জীবিত বুদ্ধিজীবীদের নীরবতার প্রতি আলালের ধিক্কার

প্রকাশিতঃ ৯:৫৯ অপরাহ্ণ, রবি, ১৫ ডিসেম্বর ১৯

নিউজ ডেস্ক: বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেছেন, মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যে বুদ্ধিজীবীরা সরব ছিলেন, পাক বাহিনীর নির্যাতনে শহীদ হয়েছেন তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। একই সাথে আজকে, এই সরকারের নির্যাতনের বিরুদ্ধে যে জীবিত বুদ্ধিজীবীরা নীরব তাদের ধিক্কার জানাই।

রোববার রাজধানীর সুপ্রিম কোর্ট মিলনায়তনে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

আলাল বলেন, আজ প্রধানমন্ত্রী বলে বেড়াচ্ছেন জিয়াউর রহমান খন্দকার মোশতাকের ঘনিষ্ঠ লোক ছিলেন। আজকে তার কাছে আমার প্রশ্ন, মোশতাক কার ঘনিষ্ঠ লোক ছিলেন? মোশতাক সর্বপ্রথম কার ঘনিষ্ঠ লোক ছিলেন? আপনার বাবা মরহুম শেখ মুজিবুর রহমানের। তিনি যে আপনার বাবার ঘনিষ্ঠ লোক ছিলেন সেটা আগে বলেন। তার পরেরটা মিথ্যা হলেও সেটা মেনে নেবো।

তিনি বলেন, আজকের পুরো জাতির চোখে ধুলো দিয়ে প্রতারণা ও মিথ্যা বলার চক্রান্তে সেরা এ সরকার। এ সরকারের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ লড়াই ছাড়া বেগম জিয়াকে মুক্ত করা সম্ভব হবে কি না এ নিয়ে আমার যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। কারণ, বাংলাদেশের গণতন্ত্র, বাংলাদেশের মানবাধিকার, বাংলাদেশের স্বাধীনতার চেতনার মুক্তির সঙ্গে বেগম জিয়ার মুক্তির দাবি আজকে সমান্তরালভাবে চলছে। একটিকে বাদ দিয়ে আজকে আরেকটি চিন্তা করা সম্ভব নয়। তাই বেগম জিয়াকে মুক্ত করার জন্য প্রকৃতপক্ষে যদি আমরা সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে নামি, তবেই কেবল বেগম জিয়াকে মুক্ত করা সম্ভব।

তিনি বলেন, বিএনপি না করেও যদি নির্যাতিত হতে পারেন ড. কামাল হোসেন। তার ওপরও হামলা হয় শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে। যিনি বাংলাদেশের সংবিধান রচনা করেছেন। যদি বিএনপি না করেও দেশ ছাড়তে হয় বিচারপতি এসকে সিনহাকে, যদি অত্যাচারিত হতে হয় মাহমুদুর রহমানকে, বিএনপি না করেও আলোকচিত্রী শহিদুল হককে কারাগারে যেতে হয়, বিএনপি না করেও যদি ব্যারিস্টার মইনুলকে আদালতে লাঞ্ছিত হতে হয়, সেই দেশে এ সরকার এখনো মুক্তিযোদ্ধের জিগির তোলে।

আরও পড়ুন: মোটরসাইকেলে আগুন: ফখরুলসহ আগাম জামিন ২৩

তিনি বলেন, চৌধুরী সাহেবদের বিবেক জাগ্রত হয়েছে আর যাদের বিবেক জাগ্রত হওয়ার কথা, তারা তাদের বিবেককে কবর চাপা দিয়েছে বলেই আজকে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে থাকতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, আজ ১০৭৬৯ জন রাজাকারের তালিকা করা হয়েছে। আর গাফফার চৌধুরী আজকে বলছেন, সেই রাজাকার নাকি প্রধানমন্ত্রীর আশপাশে এমনকি প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের মধ্যেও আছে। তিনি আরো বলেছেন, ‘আমি তাদের নাম বলব না তাহলে আমি আর বাংলাদেশে আসতে পারবো না আমাকে এদেশে আর আসতে দেওয়া হবে না।’ তিনি এও বলেছেন, তার দুঃখ লাগে আজকের রাজাকাররা বসে বসে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা তৈরি করেন।

বিএনপির এই যুগ্ম মহাসচিব বলেন, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের শৃঙ্খলের মধ্যে আবদ্ধ রেখে, দালাল মুক্তিযোদ্ধাদের বিবেককে বিক্রি করে দেশে যে অনাচার সৃষ্টি হয়েছে, আজ বুদ্ধিজীবী দিবসের আলোচনায় তা বলতেও আমাদের ঘৃণা লাগে। আজ এই সরকার বাংলাদেশের স্বাধীনতার মূল চেতনা সাম্য, মানবিকতা, সামাজিক ন্যায়বিচারের বিপরীত দিকে দাঁড়িয়ে স্বৈরাচারের ন্যায় দেশ পরিচালনা করছে।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আবদুল মঈন খান, বেগম সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক শিরিন সুলতানা, যুবদল সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু প্রমুখ বক্তৃতা করেন।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ