, রাষ্ট্রের বহুমাত্রিক সংকট নিয়ে কথা বলেন না। হামলা মামলার ভয়ে?

এইভাবে আর কত! নিজের কাজ বাদ দিয়ে, না বুঝে না জেনে এইভাবে মানুষকে ছোট করা উচিৎ না। জীবনের এই দুঃসময়ে এমন বিদ্রুপের হাসি অত্যন্ত বেদনার। মনে রাখবেন উপহাস আয়নায় দাঁড়ালে আপনার দিকেই যাবে।

★ এই সমাজে টিকে থাকা খুবই কঠিন। এখানে মানুষ নিজে ভালো কাপড় পরলে অন্যের খারাপ কাপড় দেখে বাঁকাচোখে তাকায়। একটু শিক্ষিত হলে সবাইকে অশিক্ষিত হিসেব করে কথা বলে। কোনো রকম একটা ভালো গাড়িতে চড়ে বসলে বাকিদের রাস্তায় থাকা নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করে। এইধরনের নানান উদাহরণ আছে চারপাশে। বড় অস্থির উপরতলার জীবন! সুযোগ পেলেই দৃশ্য অদৃশ্যে আঘাত করতে ভুল করে না।

অথচ যেদেশের মৌলিক চাহিদাও এখনো মিটেনি তাদের কত হম্বিতম্বি! ভাতের অভাব এখনো যায়নি। লজ্জা লাগে অহেতুক ভাবতে। দিনশেষে আমরা তো সবাই তো ভালো থাকতে চাই, সুন্দর থাকতে চাই- তাহলে সুন্দর কাজ করার সাথে সুন্দর ভাবনা ছড়িয়ে দেই না কেন ঘরে বাইরে!

লেখক: প্রেসিডেন্ট : জেনারেশন ফর বাংলাদেশ

সময় জার্নাল/

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।