ডাক্তারদের প্রাইভেট চেম্বার খোলা রাখতে বলাটা বিরাট ভুল

প্রকাশিতঃ ৭:৫৪ অপরাহ্ণ, শনি, ৪ এপ্রিল ২০

ডা. আব্দুন নূর তুষার :

দেশের প্রাইভেট প্র্যাকটিশনারদের চেম্বার খোলা রাখতে বলা একটা বিরাট ভুল।

ট্রিয়াজ (Triage) এর ব্যবস্থা করেন ও সাধারন মানুষকে অযথা সংক্রমনের হাত থেকে বাচান।

টেলিমেডিসিন এ জোর দেন।

মন দিয়ে পড়েন।

১. প্রাইভেট প্র‌্যাকটিশনাররা একসাথে অনেকে বসেন। আলাদা বসেন কম। তারা সেখানে ইমার্জেন্সি আছে এমন রোগী খুব কম দেখেন। যারা আসেন তারা হাটা চলা করতে পারেন বা অন্তত হুইল চেয়ারে আছেন এমন রোগী। তারা হয়তো কেউ অপারেশনের পরে এসেছেন বা অপারেশন হবে , সেজন্য প্রস্তুতি নিতে এসেছেন।

ইমারজেন্সীর জন্য সব হাসপাতাল খোলা আছে।

২. তাদের কাছে যারা যাবেন তাদের অধিকাংশই অন্য রোগের জন্য যাবেন, কোভিডের জন্য না। কিন্তু ওয়েটিং এরিয়াতে একজন কোভিড রোগী এসে সকলকেই ইনফেক্ট করে যেতে পারেন অথবা ডাক্তারকেও। অন্য অসুখ থাকলে সাথে কোভিড ধরলে , মৃত্যুর সম্ভাবনা অনেক বেশী। ফলে চেম্বার থেকে যাদের করোনা সংক্রমন হবে তারা আগেই অসুস্থ বলে তাদের বিপদ বেশী হবে।

৩. পরিস্কার করার বা ডিসইনফেক্ট করার যে পদ্ধতি সেটা প্রাইভেট চেম্বারে করা বেশ কঠিন।

৪. ডাক্তারদের সংগঠন এফডিএসআর প্রথমে এবং তারপর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, স্বাচিপ . বিএমএ সকলেই টেলিমেডিসিন সেবা চালু করেছে।

৫, বাংলাদেশে আগে থেকেই টোনিক, পালস এসব টেলিমেডিসিন সেবা চালু আছে।

৬. প্র্যাকটিস এর চেম্বার যারা করেন তাদের মধ্যে বিখ্যাতদের প্রায় সবাই সরকারী ডাক্তার। তাদের বরং এখন সুস্থ রেখে হাসপাতালে নিয়োজিত রাখা বেশী দরকার।

৭. প্র্যাকটিসিং চেম্বারে রোগীর সংস্পর্শে এসে এরই মধ্যে ডা আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরী হয়ে ১৪ দিন কোয়োরেন্টিনে থেকেছেন। যার ফলে ১৪ দিন তার সেবা থেকে সাধারন রোগী ও হাসপাতাল বঞ্চিত হয়েছে।

৮. তাই চেম্বার খোলা রাখার জন্য ম্যাজিস্ট্রেট পাঠানো, এসবের নির্দেশ দেয়া একটা ভুল কাজ।

৯. বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এমনকি সন্দেহজনক কোভিড রোগীকেও প্রথমে টেলিমেডিসিনে দেখার কথা বলেছেন। পিপিই সংক্রান্ত গাইডলাইনের রিকমন্ডেশন ফর অপটিমাইজিং ইউজ অব পিপিই তে বলা হয়েছে, ডাক্তাররা সাসপেক্টেড করোনা রোগীকেও যেন প্রথমে টেলিমেডিসিন এর মাধ্যমে দেখার চেষ্টা করেন ও অপ্রয়োজনে ভর্তি না করেন। এমনকি হাসপাতালে আসতেও নিষেধ করেন।

১০. ট্রিয়াজ করার কারনও এটাই যাতে হাসপাতালের আউটডোরে কোভিড রোগী এসে যে কোন কনসালট্যান্টের কাছে যেতে না পারেন।

১১. প্রাইভেট চেম্বারে কোনভাবেই স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলতে রোগী ও রোগীর আত্মীয়দের নিয়ন্ত্রন করা যাবে না। তারা সাথে লোক আনেন এমনকি যাদের বাসায় বাচ্চা রাখার মানুষ নেই তারা বাচ্চা সহ চলে আসেন।

তাই প্রাইভেট চেম্বার খোলা রাখতে বাধ্য না করে , ডাক্তারদের হাসপাতালে রাখেন ও যথাযথ ট্রিয়াজ ব্যবস্থা নিশ্চিত করেন।

আর যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব বেসরকারী পর্যায়ে র‌্যাপিড টেস্টিং অ্যালাও করেন। কোরিয়ান কিট ভালো। বড়লোকরা সেখানে টেষ্ট করুক । দেশের রিসোর্সের উপরে চাপ কমুক। ভিআইপিরা দামী জায়গায় টেস্ট করুক। আমাদের দরকার গরীব বাঁচানো। সাধারন মানুষ বাঁচানো।

র‌্যাপিড টেস্ট হলে বহু সাধারন রোগীও সহজে সব হাসপাতালে ভর্তি হতে পারবে। কনটামিনেশন বা কন্টাজিয়নের ভয় কমে যাবে।

ডাক্তাররা চেম্বারে টাকা নিয়ে দেখেন। তাই তারা নিজের ক্ষতি করেই চেম্বার বন্ধ করেছেন। কারন তিনি চান না যে বৃদ্ধ দম্পতি, হার্টের রোগী, হাঁপানির রোগী, ডায়াবেটিসের রোগী তার কাছে আসেন, তারা যেন কোভিড আক্রান্ত হয়ে অনাকাংখিত কোন পরিস্থিতির শিকার হন।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ