জাবি উপাচার্যের দুর্নীতির যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ রয়েছে

প্রকাশিতঃ ১:৪৭ অপরাহ্ণ, বৃহঃ, ৭ নভেম্বর ১৯

নিউজ ডেস্ক: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করার জন্য যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ রয়েছে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনরত ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ মঞ্চের মুখপাত্র ও সমন্বয়ক অধ্যাপক রায়হান রাইন।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এক বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় এ কথা বলেন দর্শন বিভাগের অধ্যাপক রায়হান।

প্রধানমন্ত্রী হুঁশিয়ার করেছেন, দুর্নীতির অভিযোগের প্রমাণ দিতে হবে, মিথ্যা অভিযোগ তুললে অভিযোগকারীদের শাস্তি দেওয়া হবো। এর বিষয়ে অধ্যাপক রায়হান রাইন বলেন, ‘আন্দোলনের প্রথম থেকে আমরা তদন্ত চেয়ে আসছিলাম। গত ১২ সেপ্টেম্বর আন্দোলনরতদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আলোচনায় উপাচার্য তদন্ত না করার সিদ্ধান্ত নিলেন। কেননা তদন্ত করতে হলে তাকে সরে যেতে হতো। তদন্ত না করার সিদ্ধান্তে আমাদের সন্দেহ আরও জোরালো হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনকারীদের উপর হামলার বিষয়ে রায়হান রাইন বলেন, ‘উপাচার্যের দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করতে প্রাথমিক প্রমাণ সর্বত্র ছড়িয়ে আছে। বিশেষ করে টাকা ভাগ-বাটোয়ারায় যারা যুক্ত ছিলেন গণমাধ্যমে তাদের স্বীকারোক্তি। এছাড়া বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক যেসব তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে অর্থ কেলেঙ্কারির সংবাদ প্রকাশ করেছে সেগুলো প্রাথমিক তদন্তের জন্য যথেষ্ট বলে আমরা মনে করি।

প্রমাণগুলো আমলে না নিয়ে তদন্তের উদ্যোগ গ্রহণ না করায় বিস্ময় প্রকাশ করেন অধ্যাপক রায়হান বলেন, তথ্য-প্রমাণগুলো আমলে নিয়ে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কার্যকরী তদন্ত হলে উপাচার্যের বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হবে। এর মাধ্যমে অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম উপাচার্য পদে থাকার নৈতিক অধিকার হারিয়েছেন সেটি প্রমাণিত হবে।

উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪৪৫ কোটি টাকার অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের প্রথম ধাপের কাজের ই-টেন্ডার না করে সনাতন পদ্ধতির টেন্ডার, টেন্ডার শিডিউল ছিনতাই, ছিনতাইয়ের বিচার না করাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উপাচার্যের দুর্নীতি রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন অধ্যাপক রায়হান রাইন। তিনি জানান, ‘অভিযোগগুলোর লিখিত রূপে তৈরি করা হচ্ছে।

উন্নয়ন প্রকল্পসহ বিভিন্ন খাতে দুর্নীতির অভিযোগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের বিরুদ্ধে প্রায় তিন মাস ধরে আন্দোলন চলছে। মঙ্গলবার আন্দোলনকারী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের নেতৃত্বে হামলার ঘটনা ঘেটছে। হামলায় আট জন শিক্ষকসহ অন্তত ২৫ জন আহত হন। এই ঘটনার পর অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা, হল ত্যাগের নির্দেশ এবং ক্যাম্পাসে সব ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল এবং অফিস বা আবাসিক এলাকায় শিক্ষার্থীদের অবস্থানে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ