ঠাকুরগাঁওয়ে চেয়ারম্যানের নির্দেশে সরকারি গাছ কেঁটে সাফ

প্রকাশিতঃ ৭:৩৩ অপরাহ্ণ, মঙ্গল, ২১ জুলাই ২০

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি : মানুষ দেখলে জানাজানি হবে এই ভেবে ভোর রাতেই রাস্তার পাশের ২৫-৩০টি ইউক্যালিপ্টাস সরকারি গাছ কেঁটে সাফ করে ফেলেছে রমনীকান্ত (৪৩) নামে এক ব্যক্তি। তার দাবি তিনি চেয়ারম্যানকে জানিয়ে গাছ কেঁটেছেন। পরে গণমাধ্যমকর্মীরা কাঁটা গাছের ছবি ও ভিডিও ধারণকালে বেড়িয়ে আসে গাছ কাঁটার আসল রহস্য।

গত সোমবার ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ২১ নং ঢোলারহাট ইউনিয়নের ছুট খড়িবাড়ী নামক এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটেছে । সরকারি গাছ কর্তনকারি রমনীকান্ত ওই এলাকার মৃত-বীরেন্দ্র নাথ বর্মন ওরফের ভোলার ছেলে।

সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায় কর্তন করা গাছের গোড়া ঘাস-পাতা দিয়ে ঢেকে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে, আর গাছের ডাল-পালা রাখা হয়েছে কর্তনকারির বাসার আঙিনায়। পরে খোঁজ করে জানা যায় গাছগুলো স্থানীয় ইউসুফ আলীর মিলে বিক্রয়ের জন্য রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে সেই স-মিলে গেলে এর সত্যতা পাওয়া যায়।

এ ব্যাপারে গাছ কর্তনকারি রমনীকান্তের সাথে কথা বললে তিনি জানান, এগুলো মুলগাছ নয়, গাছ থেকে বের হওয়া শিকড় জাতীয়, তাছাড়া গাছগুলি আমরাই লাগিয়েছি-তাই কাটা। রাস্তার গাছ কাটতে কোন অনুমতি নিয়েছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সীমান্ত কুমার বর্মন নিকট থেকে অনুমতি নিয়ে গাছগুলি কাঁটা হয়েছে। তবে ভোরবেলা কেন গাছ কেটেছেন এর উত্তর দিতে পারেননি তিনি।

এ বিষয়ে জানতে ঢোলারহাট ইউপি চেয়ারম্যান সীমান্ত কুমার বর্মন এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, রমনীকান্ত সমস্যার কথা জানিয়ে তাদের লাগানো রাস্তার ধারের দুই-তিনটি গাছ কাঁটতে চাইলে তাদের কাঁটতে বলা হয়েছে, তবে তিনি কতগুলো গাছ কেঁটেছেন তা তার জানা নেই।

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল্লাহ-আল-মামুনের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ঢোলারহাট ইউনিয়নে অবৈধভাবে রাস্তার গাছ কাঁটার বিষয়ে আমার জানা নেই। অনুমতি ছাড়া কেউ রাস্তার সরকারি গাছ কাঁটাতে পারবে না। যদি কেউ এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সময় জার্নাল/

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।