গণমাধ্যমে অস্থিরতা কি সত্যি ভয়াবহ?

প্রকাশিতঃ ৬:০৪ অপরাহ্ণ, মঙ্গল, ২১ জানুয়ারি ২০

নয়ন মুরাদ  (সিনিয়র নিউজ এডিটর Nagorikbarta.com):

বাংলাদেশের গণমাধ্যম সঙ্কটকাল অতিবাহিত করছে এটা ঠিক। অনেক সাংবাদিক পেশা ছেড়ে কর্পোরেট পেশায় চলে যাচ্ছেন। আবার বন্ধুরা প্রতিদিনই বলেন, ‘ভাই এ পেশায় আর থাকা যাবে না’। অনেকেই বিকল্প পেশা চিন্তা করছেন। সাংবাদিকতার পাশাপাশি ব্যবসার পরিকল্পনার করছেন। কিন্তু আসলেই কি অবস্থা অতিমাত্রায় ভয়াবহ?

বেতন-ভাতা:

পত্রিকার জন্য নবম ওয়েজবোর্ড ঘোষণা হলেও হাতে গোনা কয়েকটি হাউজ ছাড়া বাকি মালিকরা এখনো তা বাস্তবায়ন করেননি। তবে সেসব হাউজে আগের মতোই বেতন ভাতা দেয়া হচ্ছে। বর্তমানে ‘মুল ধারার’ পত্রিকা, টেলিভিশন, রেডিও ও অনলাইন প্রচার মাধ্যমের সংখ্যা প্রায় ২০০। এই দুইশো হাউজের মধ্যে বেতন নিয়ে ঝামেলা হচ্ছে এমন হাউজের সংখ্যা ১৫/২০টি। কমও হতে পারে। বাকিরা বেতন দিচ্ছে এবং সাংবাদিক-কর্মচারীরা নিয়মিত বেতন পাচ্ছেন। হয়তো যোগ্যতা অনুযায়ী আশানুরূপ পাচ্ছেন না। কিন্তু একেবারেই বেতন-ভাতা ছাড়া মাসের পর মাস কাজ করতে হচ্ছে এমন হাউজের সংখ্যা একেবারেই হাতে গোনা কয়েকটি। (যাদের সন্দেহ আছে, তারা খোঁজ খবর নিন। কাগজ কলম নিয়ে তালিকা করুন। আন্ডারগ্রাউন্ড সংখ্যা বাদ দিয়ে হিসেব করুন।) তার মানে এই সেক্টর নিয়ে খুব বেশি আশাহত হওয়ার কারণ দেখি না। তবে এটি একটি অনিশ্চিত পেশা তা সত্যি। গত কয়েক বছরে বেতন ভাতা ও ছাটাই নিয়ে যেসব প্রতিষ্ঠানে আন্দোলন হয়েছে, তাও সব মিলিয়ে ৮/১০টি বেশি হবে না।

কাজের পরিবেশ ও স্বাধীনতা:

নানান আইন কানুনের কারণে সাংবাদিকদের কাজের পরিবেশ ও স্বাধীনতা ক্ষুন্ন হয়েছে এটা ঠিক। অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার দরজা প্রতিনিয়ত বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তবে, এসব আইন কানুনের কারণে সংবাদের নামে লাগামহীন গল্প লেখাও বন্ধ হয়েছে। এটাও জরুরী ছিলো। প্রত্যেকটি পেশারই কিছু সীমাবদ্ধতা থাকে। তবে সাংবাদিকরা নিয়মিত হামলা-মামলার শিকার হচ্ছে, যা স্বাধীন সাংবাদিকতায় বড় ধরনের অন্তরায়। আবার সাংবাদিকদের সামাজিক মর্যাদা আগের চেয়ে নি:সন্দেহে বেড়েছে। আপাত দৃষ্টিতে কম মনে হতে পারে।

সব মিলিয়ে যা বলতে চাই…

হাতে গোনা কয়েকটি হাউজে বেতন-ভাতা কিংবা ছাটাই সমস্যা বৃহৎ গণমাধ্যম শিল্পের জন্য উদাহরণ হতে পারে না। অধিকাংশ হাউজের সমস্যা নেই। এটাই উদাহরণ। আর তথ্য সংগ্রহ ও সংবাদ পরিবেশনের কৌশল জানলে আইন-কানুন কিংবা রাজনৈতিক পরিস্থিতি কোনও সমস্যা নয়। আশাহত হওয়ার কিছু নেই। আশাবাদিরাই ভবিষ্যৎ….সাংবাদিকদের মর্যাদার প্রশ্নে সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকলে যে সব সমস্যা আছে, তাও কেটে যাবে।

(জ্ঞান দেওয়ার জন্য নয়, আশাবাদি করার জন্য লিখলাম।)

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ