ঠাকুরগাঁওয়ে টাঙ্গন নদীর থেকে চলছে বালু উত্তলোন

প্রকাশিতঃ ৪:৪৯ অপরাহ্ণ, বৃহঃ, ২১ নভেম্বর ১৯

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: শীতকাল আসলে নদীর পানি একদম কমেযায়। আর সে সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে এলাকা ও বাইরের কিছু অসাধু প্রভাবশালি নদী দখল করে টাঙ্গন নদীর চরের বালু বিক্রি ও তলদেশ থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তলোন করে বিক্রি করছে। এর ফলে বর্ষাকালে প্রতিবছর নদীভাঙ্গনের সৃষ্টি হচ্ছে নষ্ট হচ্ছে কৃষি জমি, পরিবর্তন হচ্ছে নদীর গতিপথ।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার নারগুন ফেসাডাঙ্গি ব্রিজ যেতে পথে পরে পোকাতি ইু খামারের বাগান আর বাগানের ভিতর দিয়ে রয়েছে কাচা রাস্তা। রাস্তার পাশদিয়ে বয়ে গেছে টাঙ্গন নদী আর সেখান থেকে চলছে অবাধে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তলোন ও বিক্রি।

পোকাতি ইু খামারের রাস্তা দিয়ে যেতে প্রায় ১ কিলোমিটার গিয়ে দেখা যায় সেখানকার বালু উত্তলোনের মহোউৎসব। একে একে বালু নিতে আসা গাড়ির ভির। সেখানে গিয়ে জানতে পারা যায় প্রতিদিন প্রায় শতাধিক গাড়ি সেখান থেকে বালু নিয়ে যায় আর প্রতি গাড়ি বালু ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা দরে বিক্রি করছে বালু উত্তলোনকারী চক্র।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নারগুন এলাকার এক বাসিন্দা জানায়, দির্ঘ দিন ধরে টাঙ্গন নদী থেকে কিছু প্রভাবশালি ব্যাক্তি ড্রেজার দিয়ে বালু তুলছে এবং বিক্রয় করে আসছে ।

নারগুন এলাকার বাসিন্দা আরিফ বলেন প্রশাসন এসে অনেকবার বালু উত্তলোনকারীদের ড্রেজার তুলে নিয়ে যায় জেল জরিমানা করে, আবার কিছুদিন যেতে না যেতেই শুরু হয় বালু উত্তলোন। এভাবে ড্রেজিং এর ফলে নদী দেখে বোঝার উপায় নেই নদীর কোন যায়গায় নদীর গভীরতা কেমন।

এছাড়াও, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার নারগুন ইউনিয়নের কহড়পাড়া এলাকায় টাঙ্গন নদীর বাকে গড়ে উঠেছে ছোট বড় অনেক চড়। আর এসব চরে দখল করে আছে সেখানকার অসাধু প্রভাবশালিরা। চড় থেকে মাহিদ্র, পাওয়ারট্রিলারের লোকেরা এসে বালু কিনে নিয়ে যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন মাহিদ্র ড্রাইভার বলেন, প্রতি গাড়ি বালু ২০০ থেকে ২৫০ টাকা এবং রাবিস প্রতিগাড়ি ১০০ থেকে ১৫০ টাকা করে এখান থেকে ক্রয় করে নিয়ে যাই। “টাকা কাকে দেন” জানতে চাইলে সে জানান গাড়ি ভর্তি হলে এখানে ঘাটের লোক আসেন এবং সেই বালুর টাকা নেন।

এ বিষয়ে বালু উত্তলোন কারীদের কাছে জানতে চাইলে তারা বিষয়টি এরিয়ে যান। জগন্নাথপুর এলাকার রায়হান নামে এক যুবক জানায়, প্রতিবছর বর্ষাাকালে নদীর বাকগুলোতে শ্রোতের কারনে বালু জমা হয়। বর্ষা চলে গেলে এলাকার প্রভাবশালিরা সেসব যায়গা দখল করে এরপর বালু বিক্রি করেন। শুধু তাই নয় নদীর আসপাসে বেশিরভাগ খাস যায়গা এখন তাদের ও দখলে।

এ বিষয়ে এলাকাবাসীরা জানায়, শুধু ভ্রাম্মমান আদালত অভিযান চালালে কয়েকদিন বালু উত্তলোন বন্ধ থাকে, আবার সুযোগ পেলেই শুরু হয় তাদের ড্রেজিং উৎসব।

সময় জর্নাল/ সুজন

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ