চুয়াডাঙ্গায় চালের বাজারে অস্থিরতা

প্রকাশিতঃ ১:৫৬ অপরাহ্ণ, রবি, ১ ডিসেম্বর ১৯

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি: পেঁয়াজ ও লবণের পর গত কয়েকদিন ধরে অস্থিরতা বিরাজ করছে চুয়াডাঙ্গার চালের বাজার। গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে চালের দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি প্রায় ৩-৪ টাকা। পাইকারি বাজারে প্রতি মণে বেড়েছে দাম ৮০ থেকে ৩২০ টাকা। এতে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

চালকল মালিকদের দাবি, ধানের হঠাৎ মূল্যবৃদ্ধির কারণে চাল উৎপাদনের খরচও বেড়ে গিয়েছে। প্রতি মণ মোটা ধান ৫০ থেকে ৭০ এবং সরু ধান ৩০০ টাকা পর্যন্ত বেশি দরে কিনতে হচ্ছে। চাল উৎপাদনের পর খরচ সমন্বয় করতে গিয়ে দাম বাড়াতে হচ্ছে। আবার মূল্যবৃদ্ধির পর চালের বেচাকেনা অর্ধেকে নেমে আসায় উৎপাদিত চাল নিয়ে তারা বিপাকে রয়েছেন।

জেলার প্রধান চালের মোকাম সদর উপজেলার সরোজগঞ্জ এবং চুয়াডাঙ্গা শহরের স্টেশনসংলগ্ন চালপট্টি ও বড়বাজারের পাইকারি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মোকামগুলোতে সরু চালের ২৫ কেজির বস্তায় ২০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। আগে মিনিকেট বিক্রি হতো ৯৫০ টাকা, তা এখন বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ১৫০ টাকায়। বাসমতী প্রতি বস্তা বিক্রি হতো ১ হাজার ৫০ টাকা, তা এখন বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকা। ব্রি-২৮ পুরোনো আগে বিক্রি হতো ৮৫০ টাকা, তা বেড়ে এখন হয়েছে ১ হাজার ৫০ টাকা। মোটা চাল হিসেবে পরিচিত স্বর্ণা (৫০ কেজির বস্তা) আগে ১ হাজার ২৫০ টাকা, বর্তমানে ১ হাজার ৩৫০ এবং খাটোবাবু আগে ১ হাজার ৪০০, বর্তমানে ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

চুয়াডাঙ্গা বড়বাজার চালপট্টিতে খুচরা দোকানগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পাইকারি বাজারের তুলনায় কেজিপ্রতি এক থেকে দেড় টাকা বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বড়বাজারের খুচরা বিক্রেতা মাসুম জানান, পাইকারি কেনার ওপর খুচরা দর ঠিক করা হয়। দাম বাড়ানো বা কমানো কোনো কিছুতেই খুচরা বিক্রেতাদের কিছুই করার থাকে না। প্রতি কেজিতে এক টাকা লাভ দেখা গেলেও আড়ত থেকে দোকানে চাল পৌঁছাতে পরিবহন ও শ্রমিক বাবদ কেজিপ্রতি প্রায় ৫০ পয়সা খরচ হয়ে থাকে। সরোজগঞ্জ মোকামের চাল উৎপাদনকারী জহুরুল ইসলাম জানান, গত দুই থেকে তিন সপ্তাহে ধানের দাম প্রতি মণে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বাড়তি দামে ধান কিনে কম দামে চাল বিক্রি সম্ভব নয়।

তিনি আরও জানান, এক মণ বাসমতী ধানের দাম ছিল ৮০০ টাকা। এখন তা বেড়ে ১ হাজার ১০০ টাকা। একইভাবে মিনিকেটে ৮০০ টাকা থেকে বেড়ে ১ হাজার ৫০ টাকা, আটাশ ৭০০ টাকা থেকে বেড়ে ৮৫০ থেকে ৯০০ টাকা এবং স্বর্ণা ৬২০ টাকা বেড়ে ৬৭০ থেকে ৬৮০ টাকা হয়। ধানের দাম বেড়ে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই চালের দাম বেড়ে গিয়েছে।

চাল ব্যবসায়ীরা জানান, সরকার চলতি আমন মৌসুমে ধান-চাল সংগ্রহের ঘোষণা দেওয়ার পর বাজারে এর প্রভাব পড়েছে।

জেলা চালকল মালিক সমিতির সভাপতি আবদুল্লাহ জানান, প্রতিবছরই এ সময় চিকন চালের মূল্যবৃদ্ধি পায়। তবে মোটা চালের দাম ক্রয়ক্ষমতার মধ্যেই আছে। তবে সাধারণ মানুষের দাবি- জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সপ্তাহে যদি দুই-একদিন বাজার মনিটরিং করা হয়, তবে সব কিছুর দাম কমবে।

সময় জার্নাল

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ