ঠাকুরগাঁয়ে কভিড-১৯ ল্যাব চেয়ে প্রধানমন্ত্রীকে খোলা চিঠি

প্রকাশিতঃ ৪:৪৫ অপরাহ্ণ, মঙ্গল, ১৪ এপ্রিল ২০

সময় জার্নাল ডেস্ক: ঠাকুরগাঁয়ে ইতোমধ্যে ৩ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী সনাক্ত করা হয়েছে, সেই সাথে ঠাকুরগাঁও জেলাকে করোনা ভাইরাসের জন্য সবচেয়ে ঝুকিপূর্ণ জেলা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাছাড়া, করোনা ভাইরাস বিশ্বব্যাপী মহামারি আকার ধারণ করার পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত থাকা জেলার হাজার হাজার প্রবাসী দেশে ফিরেছেন। অতি সাম্প্রতিকালে, ঢাকা এবং নারায়ণগঞ্জ থেকে হাজার হাজার গার্মেন্টস শ্রমিক এলাকায় ফিরে আসায় করোনা ভাইরাসে সংক্রমণ বিস্তারের শঙ্কা ক্রমেই বাড়ছে এবং জনমনে আশংকার সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় ঠাকুরগাঁওবাসীর সুরক্ষার কথা চিন্তা করে ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালে করোনা কভিড-১৯ পরীক্ষার পিসিআর ল্যাব স্থাপনের দাবি জানানো হয়েছে।

এ দাবিতে ঠাকুরগাঁওবাসীর পক্ষে ১২ এপ্রিল রোববার, গ্রীসে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাই কমিশনে কর্মরত ড. আল আমিন প্রধানমন্ত্রীকে একটি খোলা চিঠি লিখেছেন।

চিঠিতে তিনি বলেছেন, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, সৈয়দপুর এবং রংপুর অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ মধ্যপ্রাচ্য, আমেরিকা, ইউরোপসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে প্রবাস জীবনযাপন করে রেমিটেন্সযোদ্ধা হিসেবে কাজ করছে। যাদের প্রেরীত রেমিটেন্স বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধিসহ বাংলাদেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালীকরণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে বেকার সমস্যার সমাধানে ব্যাপক অবদান রাখছে।

তাছাড়া ড. আল আমিন আরো বলেন, উত্তরাঞ্চল হলো দেশের মানুষের জন্য খাদ্য ভাণ্ডার, দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ খাদ্য শস্যই উত্তরাঞ্চলে উৎপাদিত হয় এবং সারা দেশে সরবারহ করা হয়। যদি ঠাকুরগাঁও জেলায় করোনা সংক্রমণের হার গাণিতিক হারে বৃদ্ধি পায় তাহলে সারা দেশে খাদ্য সংকট দেখা দিতে পারে। কারণ, খাদ্য সরবারহকালে করোনা ভাইরাস বিস্তার লাভ করতে পারে। যার ফলে পুরো দেশকেই মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে ফেলে দিতে পারে।

অন্যদিকে, রংপুর বিভাগের প্রায় ১ কোটি ৬০ লক্ষ মানুষের জন্য (পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, সৈয়দপুর এবং রংপুর) বিশাল এই জনগোষ্ঠীর জন্য শুধুমাত্র একটি করোনা কভিড-১৯ পরীক্ষাগার; তাও সেটি রংপুর স্থাপন করা হয়েছে। ঠাকুরগাঁও কিংবা পঞ্চগড় কারো শরীরে করোনা ভাইরাসের লক্ষণ দেখা দিলে কিংবা আক্রান্ত হলে দায়িত্বরত ডাক্তারকে খবর দেওয়া এবং নমুনা সংগ্রহ করে সুদূর রংপুরে পাঠানো সময় সাপেক্ষ এবং অনেক ব্যয়বহুল। কিন্তু, করোনা ভাইরাস রোধে যত দ্রুত এবং যত বেশি টেস্ট করানো যাবে তত বেশি করোনা কভিড -১৯ এর বিস্তার রোধ করা সম্ভব হবে।

তাই এ অঞ্চলবাসীর তথা দেশ ও জনগণের স্বার্থে ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালে করোনা ভাইরাসসৃষ্ট কভিড-১৯ রোগের পরীক্ষার নিমিত্ত একটি পিসিআর ল্যাব প্রতিষ্ঠা করার জন্য সবিনয় নিবেদন পেশ করছেন। এটি প্রতিষ্ঠিত হলে ঠাকুরগাঁওবাসীর পাশাপাশি আশেপাশের জেলা পঞ্চগড় এবং দিনাজপুর জেলার মানুষও খুব সহজে এবং দ্রুততার সাথে স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ করতে পারবে। বিষয়টি অতীব জরুরী ও জনগুরুত্বপূর্ণ বিধায় প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি এবং কভিড-১৯ পরীক্ষার নিমিত্ত জরুরী ভিত্তিতে পিসিআর ল্যাব স্থাপনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার অনুরোধ জানান তিনি।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ