টেকনাফে মালয়েশিয়া ফেরত ৪ শতাধিক রোহিঙ্গা আটক

প্রকাশিতঃ ১:২৫ অপরাহ্ণ, বৃহঃ, ১৬ এপ্রিল ২০

গোলাম আজম খান, কক্সবাজার : মালয়েশিয়া ভিড়তে না পেরে বাংলাদেশে ফেরত এসেছে রোহিঙ্গা বোঝাই একটি ট্রলার। কক্সবাজারে টেকনাফে মালয়েশিয়া ফেরত ৪ শতাধিকে রোহিঙ্গাকে আটক করে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড সদস্যরা।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাত ১০ টার দিকে টেকনাফের বাহারছড়া শামলাপুরের জাহাজ ঘাট থেকে তাদের আটক করে। তারা মালয়েশিয়া যেতে না পেরে এই এলাকা দিয়ে উঠার চেষ্টা করে।

এসব তথ্য নিশ্চিত করে টেকনাফ স্টেশন কোস্ট গার্ডের কর্মকর্তা লে. কমান্ডার এম সোহেল রানা সময় জার্নালকে বলেন, রোহিঙ্গা ভর্তি একটি বড় জাহাজ টেকনাফ জাহাজপুরা ঘাট দিয়ে উঠার সময় ৪ শতাধিকের মত রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়েছে। তারা বেশ কিছুদিন আগে সাগর পথে মালয়েশিয়া যাত্রা করছিল। কিন্তু সেখানে ভিড়তে না পেরে আবার চলে আসেন।

মো.জোবাইর নামক উদ্ধার হওয়া এক রোহিঙ্গা বলেন, মানবপাচারকারী দালালের খপ্পরে পড়ে গত দুই মাস ৪১২ জন রোহিঙ্গা ভর্তি একটি ট্রলার সাগর পথে মালয়েশিয়া পাড়ি দিই। কিন্তু সেদেশে কড়াকড়ির কারনে ঢুকতে না পেরে এখানে ফিরে আসি। সাগরে এত দিন ভাসমান ছিলাম। তাদের ট্রলারে ২৮ জন মারা গেছে। তার বাড়ি টেকনাফ নয়াপাড়া ক্যাম্পে। তারা সবাই উখিয়ার কুতুপালং, বালুখালী, থাইংখালী, টেকনাফের নয়াপাড়া, শামলাপুর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা বলে দাবি করেছে উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গারা।

ভেসে আসা রোহিঙ্গারা জানান, কক্সবাজারের বিভিন্ন ক্যাম্পের লোকজন ট্রলারে করে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে টেকনাফ নোয়াখালী ঘাট থেকে যাত্রা করেন। তিনদিন পর তারা মালয়েশিয়া সীমান্তে পৌঁছে যান। কিন্তু মালয়েশিয়া পুলিশ তাদের তাড়া করলে তারা ৫০ দিনের মতো সাগরে ভাসতে থাকেন। একপর্যায়ে ২৮ জন রোহিঙ্গা না খেয়ে মারা যান।

পরে তারা আবারও বাংলাদেশের দিকে চলে আসেন। এ অবস্থায় ট্রলারে থাকা নারী ও শিশুরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। খাবারও প্রায় শেষ হয়ে আসে। বাধ্য হয়ে ট্রলারের মাঝিকে সৈকতে ভেড়াতে বলেন তারা। এ সময় অনেক রোহিঙ্গা দ্রুত নেমে পালিয়ে যান বলেও দাবি করেন তারা।

টেকনাফ উপজেলার ইউএনও মো. সাইফুল ইসাম বলেন, মালয়েশিয়া ফেরত রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়েছে। তারা মালয়েশিয়া যেতে না পেরে ফেরত আসে। তাদের আগে এক জায়গায় জড়ো করা হচ্ছে। এদের মধ্যে বেশিরভাগ নারী ও শিশু।

উল্লেখ্য,মালয়েশিয়ায় ভাল বেতনে চাকরি প্রদান, মালয়েশিয়ায় প্রতিষ্টিত হওয়া রোহিঙ্গা পাত্রের সাথে বিবাহ ও উন্নত জীবন যাপনসহ নানাবিধ প্রলোভনে ফেলে শরণার্থী শিবির থেকে রোহিঙ্গা নারী-পুরুষকে মৃত্যুর মুখে টেলে দিচ্ছে দালালরা। সংঘবদ্ধ দালালচক্র সক্রিয়ভাবে ক্যাম্প ও ক্যাম্পের আশপাশের গ্রামগুলোতে কার্যক্রম চালায়। কিছুদিন আগেও মালয়েশিয়ায় পাচারকালে নৌকাডুবে অনেক রোহিঙ্গা শরণার্থীর মৃত্যু হয়েছে। সেসময় বাংলাদেশের আইন শৃংখলারক্ষাকারী বাহিনী টেকনাফ উপজেলার অনেক দালালকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছিল।

সময় জার্নাল/

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ