জয়পুরহাটে মেয়রের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

প্রকাশিতঃ ৭:২৭ অপরাহ্ণ, বুধ, ২৯ জানুয়ারি ২০

জয়পুরহাট প্রতিনিধি : জেলার আক্কেলপুর পৌর মেয়র গোলাম মাহফুজ অবসর চৌধূরীর বিরুদ্ধে দু’টি মামলা দায়ের করেছে দুদক । বগুড়া দুর্নীতি দমন কমিশনের পক্ষে জয়পুরহাট সিনিয়ার স্পেশাল জজ আদালতে এ মামলা দাখিল করেন দুদকের আদালত পরিদর্শক নিশিত কুমার ঘোষ।

মামলা দু’টি গতকাল মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেলে জয়পুরহাট আদালতে দাখিল করা হলে ওই আদালতের বিচারক এম এ রব হাওলাদার মামলাটি আমলে নেন।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা যায়, গত ২০১৯ সালের ১৩ নভেম্বর পৌর মেয়রের বিরুদ্ধে প্রায় একই ধরনের দু’টি পৃথক মামলা দায়ের করেন আক্কেলপুর পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক আহ্বায়ক এনায়েতুর রহমান আকন্দ ও আক্কেলপুর উপজেলার মকিমপুর গ্রামের পাশ্চিম পাড়া এলাকা ও আক্কেলপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমান।

আক্কেলপুর পৌর মেয়রের বিরুদ্ধে করা এ মামলার বাদী এনায়েতুর রহমান আকন্দ তার দায়ের এজাহারে অভিযোগ করেন, জাল সনদে চাকরি করার অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় ২০০৯ সালের ২৯ জুলাই আক্কেলপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজের সহকারী গ্রন্থাগারিক ফারুক আলম চৌধুরীকে বরখাস্ত করে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

পরবর্তীতে সহকারী ওই গ্রন্থাগারিকের নিয়োগের ব্যাপারে উচ্চ আদালত স্থগিতাদেশ দেয় যা ২০১৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বহাল থাকে।

কিন্তু, আদালতের স্থগিতাদেশ উপেক্ষা করে কলেজ পরিচালনা কমিটির বর্তমান সভাপতি ও পৌর মেয়র গোলাম মাহফুজ চৌধুরী অধ্যক্ষ আতিকুর রহমান ও অপর সদস্য জামশেদ আলমকে সঙ্গে নিয়ে ২০১৪ সালের ২৩ জুলাই সভা ডেকে ওই গ্রন্থাগারিককে অবৈধ ও বে-আইনিভাবে বেতন দেন।

এছাড়া তারা অবৈধ গ্রন্থাগারিক ফারুক চৌধুরীর কাছ থেকে এমপিওর সরকারি টাকা উত্তোলন করে সরকারি তহবিলে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেন।

পৌর মেয়রের বিরুদ্ধে অপর একটি মামলা দায়ের করেন মজিবর রহমান। তিনি এজাহারে অভিযোগ করেন, আক্কেলপুর পৌরসভার গেটসহ সীমানা প্রাচীর নির্মাণ কাজে অংশ নেওয়ার জন্য দরপত্র আহ্বান করা হলে তিনি তাতে অংশ নেন।

২০১৮ সালের ২৫ ডিসেম্বর দরপত্র বাক্সে দাখিল করা দরপত্র অনুযায়ী ওই কাজের সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে চূড়ান্ত দরপত্র রিপোর্টে এক নম্বরে তার নাম আসে। যাবতীয় কাগজপত্র ঠিক থাকার পরও পৌর মেয়র গোলাম মাহফুজ চৌধুরী মিথ্যা অজুহাত দেখিয়ে তার দরপত্র বাতিল করে অর্থের বিনিময়ে সাহা ট্রেডার্স নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিককে তিনি বেশি মূল্যে কাজটি সম্পন্ন করার দায়িত্ব দেন। এতে সরকারের ৩০ হাজার টাকারও অধিক রাজস্ব ক্ষতি হয়।

একইভাবে আরও দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দরপত্র আইন অমান্য করে অবৈধভাবে বেশি মূল্যে পৌরসভার উন্নয়ন কাজ সম্পন্নের দায়িত্ব দিয়ে সরকারের আরও ২ লাখ ২৯ হাজার ৭৭০ টাকার রাজস্ব ক্ষতি করেছেন। এসব ঠিকাদারী কাজে সরকার রাজস্ব হারালেও ব্যাক্তিগত ভাবে পৌর মেয়র লাভবান হন।

বাদী তার এজাহারে আরো অভিযোগ করেন, পৌর মেয়র গোলাম মাহফুজ চৌধুরী ২০১৪ সালে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করে পরাজিত হন। সে সময় তিনি হলফ নামায় নিজের সম্পদ ১৬ লাখ ৭৯ হাজার ৪১২ টাকা এবং স্ত্রীর সম্পদ দেখিয়েছিলেন মাত্র ২৫ হাজার।

পরে ২০১৫ সালের পৌরসভা নির্বাচনেও তিনি আক্কেলপুরে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে মেয়র পদে অংশ নেন। সেখানে তিনি ২০১৫ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর তারিখে দাখিল করা হলফনামায় স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ দেখিয়েছেন ৩৪ লাখ ৫৯ হাজার ৩৭২ টাকা। আর স্ত্রীর নামে সম্পদ দেখিয়েছেন ৫ লাখ ২০ হাজার ৬৯৬ টাকা।

অথচ তিনি জয়পুরহাট শহরে কয়েক কোটি টাকা মূল্যের দুটি বিলাসবহুল বাড়ি, নিজ ও স্ত্রীর নামে পৃথক দুটি দামি প্রাইভেট কার ছাড়াও অঢেল সম্পদের মালিক।

পৌর মেয়র অবসর চৌধূরীর বিরুদ্ধে টেন্ডারবাজী, অর্থ আত্মসাত, নিয়োগ বানিজ্যসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে গত ১৩ নভেম্বর এমন দু’টি মামলা হলে জয়পুরহাট সিনিয়ার স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মামলাগুলো আমলে নিয়ে তদন্তের জন্য বগুড়া দুদককে নির্দেশ দেন।

জয়পুরহাট আদালতের রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবি (পিপি) এ্যাডভোকেট নৃপেন্দ্রনাথ মন্ডল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আজ বুধবার বিকেলে সাংবাদিকদের জানান, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী বগুড়া দুদকের উপপরিচালক মুনরুজ্জামান, সহকারি পরিচালক আমিরুল ইসলাম ও আদালত পরিদর্শক নিশিত কুমার ঘোষ দীর্ঘ তদন্ত শেষে গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে আদালতে মামলা দু’টি দায়ের করলে ওই আদালতের বিচারক দু’টি মামলাই গ্রহন করেন।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ