ট্রানজিট পণ্য নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে ভারতীয় জাহাজ

প্রকাশিতঃ ৫:১১ অপরাহ্ণ, মঙ্গল, ২১ জুলাই ২০

সময় জার্নাল ডেস্ক : ত্রিপুরা ও আসামের জন্য ট্রানজিট পণ্য নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছেছে ভারতের জাহাজ এমভি সেজুঁতি। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ভোররাতে বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছে জাহাজটি। এটি এখন বন্দরের মূল জেটিতে আনার প্রক্রিয়া চলছে। চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব ওমর ফারুক এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ট্রানশিপমেন্ট চুক্তির আওতায় জাহাজটি কলকাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী বন্দরের গেট নম্বর ৭ থেকে ১০৮ কনটেইনার রড ও ডালের চালান নিয়ে গত ১৬ জুলাই চট্টগ্রাম বন্দর অভিমুখে যাত্রা শুরু করে। গত সোমবার এটি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছার কথা থাকলেও প্রতিকুল আবহাওয়ার কারণে মঙ্গলবার ভোরে এসে পৌঁছে। জাহাজটির স্থানীয় এজেন্ট ম্যাংগো শিপিং লাইন। শিপিং লাইনের ব্যবস্থাপক হাবিবুর রহমান বলেন, জাহাজটিতে ১০৮ কনটেইনার ভর্তি রড ও ডালের চালান রয়েছে।

এরমধ্যে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের পণ্য রয়েছে ১০৪ কনটেইনার। ৪ কনটেইনার পণ্যের মধ্যে দুই টিইইউস টিএমটি ইস্পাত পশ্চিম ত্রিপুরার জিরানিয়ার এস এম করপোরেশনের। দুই টিইইউস ডাল আসামের করিমগঞ্জে জেইন প্রতিষ্ঠানের। হাবিবুর রহমান বলেন, প্রতিকুল আবহাওয়ার কারণে জাহাজটি হলদিয়া বন্দরেও যায়।

সেখান থেকে নির্দিষ্ট সময়ের একদিন পর মঙ্গলবার চট্টগ্রাম বন্দরের বহি:র্নোঙরে পৌছে। জাহাজটি জেটিতে বার্থিং দেয়ার জন্য ইতোমধ্যে আমরা চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছি। এটি এখন বন্দরের মূল জেটিতে আনার প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি কনটেইনার খালাসের লক্ষ্যে কাস্টমসসহ বিভিন্ন মাশুল পরিশোধের জন্য প্রক্রিয়া শুরু করেছি। খালাসের পর চারটি ট্রেইলরে (লরি) সড়কপথে কনটেইনারগুলো আখাউড়া হয়ে ত্রিপুরা ও আসাম পাঠিয়ে দেয়া হবে। এ চালানের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর ও সড়কপথ ব্যবহার করে ভারতীয় পণ্য তাদের উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যে পরিবহনের প্রথম পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু করেছে। বন্দর সূত্র জানায়, ২০১৮ সালের অক্টোবরে দিল্লিতে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহার করে ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে পণ্য সরবরাহ করতে দুই দেশের মধ্যে চুক্তি হয়।

চুক্তির আর্টিক্যাল-৪ এ বলা হয়েছে, বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি পণ্যের ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ যে ধরণের সুবিধা নিয়ে থাকে ভারতীয় পণ্যের ক্ষেত্রেও একই সুবিধা প্রদান করবে। এছাড়া চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ প্রায়োরিটির ভিত্তিতে স্পেস প্রদান করবে।

চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ কাস্টমস কর্তৃপক্ষ সাত ধরনের মাশুল আদায় করবে। এই সাতটি হলো প্রতি চালানের প্রসেসিং ফি ৩০ টাকা, প্রতি টনের জন্য ট্রান্সশিপমেন্ট ফি ৩০ টাকা, নিরাপত্তা মাশুল ১০০ টাকা, এসকর্ট মাশুল ৫০ টাকা এবং অন্যান্য প্রশাসনিক মাশুল ১০০ টাকা। এ ছাড়া প্রতি কনটেইনার স্ক্যানিং ফি ২৫৪ টাকা এবং বিধি অনুযায়ী ইলেকট্রিক সিল ও লক মাশুল প্রযোজ্য হবে।

চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি মাহুবুবুল আলম বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্পাদিত ট্রানজিট চুক্তির আওতায় পণ্য পরিবহন পুরোদমে শুরু হলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে নতুন মাত্রা সূচিত হবে। প্রতিটি কনটেইনারের বিপরীতে কাস্টমস কর্তৃক সরকারি মাশুল আদায় করা হবে। বাংলাদেশের সড়কপথ ব্যবহারের জন্যও সড়ক ও জনপথ বিভাগ নির্ধারিত মাশুল আদায় করবে। এ ছাড়া দেশের শিপিং এজেন্ট, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, কার্গো পরিবহন এজেন্টের আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং দেশের জনগণের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে, যা দেশের অর্থনীতিকেই চাঙা করবে।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।