ঘূর্ণিঝড় আম্ফান : বাগেরহাটে ভেসে গেছে ৮ শতাধিক মাছের ঘের

প্রকাশিতঃ ৯:০৩ অপরাহ্ণ, বৃহঃ, ২১ মে ২০

এম.পলাশ শরীফ, বাগেরহাট : সুপার সাইক্লোন আম্ফানের তাণ্ডবে বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ২০ কিলোমিটার কাঁচা-পাকা রাস্তা বিধস্ত হয়েছে। ভেসে গেছে ৮ শতাধিক মৎস্য ঘের। ৬শ’ ফুট অথবা বেরিবাঁধ ভেঙ্গে পানিতে প্লাবিহ হয়েছে কয়েকটি গ্রাম। কৃষি, বিদ্যুৎ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। ২দিন ধরে বিদুৎ বিচ্ছিন্ন গোটা উপজেলায়।

বুধবার সন্ধ্যার পর থেকে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির সাথে দমকা হাওয়া শুরু হলেও রাত ৯ টার দিকে এ উপকূলে আঘাত হানে সুপার সাইক্লোন আম্ফান। প্রায় ৪ ঘন্টা ব্যাপি চলে এর তাণ্ডব। অতিরিক্ত জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয় উপকূল অঞ্চলের ১৬টি ইউনিয়নসহ পৌর সদর। ডুবে যায় ফসলি জমি ও নিচু ঘরবাড়ি। অর্ধ শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নদীর তীরবর্তী প্রায় ২ হাজার বসত বাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত, অর্থশতাধিক বসতবাড়ি সম্পন্ন বিধস্ত হয়েছে।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পঞ্চকরণ ইউনিয়নের দেবরাজ, কুমারিয়া জোলার অবধা বেরিবাঁধ ভেঙ্গে কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়ে যায়। অর্ধশতাধিক ছোট বড় মৎস্যঘের পানিতে ভেসে যায় বলে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক মজুমদার জানান।

বহরবুনিয়ার ফুলহাতা লঞ্চঘাট হয়ে সুর্যমূখি দেড় কিলোমিটার ইট সলিং রাস্তা, ফুলহাতা মাধ্যমিক বিদ্যালয় হয়ে বাছার বাড়ি পর্যন্ত ১কিমি., উত্তর ফুলহাতা চৌকিদার বাড়ি পর্যন্ত ১কিলোমিটার, সাড়ে ৯ কিলোমিটার কয়েকটি রাস্তা সম্পন্ন বিধস্ত হয়ে পড়েছে বলে চেয়ারম্যান তালুকদার রিপন হোসেন জানান।

অপরদিকে পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের বারইখালী ফেরীঘাট সংলগ্ন ১ কিলোমিটার পাকা রাস্তা , হোগলাপাশার শৌলখালী গ্রামে ৩কিলোমিটার কাচা রাস্তা, চিংড়াখালী ইউনিয়নের নদীর তীববর্তী চন্দিপুর ৮ কিলোমিটার কাচা রাস্তা ও ৩ কিলোমিটার ইট সলিং রাস্তা পানির স্রোতে রাতে বিধস্ত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পঞ্চকরণ ও বহরবুনিয়া ইউনিয়নে স্থানীয় সংসদ সদস্য এ্যাড. আমিরুল আমিরুল আলম মিলন বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. কামরুজ্জামান, থানা অফিসার ইনর্চাজ কেএম আজিজুল ইসলাম, ইউপি চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক মজুমদার, রিপন হোসেন তালুকদার, উপজেলা যুব লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক এ্যাড. তাজিনুর রহমান পলাশ প্রমুখ।

কৃষি খাতে ক্ষতি হয়েছে বনগ্রাম, হোগলাপাশা, চিংড়াখালীতে ৩ শতাধিক কলা ও সবজি ক্ষেতের চাষীরা। মৎস্য ঘেরে বহরবুনিয়া, জিউধরা, হোগলাপাশা, নিশানবাড়িয়া, বনগ্রাম, পঞ্চকরণ, সোনাখালী ও বারইখালীতে ৮ শতাধিক মৎস্য ঘের পানিতে নিমজ্জিত হয়ে মাছ ভেসে গেছে।

এদিকে পৌর শহরে আব্দুল আজিজ মেমোরিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয়, পুটিখালী ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী সোনাখালী টেকনিক্যাল এন্ড বিএম কলেজ সম্পন্ন বিধস্ত হয়েছে। উপজেলার অর্ধশতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আংশিক ক্ষতি হয়েছে বলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুল হান্নান জানান।

আম্ফানে উপজেলা ১৬ ইউনিয়নে ২০টি বৈদ্যুতিক খুঁটি উপড়ে গেছে ৬শ’ কিমি.বিদ্যুৎ লাইন সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে দেড় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট অফিস সূত্র জানিয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় আম্ফান নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘এ উপজেলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও নিরুপণ করা হয়নি। তবে প্রাথমিকভাবে খোঁজ খবর নিয়ে ইউনিয়নগুলোর সব সেক্টরের ক্ষতির তালিকার তৈরি করা হচ্ছে।’

সময় জার্নাল/

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।