খুঁটি বসাতেই গেল পাঁচ মাস!

প্রকাশিতঃ ১২:২৭ অপরাহ্ণ, বৃহঃ, ২৫ জুলাই ১৯

নিউজ ডেস্ক: ‘৫ মাসে শুধু ঘরের খুঁটি হয়েছে, তাও নিম্নমানের বালু-পাথর দিয়ে। স্থাপনের সময়ই কয়েকটি খুঁটি ভেঙে গেছে। প্রধানমন্ত্রী আমাদের দিয়েছেন ঠিকই, কিন্তু মাঝখানেই সব শেষ।’

কথাগুলো বলছিলেন ২০১৮-১৯ অর্থবছরের আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের এক গৃহহীন ব্যক্তি। গৃহহীন পরিবারগুলোর গৃহ নির্মাণ করে দেওয়ার জন্য এক লাখ টাকা করে বরাদ্দ এলেও তাদের ভাগ্যে জুটেছে বঞ্চনা।

২০১৮-১৯ অর্থবছরের আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের অধীন ‘যার জমি আছে ঘর নেই, তার নিজ জমিতে গৃহ নির্মাণ’ উপ-খাতের আওতায় ২৩টি গৃহ নির্মাণে ব্যয় নির্বাহের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অনুকূলে ২৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। গত ৫ মাসে এসব ঘরের শুধু খুঁটিই স্থাপন করা হয়েছে। অথচ আগামী মাসেই প্রকল্পের কাজ শেষ করার কথা। আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের অধীন সদর উপজেলার কুরবাননগর ইউনিয়নে ৫টি, সুরমা ইউনিয়নে একটি ও জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নে ১৭টি গৃহ নির্মাণ করা হচ্ছে।

জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে সরেজমিন গেলে সুবিধাভোগীরা জানান, ঘর নির্মাণের কিছু মালপত্র তাদের আনতে হয়েছে নিজ খরচে। খুঁটি স্থাপনের পর ঘরের চারদিকে ১ ফুট বা দেড় ফুট উঁচু করে যে দেয়াল দেওয়া হয়েছে, ইতিমধ্যেই তা ভেঙে গেছে। কয়েকটি ঘরের টিনের ছাউনি ও বেড়া দেওয়া হয়েছে ছোট আকারের সাধারণ কাঠ দিয়ে। ঘরে দেওয়া বেড়ার কাঠ এখনই নষ্ট হয়ে গেছে। ছাউনি দিয়ে বৃষ্টির পানি ঝরছে।

তারা আরও জানান, স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল মোতালিব ঘর নির্মাণ কাজ দেখভাল করছেন। উপজেলা থেকে এ পর্যন্ত কোনো কর্মকর্তা ঘর নির্মাণ কাজের খোঁজ-খবর নিতে আসেননি। ঘর নির্মাণের মালপত্র আনার খরচও তাদেরই দিতে হচ্ছে। ঘরের কাজ করতে আসা ৩-৪ জন দিনমজুরের দুই বেলা খাবারের খরচও তাদের।

খাগেরগাঁও গ্রামের রশিদ ভূঁইয়া বলেন, ‘ঘর নির্মাণের মালপত্র আনতে আমার খরচ হয়েছে ১ হাজার ৮০০ টাকা। ৭৫০ টাকায় এক গাড়ি বালু কিনেছি। ৩০০ ইট কিনেছি। ২ বস্তা সিমেন্টও কিনেছি। তারা (গৃহ নির্মাণের দায়িত্বপ্রাপ্তরা) যে ৮ বস্তা সিমেন্ট দিয়েছে তার সবই পাথর। নিম্নমানের কাজ হওয়ায় ঘরের ৪টি খুঁটি ভেঙে গেছে। পিলার স্থাপন ছাড়া কোনো কাজ হয়নি আমার ঘরের।’

তবে এসব অভিযোগ নাকচ করে সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মানিক মিয়া বলেন, ‘গত মে মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে গৃহ নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। প্রতিটি গৃহ নির্মাণে এক লাখ টাকা করে ব্যয় হচ্ছে। আমরা নিয়মিত খোঁজ-খবর নিচ্ছি।’

তিনি জানান, প্রতিটি ঘরের দৈর্ঘ্য হবে ১৪ থেকে ১৬ ফুট, প্রস্থ হবে ১০ ফুট। বারান্দা হবে ৪ ফুট। ঘরের চতুর্দিকে সুবিধামতো উচ্চতা দিয়ে ইটের পাকা দেয়াল নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রয়োজন মতো ইট, বালু ও পাথর দেওয়া হচ্ছে। সে সঙ্গে ৮ বস্তা করে সিমেন্ট দেওয়া হয়েছে। এসব মালপত্র বহন করে যথাস্থানে পৌঁছানো পর্যন্ত প্রতিটি ঘরের জন্য প্রায় ৮ হাজার টাকা করে খরচ হচ্ছে। এসব খরচ এক লাখ টাকার ভেতরেই।

সদর ইউএনও ইয়াসমিন রুমা জানান, এসব গৃহ নির্মাণে অনিয়ম মানা হবে না। বন্যার জন্য কিছুদিন সেখানে কাজ হয়নি। মালপত্র নিয়ে রাখা হয়েছে। আগামী মাসের মধ্যে কাজ শেষ করতে হবে।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ