চাল চুরির জন্য এককভাবে শুধু কি নেতারাই দায়ী?

প্রকাশিতঃ ৬:০৭ অপরাহ্ণ, বুধ, ১৫ এপ্রিল ২০

চাল চুরির জন্য এককভাবে শুধু কি নেতারাই দায়ী? নাকি আপনার-আমারও সম্পৃক্ততা আছে? চলুন জেনে নেয়া যাক……!!!

মোঃ নুরে আলম : “সম্প্রতি করোনা ভাইরাসের আর্বিভাবের পর থেকেই সরকার কতৃক জনসাধারণের জন্য বরাদ্দকৃত চাল-ডালের সিংহভাগ-ই নেতারা লুট করে নিচ্ছেন বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠেছে। এবং এইতো কিছুদিন আগে দেখলাম মায়ের বয়সী এক আন্টিকে লাইভে এসে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে কত-শত অভিযোগ আর আকুতি-মিনতির বন্যা নিজেকে ভাসিয়ে দিতে…!! আচ্ছা এই আকুতি কি গাড়ি,বাড়ি,অর্থ-কড়ির জন্য ছিলো?? না, বরং তিনি বেঁচে থাকার জন্য নূন্যতম চাল-ডাল চেয়েছেন, এবং তিনি সরকার প্রধানকে বারবার খালাম্মা ডাকে সম্বোধন করে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চেয়েছেন, আর স্পষ্টভাবে জানান দিতে চেয়েছেন যে, সরকার প্রধান উপর থেকে যে বরাদ্দ দিচ্ছেন তার মেট্রিকটন, মণ,কেজি তো দূরের কথা সামান্য পোয়া অবধি তাদের মত সাধারণ মানুষদের ভাগ্যে জুটছে না।

যেখানে জনসাধারণের প্রতিনিধিদের এই মহা দূর্যোগে জনগণের দোরগোড়ায় ঘুরে ঘুরে পরিশ্রান্ত হয়ে যাওয়ার কথা, সেখানে ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে প্ররিশ্রান্ত সাধারণ জনগণ। কিন্তু তারপরও দিনশেষে ওই মানুষগুলোর মুখে এক চিলতে হাসির রেশ হয়তবা লেগে থাকতো যদি তাদের রিক্ত হাত প্রাপ্তির মনিকাঞ্চনে ভরপুর হতো। কিন্তু দিনশেষে চিত্রনাট্য ভিন্ন হওয়ার কষ্টের মাত্রা পাল্লা দিয়ে ভারী হয় এই খেটে খাওয়া মানুষগুলোর।

“আসি এবার তিক্ত কথায় :-

ফেসবুকের কল্যাণে বুঝতে পারলাম এলিট পিপল বারবার আফসোস করছে আর বলছে সরকার কতৃক বড় বড় বাজেট পাশ হচ্ছে কিন্তু আমারা তো তার কিছুই পাচ্ছি না। যেখানে অন্য দেশের নেতারা গোপনে কিংবা প্রকাশ্যে মানুষের নিকট দু’একমাসের খাবার পৌঁছে দিয়ে তাদের কোয়ারেন্টাই নিশ্চিত করতে তারা প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, সেখানে আমার দেশের নেতারা সামান্য ৫ কেজি চাল আর ১ কেজি ডাল প্রভৃতি চুরি নিয়ে তারা ব্যতিব্যাস্ত হয়ে পড়েছেন। আবার একজন গণমাধ্যম কর্মী হিসেবে চাক্ষুষ দেখার এবং মিডিয়ার কল্যাণে বুঝতে পারলাম আমাদের নেতারা শুধু রাজনীতিতেই ছক্কা হাঁকাচ্ছেন না, বরং তাদের অভিনয়শৈলীর মাধ্যমে বলিউডে অভিনয়ের সুযোগ পাবার জোর দাবি জানাচ্ছেন (ত্রান দিয়ে ছবি তুলে তা আবার ফেরত নেওয়ার ঘটনা)।

“চলুন এবার একটু আত্মসমালোচনা করা যাক:-

আচ্ছা আমি যদি বলি- এই চাউল চোরেরা কাদের আঙুলের চাপকে পুঁজি করে আজ নেতার খেতাবে ভূষিত হয়েছে? রাজপথে কারা আমার নেতার চরিত্র ফুলের মত পবিত্র বলে গলা ফাটিয়েছে? আর যদি বলি – নেতাদের বিজয়ীর বেশে দেখার জন্য কারা অতন্দ্রপ্রহরী থেকে ছিল? আর শেষ প্রশ্নটাও যদি করি- আজ কারা ফেসবুকের টাইমলাইন কিংবা লাইভে এসে সেই নেতাদের গালি দিচ্ছে? নিশ্চয়ই ভ্রুঁ- কুঁচকে সবগুলো প্রশ্নের উত্তর এক বাক্যেই দিবেন – আমি, আপনি কিংবা আমরা তাইতো…?

আচ্ছা এখন আমার কথা হচ্ছে, এই আমি, আপনি,আমরাই যদি তখন এমন নিকৃষ্ট চরিত্রের নেতাদের বেছে না নিয়ে যদি প্রকৃত নেতাদের বেছে নিতাম তাহলে কি আজ সেই লম্পট মার্কা নেতাদের বিরুদ্ধে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে তাদের চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলতে হতো? কিংবা লাইভে এসে রোনাজারি করতে হতো কি? হয়তো পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বিপরীত কিছুও হতে পারতো।

সুতরাং লজ্জা আমার,আপনার কিংবা আমাদের হওয়া উচিত কারণ আমরা সঠিক সময়ে সঠিক মানুষগুলো বাছাইকরণে ভুল করে ফেলেছি। আমরা বুঝতে পারনি নির্বাচনের পূর্বে যে নেতা সশরীরে উপস্থিত হয়ে কিংবা অডিও বার্তায় ভোট নিশ্চিতে আপ্রাণ যুদ্ধ করতে পারে সেই নেতা এমন দূর্যোগে তার এলাকাবাসীর কাছে যাওয়া তো দূরের কথা মুঠো ফোনে একটা অডিও বার্তা পাঠিয়েও তার প্রিয় এলাকাবাসীকে একটু মনস্তাত্ত্বিকভাবে প্রশান্তি জোগাতে পারেননা।

সত্যিকার অর্থে আমারা জাতি হিসেবে এখনো আবেগী রয়ে গেলাম, আমরা এখনো সঠিক সময়ে সঠিক মানুষকে বেছে নেওয়া শিখতে পারিনি, আমরা এখনো বুঝতে শিখিনি বুঝতে কোন নেতাদের চরিত্র নির্বাচনের আগে এক আর নির্বাচিত হলে আরেক..!! আমরা এখনো আত্মসমালোচনা করতে শিখিনি। আমরা এই জায়গাগুলোতে বড্ড বেশি আনাড়ি রয়ে গেলাম। তবে কেনইবা তাহলে আমরা গলা ফাঁটিয়ে বলছি, আমরা জাস্টিন ট্রুডো মার্কা নেতা চাই, চাল চোর মার্কা নেতা নয় কেন বলছি?

যাইহোক জাস্টিন ট্রুডোর মতো নেতা আমরা সেদিন পাবো যেদিন আমরা নিজেদেরকে জাস্টিন ট্রুডোর কর্মীদের কাতারে নিয়ে যেতে পারবো, তার পূর্বে তা সম্ভব নয়। পরিশেষে প্রধানমন্ত্রী ও মানবদরদী নেতা, এবং সেই সকল সরকারি ও বেসরকারি সংগঠনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে চাই যারা মৃত্যু হাতে নিয়েও প্রতিনিয়ত মানুষের দ্বারে দ্বারে ছুটে যাচ্ছেন। সত্যিকার অর্থেই আপনারাই বরাবরের মতো জানান দিচ্ছেন বীরের রক্ত বইছে আপনাদের শরীরের শিরা-উপশিরায়। জাতি হিসেবে আমরা যতই অকৃতজ্ঞ হই না কেন..! আপনাদের কোন দিন ভুলতে পারবো না। এবং মনের সেই ছোট্ট ঘর থেকে ছোট্ট “স্যালুট” শব্দটি উচ্চারণ করতে ভুল করবো না।।

লেখক : সাংবাদিক ও শিক্ষার্থী, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, ঢাকা।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ