ছাত্র-শিক্ষক বিক্ষোভে উত্তাল জাবি, বন্ধের নির্দেশ প্রত্যাখান

প্রকাশিতঃ ১২:৫০ অপরাহ্ণ, বুধ, ৬ নভেম্বর ১৯

জাবি প্রতিনিধি: উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামকে অপসারণের দাবিতে আন্দোলনরতদের ওপর ছাত্রলীগের হামলা ও অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্যাম্পাস বন্ধ ঘোষণার প্রতিবাদে ছাত্র-শিক্ষক বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।

বুধবার (৬ নভেম্বর) সকাল থেকে শিক্ষার্থীরা হল ছাড়ার নির্দেশ প্রত্যাখান করে ও উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করছেন। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের “আমার বোন আহত কেন? প্রশাসন জবাব চাই”, “এক দফা এক দাবি, ফারজানা তুই কবে যাবি”, “যে হাত শিক্ষক মারে, সেই হাত ভেঙ্গে দাও”, “আমাদের শরীরে শহীদেরর রক্ত” ইত্যাদি স্লোগানে ক্যাম্পাস মুখরিত হয়ে উঠেছে।

শিক্ষার্থীরা হল ছাড়ার নির্দেশ প্রত্যাখান করে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুরাদ চত্বরে জড়ো হন। পরে সকাল ১০টার দিকে তারা মুরাদ চত্বর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ছাত্রী হলের দিকে রওনা হয়। মিছিলটি ছাত্রীদের হলের কাছে পৌঁছালে হল ত্যাগের নির্দেশ প্রত্যাখান করে ছাত্রীরাও মিছিলে যোগ দেয়। পরে মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থান প্রদক্ষিণ করে শহীদ মিনারের নিকটে আসলে সেখানে আগে থেকে অবস্থান করা আওয়ামী, বিএনপি ও বামপন্থি শিক্ষকদের একটি অংশ মিছিলে যোগ দেয়।এরপর শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে পুরাতন প্রশাসনিক ভবনে গিয়ে সমাবেশ করেন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (সকাল সাড়ে ১১টা) সমাবেশ চলছিল।

 

গতকাল মঙ্গলবারও বিকেল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। রাতে আবাসিক ছাত্রীরা হল গেটের তালা ভেঙ্গে বিক্ষোভে যোগ দেয়।

এদিকে অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি এড়াতে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
এর আগে গতকাল দুপুরে উপাচার্যের বাসভবন অবরোধকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগ হামলা চালায়। এতে শিক্ষকসহ অন্তত ৩৫ জন আহত হয়।

এর আগে গতকাল রাতে তালা ভেঙে বেশ কয়েকটি হলের ছাত্রীরা বেরিয়ে এসে বিক্ষোভ মিছিল করে। তারা ভিসির বাসভবনের সামনে অবস্থান নেয়। এদিকে আজ সকাল থেকে আবারও কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়ে গতকাল মধ্যরাতে নিজ নিজ হলে ফিরে যান শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট (মার্কসবাদী) এর সভাপতি মাহাথির মোহাম্মদ বলেন, বুধবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুরাদ চত্ত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল এবং পরে শহীদ মিনারে সংহতি সমাবেশ করা হবে। সমাবেশের পরে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও জানান তিনি।

এর আগে রাত পৌনে ১০টার দিকে ভিসির অপসারণের দাবিতে চলমান আন্দোলনে হামলা ও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণার প্রতিবাদে বেগম সুফিয়া কামাল হল ও প্রীতিলতা হলের গেটের তালা ভেঙে মিছিল বের করেন ছাত্রীরা। বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল থেকেও এ সময় ছাত্রীরা বের হয়। এ সময় তাদের সঙ্গে যোগ দেন অন্যান্য সহপাঠীরাও।

এছাড়াও রাত ৮টার কিছু পর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন চত্বর থেকে আরও একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। পরে দুটি মিছিল একত্রিত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়ে ভিসি বিরোধী স্লোগান দিতে থাকেন। তখন হলের গেটের তালা ভেঙে বেরিয়ে মিছিলে যোগ দেন বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল, প্রীতিলতা হল, সুফিয়া কামাল হল, জাহানারা ইমাম হল ও ফয়জুন্নেছা হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরাও।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ