ঠাকুরগাঁওয়ে গ্রাহকের টাকা নিয়ে এনজিও উধাও!

প্রকাশিতঃ ৫:৫৭ অপরাহ্ণ, বুধ, ১৮ নভেম্বর ২০

হিমেল তালুকদার, ঠাকুরগাঁও: জেলার ভূল্লীতে গ্রাহকদের কয়েক লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়ে উধাও ‘জনকল্যাণ এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি ভুয়া এনজিও। স্বল্প সময়ে গ্রাহকদের সহজ শর্তে ঋণ ও পণ্য দেওয়ার নামে প্রায় কয়েক লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়ে পলিয়ে গেছে এনজিওটির মূলহোতা।

ঘটনাটি ঘটেছে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ৬ নং আউলিয়াপুর ইউনিয়নের ভূল্লী বাজার নামক স্থানে।

সোমবার থেকে বিষয়টি জানাজানি হলে। এ সংবাদ শুনে ‘জনকল্যাণ এন্টারপ্রাইজ’ এর অফিসের সামনে জড়ো হন ভুক্তভোগী গ্রাহকরা।

সরজমিনে গিয়ে জানা যায়, ভূল্লী বাজারের দক্ষিণ পাশে ব্রাক অফিস সংলগ্ন দেবত্তর পাড়া গ্রামের বাসিন্দা এ্যাডভোকেট জাকির হোসেন সুজনের বাড়িতে গত ৫ই নভেম্বর অপরিচিত এক ব্যক্তি অফিস করার নামে বাড়িটি ভাড়া নেয়।

এরপর সেখানে জনকল্যাণ এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ভুয়া অফিস খুলে বসেন প্রতারক। এ সময় অফিস পরিচালনা করার জন্য নিয়োগ দেন আরিফুল ইসলাম নামে স্থানীয় এক যুবক ও দুই মেয়েকে। এর পর কয়েক দিনের মাথায় ভূল্লীর বালিয়া, বড়গাঁও, শুকানপুকুরী ও আউলিয়াপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম থেকে ঋণ দেওয়ার নামে সঞ্চয় হিসেবে কয়েক লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেন সেইপ্রতারক।

বগুলা ডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা কাঠমিস্ত্রি আল-মামুন বলেন, গত কয়েকদিন আগে অপরিচিত এক ব্যক্তি এ্যাডভোকেট সুজন এর বাড়িতে অফিস করার নামে আমার কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা দামের দুটি ক্যাশ টেবিল ও ১২ হাজার টাকা দামের একটি ওয়াল সুকেজ মাত্র ৭ হাজার টাকা জমা দিয়ে মালামাল নিয়ে যায় এবং বাকি টাকা পরবর্তী সময়ে দেওয়ার কথা বলে। ঐ অফিসে কাজ করার জন্য আমার বোনকে নিয়োগ দেন। এখন শুনি সে উধাও। আমি গরিব মানুষ আমি প্রায় নিঃস্ব হয়ে গেলাম। আমি এর বিচার চাই।

আরেক ভুক্তভোগী বোর্ড অফিস গ্রামের বাসিন্দা রমজান আলী বলেন, ঐ প্রতারক গত ৪ দিন আগে আমাদের গ্রামে এসে স্বল্প সুদে দীর্ঘ মেয়াদি ঋণ ও পণ্য দেওয়ার নামে কয়েক জনের কাছ থেকে বেশ কিছু টাকা নেয়। এখন দেখি এটি একটি ভুয়া এনজিও। আমরা এই প্রতারককে খুঁজে বের করে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

বড়গাঁও ইউনিয়নের বাসিন্দা হাফিজ বলেন, আমরা সহজ সরল মনে জনকল্যাণ এন্টারপ্রাইজ থেকে ঋণ পাওয়ার আশায় বেশ কয়েক জন ৩০০০ হাজার থেকে ৫০০০ টাকা সঞ্চয় দেই। সেই এনজিও থেকে আমাদের কয়েক লক্ষ টাকা ঋণ দেওয়ার কথা হয় কিন্তু এখন দেখি সব ভুয়া।

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, এ্যাডভোকেট সুজন কীভাবে কোন কাগজ পত্র ছাড়াই অপরিচিত ঐ ব্যক্তিকে অফিস করার জন্য বাড়ি ভাড়া দিলো এবং কীভাবে অফিস এর কার্যক্রম পরিচালনা হলো। এর দায়-দায়িত্ব তাকেই নিতে হবে।

বা র মালিক এ্যাড. জাকির হোসেন সুজন বলেন, অপরিচিত এক ব্যক্তি হঠাৎ করে এসে বলেন তার কয়েকটি রুম লাগবে অফিস করার জন্য। সে আমার শর্তে রাজি হলে তাকে আমি বলি আপনি আপনার মালামাল রাখতে পারেন কিন্তু ডিট না হওয়া পর্যন্ত কোন কার্যক্রম চালাতে পারবেন না। এর মধ্যে আমি ঢাকায় গেলে শুনি সেই ব্যক্তিটি জনকল্যাণ এন্টারপ্রাইজ নামে কয়েক লক্ষ টাকা হাতিয়ে উধাও।

এ বিষয়ে ৬ নং আউলিয়াপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান জানান, বাড়ীর মালিক সুজন আমাকে বিষয়টি অবগত করেছেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল-মামুন জানান, জনকল্যাণ এন্টারপ্রাইজ নামে ভুয়া এনজিও টাকা হাতিয়ে বিষয়ে শুনেছি। তবে এখনও কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সময় জার্নাল/

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।