‘ক্ষুদ্র ঋণদান প্রতিষ্ঠানের জন্য ৩ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠন’

প্রকাশিতঃ ১০:১৭ অপরাহ্ণ, সোম, ২০ এপ্রিল ২০

সময় জার্নাল ডেস্ক : বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) বা ক্ষুদ্রঋণদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এবার তিন হাজার কোটি টাকার একটি তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এ তহবিল থেকে এনজিওগুলো মাত্র সাড়ে ৩ শতাংশ সুদে অর্থায়ন নিয়ে গ্রাহক পর্যায়ে সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ সুদে বিতরণ করতে পারবে।

এ তহবিলের অর্থ করোনাভাইরাসে ক্ষতিগ্রস্ত নিম্নআয়ের পেশাজীবী, কৃষক ও প্রান্তিক বা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মাঝে বিতরণ করতে হবে। সোমবার এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়।

নীতিমালার আলোকে, বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকগুলোকে মাত্র বার্ষিক ১ শতাংশ সুদে অর্থ দেবে। ব্যাংকগুলো ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান থেকে সুদ নেবে সাড়ে ৩ শতাংশ হারে। গ্রাহক পর্যায়ে বার্ষিক সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ সুদে ঋণ দেওয়া যাবে। ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রাহক থেকে সাপ্তাহিক, মাসিক ভিত্তিতে ঋণ আদায় করবে। আর ব্যাংকগুলো ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে অর্থ আদায় করবে।

ঋণ আদায়ের সব দায়-দায়িত্ব ও ঝুঁকি সংশ্লিষ্ট ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান এবং অর্থায়নকারী ব্যাংককে বহন করতে হবে। গ্রাহক পর্যায়ে ক্ষুদ্রঋণের ক্ষেত্রে গ্রেস পিরিয়ডসহ মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ ১ বছর। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা পর্যায়ে ঋণের মেয়াদ হবে গ্রেস পিরিয়ডসহ সর্বোচ্চ ২ বছর। আর স্কিমের মেয়াদ হবে ৩ বছর।

ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানে অর্থায়নে আগ্রহী ব্যাংককে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন বিভাগের সঙ্গে একটি অংশগ্রহণমূলক চুক্তি করতে হবে। মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির (এমআরএ) সনদপ্রাপ্ত ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান ব্যাংক থেকে অর্থায়ন নিয়ে গ্রাহক পর্যায়ে ঋণ দিতে পারবে। এজন্য ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানকে ঋণ চাহিদা জানিয়ে ব্যাংকের কাছে আবেদন করতে হবে। ব্যাংক ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের চাহিদার ভিত্তিতে অর্থায়ন করবে।

অর্থায়ন পাওয়ার পর ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান গ্রাহক পর্যায়ে ঋণ বিতরণ করবে। কোনো একটি ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান শুধু একটি ব্যাংক থেকে অর্থায়ন নিতে পারবে। প্রতিষ্ঠানগুলো নিজস্ব নীতিমালার পাশাপাশি গ্রাহকের বিগত এক বছরের আয়বর্ধক কর্মকাণ্ড বিবেচনায় নিয়ে এ স্কিমের আওতায় ঋণ দেবে। শুধু ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের সমিতিভুক্ত সদস্যকেই এ ঋণ দেওয়া যাবে। এ স্কিমের আওতায় ঋণ নিয়ে গ্রাহকের বিদ্যমান ঋণ সমন্বয় করা যাবে না। নিজ বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের খেলাপি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে এ স্কিমের আওতায় ঋণ দেওয়া যাবে না।

এতে আরও বলা হয়েছে, নিম্নআয়ের পেশাজীবী, কৃষক ও প্রান্তিক বা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী তথা স্থানীয়ভাবে কৃষি এবং বিভিন্ন আয় উৎসারি কাজে নিয়োজিত বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার স্থানীয় উদ্যোক্তা ও পেশাজীবী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে এ স্কিমের আওতায় ঋণ দেওয়া যাবে। অতিদরিদ্র, দরিদ্র বা কোনো অনগ্রসর গোষ্ঠীভুক্ত ব্যক্তি এবং অসহায় বা নিগৃহীত নারী সদস্যরা এক্ষেত্রে প্রাধান্য পাবেন। এ স্কিমের আওতায় নিম্নআয়ের পেশাজীবী, কৃষক ও প্রান্তিক বা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আয় উৎসারি কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য একক গ্রাহকের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৭৫ হাজার টাকা ঋণ দেওয়া যাবে।

আয় উৎসারি কাজে অন্তর্ভুক্তদের সমন্বয়ে গঠিত গ্রুপভিত্তিক অর্থায়নের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকা ঋণ দেওয়া যাবে। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ঋণের আওতায় এককভাবে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা এবং যৌথ প্রকল্পের আওতায় গঠিত গ্রুপভিত্তিক অর্থায়নের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৩০ লাখ টাকা ঋণ দেওয়া যাবে।

সার্কুলারের শুরুতে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর ফলে দেশের নিম্নআয়ের পেশাজীবী, কৃষক ও প্রান্তিক ব্যবসায়ীরা তাদের আয় উৎসারি কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারছেন না। আর্থিক অন্তর্ভুক্তি কার্যক্রমের মাধ্যমে করোনাভাইরাসের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড চলমান রাখা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব অর্থায়নে আবর্তনশীল এ পুনঃঅর্থায়ন স্কিম গঠন করা হয়েছে।

সময় জার্নাল/

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ