গৃহবধূকে গণধর্ষণের পর স্বামীকে পিটিয়ে হত্যা, আটক ১

প্রকাশিতঃ ১১:২১ পূর্বাহ্ণ, মঙ্গল, ১৯ নভেম্বর ১৯

নিউজ ডেস্ক: জামালপুর সদর উপজেলার রামকৃষ্ণপুর গ্রামের এক গৃহবধূ গণধর্ষণের পর তার স্বামীকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মুমূর্ষু অবস্থায় ওই গৃহবধূকে রোববার রাতে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় ধর্ষিতা গৃহবধূ সোমবার রাতে থানায় মামলা করেছেন বলে জানিয়েছেন জামালপুর থানার ওসি সালেমুজ্জামান। এরপর মঙ্গলবার সকালে ওই মামলার এক আসামি শাওনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ওই গৃহবধূর অভিযোগ, গণধর্ষণে বাধা দিতে গেলে অভিযুক্ত সানোয়ার, শাওন ও মফিজ তার স্বামীকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধে হত্যা করে। এ ঘটনায় প্রথমে মামলাও নেয়নি পুলিশ।

এর আগে জামালপুর থানার ওসি সালেমুজ্জামান বলেছেন, গণধর্ষণ বা হত্যার কোনো বিষয় সম্পর্কে তারা অবগত নন। ফোনে ওই গৃহবধূর কাঠমিস্ত্রী স্বামীর আত্মহত্যার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসআই গুলজার হোসেনকে পাঠানো হয়। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর পর অপমৃত্যুর মামলা রুজু হয়। গণধর্ষণ বা হত্যার কোনো অভিযোগ কেউ করেনি। এ ধরণের অভিযোগ পেলে নিয়মিত মামলা নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্বজনরা জানায়, রামকৃষ্ণপুর গ্রামের ওই কাঠমিস্ত্রীর স্ত্রীকে একই এলাকার সানোয়ার, শাওন ও মফিজ নানাভাবে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। গত শুক্রবার রাত ৯টার দিকে ওই তিনজন ওই গৃহবধূকে বাড়ি থেকে সানোয়ারের বাড়িতে তুলে নিয়ে বেঁধে রাখে। পরে শারিরিক নির্যাতনের এক পর্যায়ে তারা তাকে একটি জঙ্গলে নিয়ে গণধর্ষণ করে। খবর পেয়ে রাত ১১টার দিকে ওই কাঠমিস্ত্রী তার স্ত্রীকে উদ্ধার করতে সানোয়ারের বাড়িতে যায়। এ সময় তিন ধর্ষক মিলে খলিলকে বেধড়ক মারধর ও শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে তার লাশ গ্রামের একটি জঙ্গলে কাঁঠাল গাছের সঙ্গে ঝুঁলিয়ে রাখে।

ধর্ষিতা অভিযোগ করেন, পুরো ঘটনা জানানোর পরও প্রথমে পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

নিহত কাঠমিস্ত্রীর বাবার অভিযোগ, এ গণধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় মামলা করতে থানায় গেলে প্রথমে মামলা নেয়নি পুলিশ। ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে তার ছেলের লাশ জঙ্গলের একটি কাঁঠাল গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানসহ প্রভাবশালীদের হুমকির মুখে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের ইমারজেন্সি মেডিকেল অফিসার ডা. হাসানুল বারী শিশির জানান, ভিকটিম শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এর আলামতও পাওয়া গেছে। তার গোপনাঙ্গ দিয়ে এখনও রক্ত ঝড়ছে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে একাধিক জখমের চিহ্ন রয়েছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য তাকে গাইনি ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়েছে।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুল হক ফনি তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এ ঘটনায় তিনি কোনো ধরনের প্রভাব বিস্তার করেননি। নির্যাতিত পরিবার মামলা করলে তাদের সার্বিক সহযোগিতা করব।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ