জাতীয় বিপর্যয়ের সময়ে মসজিদের ইমামরা বিশেষ অবদান রাখতে পারেন

প্রকাশিতঃ ৬:০৯ অপরাহ্ণ, বৃহঃ, ৯ এপ্রিল ২০

ফখরুল ইসলাম ফাহাদ

ফেসবুকে একজন জনপ্রিয় হুজুরকে বলতে দেখলাম, করোনা ভাইরাসে মুসলিমদের কিছুই হবে না! করোনা ভাইরাস নাকি মুসলিমদের জন নয়! এটা বুঝি শুধুই কাফেরদের জন্য। এ হুজুরের বক্তব্য অনুযায়ী, যেহেতু মুসলিমদের করোনা হবে না, সেহেতু আমরা মুসলিমদের কোনো সচেতনতার প্রয়োজন নেই। মাহফিলে উপস্থিত থাকা হাজার হাজার জনতা ‘ঠিক’ বলে চিৎকার দিচ্ছে। শুধু তাই নয়, এই হুজুর দেখলাম পবিত্র মক্কা শরীফে কেন তাওয়াফ বন্ধ করে দিলো এ বিষয়ে বিশ্ব আলেমদের সমালোচনা করছেন। বিশেষ করে পবিত্র কাবা ঘরের হুজুরদের। আরেক হুজুরকে বলতে শুনলাম, ওনি নাকি করোনা ভাইরাসের সাথে কথা বলতে পারেন! ভাবতেই অবাক লাগে একজন হুজুর কিভাবে এসব কথা বলে জনগনের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে! অথচ সহজ সরল ধার্মিক মুসলিম জনতা এসব কথা বিশ্বাস করে বিভ্রান্ত হচ্ছে।

সেদিন দেখলাম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক আরবী প্রভাষক একটি টেভি চ্যানেলের লাইভ অনুষ্ঠানে এসে ইসলামে মহামারি নিয়ে সুন্দর ব্যাখ্যা, বিশ্লেষণ করেন এবং সরকারের প্রতিটি পদক্ষেপকে ইসলামের আলোতে যৌক্তিক আলোচনা করেন। মহামারির সময় ঘরে বসেও নামাজ আদায় করা ইসলামে আছে এই কথাটি অত্যন্ত সুন্দরভাবে কোরআন এবং হাদিসের মাধ্যমে বুঝিয়ে বলেছেন। অথচ তথাকথিত কিছু হুজুর এ বিষয়ে জনগনকে ভ্রান্ত ধারণা দিচ্ছে। কেন ভাই আপনারা এসব কেন করছেন? কেন ইসলামকে বিকৃতি করে জনমনে ধর্মীয় মিথ্যা বাণী প্রচার করছেন? ইসলামের কোথাও তো নেই এমনভাবে মানুষকে বিভ্রান্ত করা। তাহলে কেন আপনারা এমন করছেন?

করোনা ভাইরাসের এই বিপর্যয়ের সময়ে ভাইরাসটি যাতে মহামারি আকার ধারণ না করে সেই উদ্দেশ্যে সরকার সারাদেশ লকডাউন করে দিয়েছে, সব ধরনের সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নিষিদ্ধ করেছে। টেলিভিশন চ্যানেলগুলো দিন-রাত মানুষকে এই মহামারি সম্পর্কে সচেতন করছে, ডাক্তার-নার্সরা নিজের জীবন বাজি রেখে কাজ করছে, খবরের পাতায় শুধু মহামারির হিসাব নিকাশ, টকশোতে বিশেষজ্ঞরা ভাইরাস থেকে বাঁচার জন্য বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছে, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক খুবই সুন্দর একটা গানের মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রচারণা চালাচ্ছে। নিঃসন্দেহে এসব সচেতনতামূলক কাজ দেশের এই ভয়াবহ সময়ে মানুষকে রক্ষা করার কারণ হবে।

আমরা জানি যে, আমাদের দেশের বেশিরভাগ মানুষ ধর্মপ্রাণ মুসলিম জনতা। এক্ষেত্রে জনসচেতনতার লক্ষ্যে সরকারি-বেসরকারি এসব প্রচারণা থেকে আরো বেশি কার্যকর পন্থা আমার কাছে জানা আছে! আমি বলতে চাচ্ছি, এসব জনপ্রচারণা থেকে বেশি কার্যকর হবে যদি বাংলাদেশের প্রতিটি বিভাগীয় শহরের কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে শুরু করে জেলা শহরের মসজিদে, উপজেলা পর্যায়ের মসজিদে, এমনকি প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে প্রতিটি মসজিদে ইমামরা সাধারণ জনগনকে করোনা ভাইরাস সম্পর্কে সচেতন করে, তাহলে বিষয়টা আমাদের জন্য অনেক সহজ হয়ে যেতে পারে। আমাদের দেশের মানুষদের কাছে বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে দেশের প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, বড় বড় লাট সাহেব থেকে মসজিদের ইমাম সাহেবের কথার গুরুত্ব অনেক বেশি। লোকজন তাঁদের কথা শুনে, বুঝে ও পালন করে। তাই প্রত্যেক ধর্মীয় আলেমদের উচিত, যারা সাধারণ জনগনের কাছে খুবই জনপ্রিয় তারা যদি জনগনকে আহ্বান করে ঘরে থাকার জন্য, সচেতন থাকার জন্য, মসজিদে না এসে ঘরে নামাজ পড়ার জন্য, করোনা ভাইরাস ঠেকাতে দেশের সরকার যে সব পদক্ষেপ নিয়েছে এসব আইন মেনে চলার জন্য। তাহলে অধিক ফলপ্রসূ হবে বলে আমি মনে করি। এ ক্ষেত্রে মসজিদের ইমাম সাহেবরা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

শেষে একটা কথাই বলবো, দেশের এই দুর্দিনে মসজিদের ইমাম সাহেবরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে সাধারণ জনগনকে করোনা ভাইরাসের এই ভয়াবহ ছোবল থেকে জনসচেতনতায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে বলেই আমি আশা করি।

লেখক: শিক্ষার্থী, ঢাকা কলেজ।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ