কুমিল্লায় মেস মালিকদের অশোভন আচরণের অভিযোগ

প্রকাশিতঃ ৮:৫৪ অপরাহ্ণ, বুধ, ২৪ জুন ২০

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি : মেস ভাড়া নিয়ে অশোভন আচরণের অভিযোগ উঠেছে কুমিল্লার মেস মালিকদের। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের করা মন্তব্যে এসব ফুটে উঠেছে। মেস ভাড়ার সংকট নিয়ে কুবি প্রশাসন বিভিন্ন সময়ে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বললেও কোন ব্যবস্থায় আলোর মুখ দেখেনি। এতে প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে শিক্ষার্থীরা।

ক্ষোভ প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগে আমিনুল ইসলাম নামের এক শিক্ষার্থী লিখেছেন, ”খুব গর্ব করে বলতে হচ্ছে যে আমরা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি। আর সে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের পদক্ষেপের আশায় নিজ বাসায় থেকেও আজ তিনমাসের (১০০০০+প্রতিমাস, সবমিলিয়ে) ভাড়া গুণতে হবে। হয় এভাবে ভাড়া গুণতে হবে আর না হয় ভাড়া দিয়ে মেস ছেড়ে দিতে হবে। এখন এ মহামারির মধ্যে উত্তরবঙ্গ থেকে গিয়ে কি বাসা চেঞ্জ করা সম্ভব? বইপত্রসহ অন্যান্য জিনিসপত্র কই রেখে আসবো? আমাদের জায়গায় আপনাদের নিজের এক একটা সন্তান হলে আপনারা কি করতেন? প্রশ্ন রয়ে গেল আপনাদের কাছে।”

মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে বন্ধ রয়েছে দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এরই ধারাবাহিকতায় বন্ধ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ও। এতে ঐ সময়েই শিক্ষার্থীরা মেস ছেড়ে পাড়ি জমিয়েছে তাদের বাড়িতে। তিনমাস মেসে না থেকেও ভাড়া গুণতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। এ নিয়ে বিপাকে পড়ছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৫ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী।

জানা যায়, টিউশনি কিংবা খণ্ডকালীন চাকরী করেই মাসিক ব্যয় চালানো শিক্ষার্থীর সংখ্যা অত্যধিক। অপরদিকে ‌অনেককে সাংসারিক খরচও জোগাতে হত। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে জীবিকা নিয়েও অনেককে এখন হিমশিম খেতে হচ্ছে। ফলে সবার পক্ষে মেস ভাড়াও দেওয়া সম্ভব নয়। এমতাবস্থায় দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন তারা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের বলেন, “মেস ভাড়া বিষয়ে সমস্যা সমাধানের জন্য আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন মেস মালিকদের তথ্য সংগ্রহ করেছি। উপাচার্যসহ আমরা জুম অ্যাপের মাধ্যমে মিটিং করেছি। এবিষয়ে মেস মালিকদের সাথে সমন্বয় করে বিষয়টি সমাধানের জন্য প্রক্টরকে আহবায়ক করে রেজিস্ট্রার, প্রভোষ্টদের সদস্য করে একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি দিচ্ছি।“

তিনি আরও বলেন, “বিষয়টি সমাধানের জন্য স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনের সাথে সম্বন্বয় করে কাজ করতে হবে। তবে করোনায় কুমিল্লার অবস্থা বেশী ভাল না হওয়ায় সবাইকে একত্রিত করা সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া কোন মেস মালিক সমিতি না থাকায় সব মালিকদের একত্র করা সম্ভব হচ্ছে না। তারপরও আশা করছি আমরা দ্রুত বিষয়টি সমাধান করতে পারব। তবে কোন মেস মালিক শিক্ষার্থীদের সাথে খারাপ ব্যবহার করলে বা চাপ সৃষ্টি করলে আমি কথা বলব। ইতিমধ্যে আমি কয়েকজন মালিকের সাথে কথা বলে সমাধানের চেষ্টা করছি।”

সময় জার্নাল/

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।