জ্যোতিরাদিত্যের অভিমান: মধ্যপ্রদেশে ভীষণ ‍বিপাকে কংগ্রেস

প্রকাশিতঃ ৭:১৪ অপরাহ্ণ, মঙ্গল, ১০ মার্চ ২০

সময় জার্নাল ডেস্ক: সব কৌতুহল সব জল্পনার অবসান ঘটালেন জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া। ছাড়লেন তাঁর ও তাঁর বাবার দল কংগ্রেস। পতনের মুখে ঠেলে দিলেন মধ্যপ্রদেশের কংগ্রেস সরকারকে, মাত্র ১৫ মাস আগে ১৫ বছরের বিজেপিরাজ খতম করে যে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন কমলনাথ।

গতকাল সোমবার ১৭ জন অনুগামীকে বিজেপি শাসিত রাজ্য কর্ণাটকে পাঠিয়ে কংগ্রেসের এই সাবেক মন্ত্রী ও সাংসদ দিল্লি চলে আসেন। আজ মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সঙ্গে তিনি যান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দেখা করতে। ফিরে এসে কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীর কাছে নিজের পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন। তাতে দল ছাড়ার কথা জানিয়ে তিনি লেখেন, ‘১৮ বছর ধরে এই দলের সঙ্গে জড়িয়ে ছিলাম। আজ সরে যাচ্ছি। গত এক বছর ধরে এই ভিন্ন পথ একটু একটু করে প্রশস্ত হচ্ছিল।’ তিনি লিখেছেন, ‘চিরকাল রাজ্য ও দেশের মানুষের সেবা করতে চেয়েছি। সেটাই ছিল লক্ষ্য। কিন্তু কিছুদিন ধরেই সেই কাজ আর করতে পারছি না।’

জ্যোতিরাদিত্যের পদত্যাগপত্র পাওয়ার পরই কংগ্রেস সভানেত্রী তাঁকে ‘দলবিরোধী কাজের জন্য’ বহিষ্কার করেন। এই ঘটনার পর মধ্যপ্রদেশে কমলনাথ সরকারের পতন এখন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা।

কংগ্রেসের কাছে মধ্য প্রদেশ চিরকালের রত্নগর্ভা হলেও বরাবরের জন্য মাথাব্যথারও কারণ। অবিভক্ত মধ্য প্রদেশে দলের যত নেতা ছিলেন অন্য কোনো রাজ্যে তা ছিল না। অর্জুন সিং, শ্যামাচরণ শুক্ল, বিদ্যাচরণ শুক্ল, পি সি শেঠি, মোতিলাল ভোরা, দিগ্বিজয় সিং, কমলনাথ, মাধবরাও সিন্ধিয়া, অজিত যোগীরা জ্বলজ্বল করতেন। কিন্তু দলীয় কোন্দলেও এই রাজ্য ছিল সবার আগে। পরবর্তীতে রাজ্য দ্বিখণ্ডিত হওয়ার পরও সেই বিরোধের অবসান ঘটেনি। কমলনাথের বিরোধী দুজন। দিগ্বিজয় সিং ও জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া। বিজেপির একটানা ১৫ বছরের শাসনের কারণও ছিল প্রধানত এই কোন্দল। সেই কোন্দল এবং নেতৃত্বের প্রশ্নে কংগ্রেসের কিংকর্তব্যবিমূঢ়তা দেড় বছর কাটতে না কাটতেই কংগ্রেস সরকারেরও পতন ঘটাল।

মধ্য প্রদেশ বিধানসভার মোট আসন ২৩০। গত নির্বাচনে কংগ্রেস একক গরিষ্ঠ দল হয়ে স্বতন্ত্র এবং এসপি-বিএসপির সাহায্য নিয়ে সরকার গঠন করে। মুখ্যমন্ত্রী হন কমলনাথ। ১২০ জনের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন প্রথম থেকেই ছিল দড়ির ওপরে হাঁটার মতো। জ্যোতিরাদিত্য দলে দর ও কদর না পেয়ে বিজেপির হাত ধরার দিকে ধীরে ধীরে এগোতে থাকেন। এবার ১৯ বিধায়কের ইস্তফা গৃহীত হলে কংগ্রেসের সদস্য সংখ্যা কমে হবে ৯৭। বিজেপি থাকবে ১০৭। সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের জন্য প্রয়োজন ১০৬ জনের সমর্থন। ম্যাজিক না ঘটলে ফের মুখ্যমন্ত্রী হবেন বিজেপির শিবরাজ সিং চৌহান।

তিনি যে অখুশি, বেশ কিছুদিন ধরেই জ্যোতিরাদিত্য তা বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন। ৩৭০ অনুচ্ছেদ সমর্থন তার প্রথম ইঙ্গিত ছিল। সম্প্রতি তিনি দাবি জানান, যে সব প্রতিশ্রুতি দিয়ে কংগ্রেস ক্ষমতায় এসেছে, সেগুলোর অধিকাংশই এখনো পূরণ করা হয়নি। এই দাবিতে তিনি রাস্তায় নামারও হুমকি দেন। জবাবে কমলনাথ বলেন, প্রতিশ্রুতি পূরণের জন্য পাঁচটা বছর সময় আছে। সরকারও পাঁচ বছরের। সবকিছু একদিনে করা যায় না। কিন্তু তা সত্ত্বেও কংগ্রেসের গান্ধী পরিবারের ঘনিষ্ঠ এই রাজনীতিক নিজের প্রাপ্যটুকু পাননি বলে মনে করতে থাকেন। প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতির পদও কমলনাথ আঁকড়ে আছেন। তা ছাড়ার চাপও তাঁকে দিতে পারছে না হাইকমান্ড। কোনো কিছু না পেয়ে শেষ পর্যন্ত ৪৯ বছরের জ্যোতিরাদিত্য দলত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। বাবা মাধবরাও সিন্ধিয়ার দল ছেড়ে ধরতে চলেছেন নানি বিজয়ারাজে ও পিসি বসুন্ধরা রাজে, যশোধরা রাজের দল বিজেপির হাত। শোনা যাচ্ছে, রাজ্যসভার আসন্ন নির্বাচনে তিনি হতে চলেছেন বিজেপির অন্যতম প্রার্থী।

এই মাসের ২৬ তারিখ রাজ্যসভার ৫৫ আসনে নির্বাচন। এই আসনগুলোর মধ্যে মধ্য প্রদেশে ভোট হবে ৩টিতে। সেই তিন আসনের দুটি বিজেপির, একটি কংগ্রেসের। দুই দলই একটি করে আসন জেতার বিষয়ে নিশ্চিত। লড়াই তৃতীয় আসনে। কংগ্রেসের আসনের দাবিদার ছিলেন জ্যোতিরাদিত্য। কিন্তু দিগ্বিজয় সিং চান ফের মনোনয়ন পেতে। কমলনাথ আবার চাইছেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্রকে রাজ্যসভায় আনতে।

 

সময় জার্নাল / সালেহ আহমেদ

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ