টাঙ্গাইল, ধনবাড়ী-মধুপুরে মহান বিজয় দিবস উদযাপন করবে

প্রকাশিতঃ ১০:৪১ অপরাহ্ণ, রবি, ১৫ ডিসেম্বর ১৯

হাফিজুর রহমান, টঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি: সোমবার (১৬ ডিসেম্বর) মহান বিজয় দিবস। পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শাসন, শোষণ, নির্যাতনের শৃঙ্খল ভেঙে বাঙালি জাতির মুক্তির জন্য ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণার পর দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে বিজয় অর্জিত হয়। একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর বর্বর পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা লাভ করে বাংলাদেশ। এই দিনটি বাঙালি জাতির জীবনে সর্বোচ্চ গৌরবের একটি অবিস্মরণীয় দিন। জীবন দিয়ে যুদ্ধ করে ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে এই বিজয় অর্জিত হয়। যতদিন পৃথিবীর বুকে বাংলাদেশ থাকবে, বাঙালি জাতি থাকবে, ততদিন এই দিনটির গুরুত্ব ও সম্মান অক্ষুণ্ন থাকবে।

বাঙালি জাতির ইতিহাস লড়াই-সংগ্রামের ইতিহাস, আত্মত্যাগের ইতিহাস। সেই ইতিহাসের পথ ধরেই বাঙালি জাতি পরাধীনতার শৃঙ্খলা ভাঙতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ১৯৭১ সালে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ে। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে এগিয়ে আসে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুক্তিকামী মানুষ। ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধে প্রায় ৩০ লাখ মানুষ শহীদ হন। সমভ্রম হারার দুই লাখের বেশি মা-বোন।

সর্বস্তরের মানুষ মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিলেও এদেশের কিছু মানুষ, জাতির কুলাঙ্গার সন্তান পাক হানাদার বাহিনীর পক্ষ নেয়। রাজাকার, আল বদর, আল সামস বাহিনী গঠন করে পাক হানাদার বাহিনীর সঙ্গে গণহত্যা ও ধ্বংস যজ্ঞে মেতে উঠে তারা। বাঙালি জাতির মরণপণ যুদ্ধ এবং দুর্বার প্রতিরোধের মুখে পাক হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসররা পরাজয়ের চূড়ান্ত পর্যায় বুঝতে পেরে বিজয়ের দুই দিন আগে জাতির সূর্য সন্তান বুদ্ধিজীবীদের বেছে বেছে হত্যা করে। এতেও সহযোগিতা ও সরাসরি অংশ নেয় এ দেশীয় রাজাকার, আল বদর, আল সামস বাহিনী ও শন্তি কমিটির সদস্যরা।

অবশেষে বাঙালির দুর্বার প্রতিরোধের মুখে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় বাহিনীর যৌথ কমান্ডের কাছে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করে। এর মধ্য দিয়েই বিশ্ব মানচিত্রে স্থান পায় নতুন স্বাধীন দেশ বাংলাদেশ।

আজ সোমবার(১৬ ডিসেম্বর) মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে টাঙ্গাইল ও মধুপুর উপজেলা প্রশাসন ও ধনবাড়ী উপজেলা প্রশাসন নানা কর্মসূচী হাতে নিয়েছে। সূর্যদোয়ের সাথে সাথে ধনবাড়ী থানা পুলিশ ৩বার তোপধ্বনির মধ্যে দিয়ে কর্মসূচীর শুরু। সকালে শহীদ মিনারে ফুল দেওয়া, দোয়া মোনাজাত, র‌্যালী ও আলোচনা সভা, ধনবাড়ী নওয়াব ইনস্টিটিউশন মাঠে মুক্তিযোদ্ধ বিষয় নানা ধরনের নাটক অভিনয় মঞ্চায়িত হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন ধনবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফা সিদ্দিকা, প্রধান অথিতি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ধনবাড়ী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হারুনার রশিদ হীরা, বিশেষ অথিতি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ধনবাড়ী উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা শামছুল হুদা, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার জেবউন্নার লিনা বকল, ধনবাড়ী পৌর মেয়র খন্দকার মঞ্জুরুল ইসলাম তপন, ধনবাড়ী উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বদিউল আলম মঞ্জু, ধনবাড়ী উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক মীর ফারুক আহমাদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক উপাধ্যক্ষ সাইফুল ইসলাম বেলাল,যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন, ধনবাড়ী মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার আনোয়ার হোসেন কালু, ধনবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ চান মিয়া, ধনবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মজিবর রহমান সহ অন্যান্য অথিতি বৃন্দ।

উক্ত অনুষ্ঠানে ধনবাড়ী সাব- রেজিস্টার, সকল ইউনিনের চেয়ারম্যান,উপজেলার সকল প্রশাসনিক কর্মকর্তা কর্মচারী, ইলেকট্রনিক্স ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিক,মুক্তিযোদ্ধা,যুবলীগ,ছাত্রলীগ, আওয়ামী সেচ্ছাসেবকলীগ সহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক শিক্ষার্থীরা অংশ নিবে বলে জানা গেছে।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ