গরুর ‘লাম্পি স্কিন’ রোগ: দিনাজপুরের চাষি ও খামারিরা আতঙ্কে

প্রকাশিতঃ ১০:১৮ অপরাহ্ণ, রবি, ২১ জুন ২০

মাহবুবুল হক খান, দিনাজপুর : জেলায় ‘লাম্পি স্কিন’ রোগ মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ায় চরম আতঙ্কে রয়েছেন চাষিসহ খামারিরা। ইতোমধ্যে এ রোগে প্রায় ৩ হাজার গবাদিপশু আক্রান্ত হয়েছে। বেসরকারী হিসেবে মৃত্যু সংখ্যা শতাধিক হলেও সরকারি হিসেবে মাত্র ১২টি বাছুর মারা গেছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ।

জানা যায়, জেলার ১৩টি উপজেলার ১০২টি ইউনিয়নের মধ্যে ২২টি ইউনিয়নকে আক্রান্ত প্রবণঅঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করে কাজ শুরু করেছে জেলা প্রাণী সম্পদ অফিস। এজন্য একজন চিকিৎককে প্রধান করে তিন সদস্যের মেডিক্যাল টিম গঠন করে ২২টি টিমকে মাঠে পাঠানো হয়েছে।

এই টিমের মাধ্যমে বিনা পয়সায় টিকা, ওষুধ ও পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। আক্রান্ত অঞ্চলে বিলি করা হচ্ছে সচেতনতামূলক লিফলেট। অপ-চিকিৎসারোধ ও বেশি দামে গবাদি পশুর ওষুধ বিক্রি বন্ধে গঠন করা হয়েছে মোবাইল কোর্ট। কুরবানির ঈদের আগে আকস্মিকভাবে এ রোগে গরু আক্রান্ত হওয়ায় চাষিসহ খামারিয়া চরম আতঙ্কে পড়েছেন।

এ মাসের প্রথমদিকে হঠাৎ করে গবাদি পশুর মধ্যে ‘লাম্পি স্কিন’ রোগ দেখা দেয়। মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা ৩ হাজার ছাড়িয়ে যায়। এ রোগে আক্রান্ত হওয়া দিনাজপুরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে খামারি ও কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রথমে গরুর তীব্র মাত্রার জ্বর আসে। এরপর গরুর শরীর গোটা গোটা আকারে ফুলে যায়। গলাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে পানি নামে। ফলে গরু খাওয়া বন্ধ করে দেয়।

জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে জেলায় ১৬ লাখ ৭১ হাজার ২শ’ ১৪টি গবাদিপশু রয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে গিয়ে কোনও প্রতিকার পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন গবাদিপশু পালনকারীরা। গ্রামের পল্লী চিকিৎসকদের দ্বারস্থ হয়ে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ ও ইনজেকশন দিলেও তেমন কোনও উপকার হচ্ছে না বলে জানান তারা।

দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার আব্দুল ওহাব নামে একজন কৃষক বলেন, “তার তিনটি গরু অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত হয়েছে। আসন্ন কুরবানি ঈদকে সামনে রেখে গরু বড় করেছি একটু বেশি দাম পাওয়ার আশায়। কিন্তু গরুর সারা শরীরে গোটা গোটা দানার মতো ফুলে যাওয়ায় কুরবানিরহাটে দাম পাওয়া যাবে না। একই কথা জানালেন সদর উপজেলার অনেক খামারী। তারা জানান, “বাছুরগুলো আক্রান্ত হলে ২-৩ দিনের মধ্যেই মারা যাচ্ছে। তাদের এলাকায় গত ৭ দিনে ৩টি গরু ও বাছুর মারা গেছে।”

দিনাজপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. শাহিনুর আলম বলেন, “সংক্রমকব্যাধি ‘লাম্পি স্কিন’ রোগ রোধে গোয়াল ঘরের মশা-মাছি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সচেতন থাকতে হবে। এ রোগটি ইতিপূর্বে ঝিনাইদহে দেখা দিয়েছিল, এখন দিনাজপুর জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে। জেলায় যে কয়েকটি বাছুর এ রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে, তা ভুল চিকিৎসায় মারা গেছে। পল্লী চিকিৎসকরা না বুঝে উচ্চমাত্রার এন্টিবায়োটিক ওষুধ প্রয়োগ করায়, বাছুরগুলো মারা গেছে। এসব অপ-চিকিৎসারোধ করতে, ভ্রাম্যমাণ আদালত গঠন করা হয়েছে।”

সময় জার্নাল/

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।