কোন মাপকাঠিতে মাপব আমাদের উন্নয়ন

প্রকাশিতঃ ৪:৩৬ অপরাহ্ণ, বুধ, ২৫ ডিসেম্বর ১৯

সিরাজুল ইসলাম :

দেশের উন্নয়ন-উন্নতি হলে এই দেশের প্রকৃত নাগরিক যারা তাদের কারোরই খারাপ লাগার কোনো কারণ থাকতে পারে না। দেশ আমারও, ফলে দেশের উন্নয়ন নিশ্চয় আমাকে আপ্লুত করবে, আমি খুশি হব সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু উন্নয়নের নামে যদি অতিরঞ্জনের গল্প শোনানো হয়, উন্নয়নের নামে মাথাপিছু আয়ের শুভঙ্করের ফাঁকি বারবার হাজির করা হয় তাহলে সেই উন্নয়ন-উন্নতি আমাকে আপ্লুত করে না। ওই উন্নয়ন আমার কাছে এমন হয়, যেমন মনে হয় একজন গরিবের কাছে। সেটি এমন–দেশের ব্যাংকগুলোতে হাজার হাজার কোটি টাকা আছে কিন্তু তাতে একজন গরিবের কী আসে যায়? ওই টাকায় তার কী জুড়ায়??

ধরুন- একজন ধনী ব্যক্তির কাছে আছে ৯৯ টাকা আর একজন গরিব ব্যক্তির আছে ১ টাকা। ধনীর ৯৯ টাকার সঙ্গে গরিবের ১ টাকা যোগ করে হলো ১০০ টাকা। তাকে ২ দিয়ে ভাগ করলে হলো ৫০ টাকা। এইবার দুই জনের গড় মাথাপিছু আয় হলো ৫০ টাকা। এক টাকার মালিকেরও মাথাপিছু আয় হলো ৫০ টাকা। কাগজে-কলমে খুবই সুন্দর ফিগার কিন্তু বাস্তবে কি গরিব মানুষটির আয় ৫০ টাকা হলো? এই রকম মাথাপিছু আয়ের গল্পই তো শুনতে হচ্ছে আমাদের তাই না? বলুন তো- এই গল্প শুনে সন্তুষ্ট থাকলে চলবে আমাদের??

আজ থেকে ২৫/৩০ বছর আগেও বাজারে এক মণ ধান বিক্রি করলে ১ কেজি গরুর গোশত এবং একটি লুঙ্গি কিনে আরো কিছু টাকা পয়সা হাতে থাকতো। (উদাহরণ হিসেবেই বললাম) কিন্তু এখন এক মণ ধানের টাকায় ১ কেজি গরুর গোশত কেনার পর হাতে আর কোনো টাকা থাকবে? ক্ষেত্রবিশেষে এক মণ ধানের টাকায় এক কেজি গরুর গোশত হবেও না। যাহোক, তখন মানুষের মাথাপিছু আয় হয়তো ২০০/৩০০ ডলার ছিল আর এখন মানুষের মাথাপিছু আয় ১৮০০ ডলার। কিন্তু তাতে লাভটা কি হয়েছে?? মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বেড়েছে?? অর্থনীতির এই সমস্ত সাধারণ হিসাবগুলো আমি সরলভাবেই বুঝি…বুঝতে চাই।

এ নিয়ে কেউ মহাখুশি হতে পারেন কিন্তু আমি হই না। দেশের উন্নতি হলে আমার খুশি না হওয়ার কোনো কারণ নেই। কিন্তু আমি জানি, খুব কাছ থেকেই দেখি গ্রামের সাধারণ মানুষের অবস্থাটা। স্বাধীনতার পর ৪৮ বছর পার হয়ে গেছে। এই সময়ে বিশ্বের বহু দেশ তাদের অর্থনৈতিক অবস্থা অনেকটাই বদলে ফেলেছে, এমনকি অনেক দেশ প্রায় সব কিছু তৈরি করার সক্ষমতা অর্জন করছে কিন্তু আমরা তা পারিনি। এখনো আমরা প্রায় সবকিছুই আমদানি করি।

অনেক দেশ আছে যাদের মাথাপিছু আয় আমাদের চেয়ে অনেক বেশি। তারাও এক কেজি গরুর গোশত খায় ৫০০/৬০০ টাকায়, আর ১৮০০ ডলারের মাথাপিছু আয়ের দেশ হয়ে আমরাও প্রায় সেই একই দামে গরুর গোশত খাই। এর মাঝে যে বিরাট ফারাক আছে; সেই ফারাকটা কী বোঝা যায়?? আমাদের উন্নয়ন কোন মাপকাঠিতে মাপব??

লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক ও কলাম লেখক।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ