দক্ষিণের তুলনায় তিন গুণ বেশি এডিস মশার লার্ভা উত্তরে

প্রকাশিতঃ ১১:৩৭ পূর্বাহ্ণ, শনি, ৭ সেপ্টেম্বর ১৯

এডিস মশা নির্মূলে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। এজন্য বাড়ি বাড়ি গিয়ে লার্ভা অনুসন্ধান, চিরুনি অভিযান, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও সচেতনতামূলক নানা কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।
পাশাপাশি এডিস মশা ও লার্ভা নিধনে নতুন ওষুধও প্রয়োগ করা হয়েছে। দুই সিটি করপোরেশনের এই কর্মসূচি পর্যালোচনা করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) তুলনায় উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় তিন গুণ বেশি এডিস মশার লার্ভা উপযোগী পরিবেশ রয়েছে। দক্ষিণে ১৭ শতাংশ এবং উত্তরে ৫৫ শতাংশ বাসা-বাড়িতে এডিস মশার লার্ভা উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়।
জানা গেছে, গত জুলাই মাসের শুরু থেকে ডেঙ্গুবিরোধী অভিযান শুরু করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। তখন বাসা-বাড়িতে লার্ভা অনুসন্ধান শুরু করা হয়নি। ২২ জুলাই থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাসা-বাড়িতে গিয়ে অভিযান শুরু করা হয়। এর আগে লার্ভা শনাক্তে ডিএসসিসির কমিউনিটি অ্যাম্বাসেডররা কাজ শুরু করে। আর একই মাসের ১৯ তারিখে নগরীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে সচেতনতামূলক অভিযানের মাধ্যমে ডেঙ্গুবিরোধী কর্মসূচি শুরু করে উত্তর সিটি করপোরেশন। অভিযানের মধ্যে চিরুনি অভিযান নামে একটি ব্যতিক্রম উদ্যোগ ছিল সংস্থাটির।
দুই সিটির অভিযান পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, জুলাই থেকে গত বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত ২ লাখ ৩৯ হাজার ১০৪টি বাড়ি ও স্থাপনা পরিদর্শন করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের এক লাখ ১৬ হাজার ৮৮৫টি ও উত্তর সিটি করপোরেশনের এক লাখ ২২ হাজার ২১৯টি বাড়ি ও স্থাপনা পরিদর্শন করা হয়েছে।
এসব বাড়ির মধ্যে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের এক হাজার ৩৮২টি বাড়ি ও ২০০টি নির্মাণাধীন স্থাপনায় এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। পাশাপাশি ১৮ হাজার ৯৯০টি বাড়িতে লার্ভা উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়। অভিযানকালে সাত জনকে কারদণ্ড ও ৩৪ লাখ ৮৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
অপরদিকে উত্তর সিটি করপোরেশনের এক লাখ ২২ হাজার ২১৯টি বাড়ি ও স্থাপনার মধ্যে ২ হাজার ১৩টি বাড়িতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। পাশাপাশি সংস্থাটিতে ৬৭ হাজার ৭৫৮টি বাড়িতে এডিস মশার লার্ভা উপযোগী পরিবেশ পাওয়া গেছে। তবে চিরুনি অভিযানে কাউকে জরিমানা করা না হলেও নিয়মিত ভ্রাম্যামাণ আদালতের অভিযানে তিন জনকে কারাদণ্ড ও প্রায় ৭০ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
এর বাইরে দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে ডেঙ্গু প্রতিরোধ সেল গঠন করে দেওয়া হয়। এই সেলের মাধ্যমে গত ২১ আগস্ট পর্যন্ত দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ৫৮ হাজার বাসা-বাড়ি পরিদর্শন করলেও উত্তর সিটি করেছিল এক হাজার ৪০৬টি। পরে এডিস মশা নির্মূলে প্রাথমিকভাবে সংস্থাটি ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে গত ২০ আগস্ট চিরুনি অভিযানে নামে। পরবর্তীতে এই অভিযান পুরনো ওয়ার্ডগুলোতে পরিচালনা করা হয়। এতে বাদ পড়ে নতুন যুক্ত হওয়া ১৮টি ওয়ার্ড।
অভিযানে যেসব বাসা-বাড়িতে এডিস মশার লার্ভা কিংবা লার্ভা উপযোগী পরিবেশ পাওয়া গেছে সেগুলো ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। এতে ডিএনসিসি তাদের এলাকার বাড়িগুলোতে “এই বাড়ি/স্থাপনায় এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়” লেখা স্টিকার লাগিয়ে দেয়। তবে ডিএনসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা এএসএম মামুন জানান, তারা চিরুনি অভিযানের পাশাপাশি প্রতিটি ওয়ার্ডে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সেল গঠন করে কাজ করেছে। সেখানে যে সংখ্যক বাসা-বাড়ি পরিদর্শন করা হয়েছে সেটি এই হিসেবে আসেনি।
দুই সিটির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা জানান, তারা নাগরিকদের বাসা-বাড়ি পরিদর্শনের সময় মাটির পাত্র, ফুলের টব, পানির ট্যাংক, ড্রাম, পরিত্যক্ত পানির টব, কলসি, পরিত্যক্ত বেসিন, কমোড ও টয়লেটের ফ্ল্যাশ, বালতি, টায়ার, খাবারের প্লাস্টিক-প্যাকেট, লিফটের নিচ, নির্মাণাধীন ভবন, ডোবা, পলিথিন, ডাবের খোসা, নিচু জায়গা, নারিকেলের মালা, পানির ড্রাম, মাটির হাড়ি, প্লাস্টিকের পাত্র, বাড়ির ছাদসহ এ জাতীয় স্থানে এডিস মশার লার্ভা এবং এদের বংশবিস্তার উপযোগী পরিবেশ পেয়েছেন।
দক্ষিণের তুলনায় উত্তরে এডিস মশার লার্ভা বেশি হওয়ার কারণ সম্পর্কে সংস্থাটির একজন কাউন্সিলর বলেন, উত্তর সিটিতে এসি ও উন্মুক্ত পরিবেশ বেশি। আর দক্ষিণে কলকারখানা বেশি। সেখানে মশা থাকে না। তাই লার্ভাও পাওয়া যায় না। উত্তরের গুলশান, বনানী, বারিধারা, নিকেতন, উত্তরা ও বসুন্ধরাসহ এসব এলাকায় মশা বেশি। কারণ সেখানের বেশিরভাগ বাড়িতেই এসির ব্যবহার রয়েছে। এছাড়া উন্মুক্ত জায়গা বেশি।
অভিযানের বিষয়ে ডিএনসিসি’র মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘ডেঙ্গু সেলের পাশাপাশি এডিস মশার লার্ভা নিধনে চিরুনি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। আমরা চেষ্টা করেছি নগরবাসীকে সচেতন করতে। যেসব বাড়িতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে সেসব বাড়িতে স্টিকার লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নতুন ওষুধ প্রয়োগ করা হয়েছে।’
এ বিষয়ে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. সাঈদ খোকন বলেন, ‘গত ১ জুলাই থেকে আমরা ডেঙ্গুবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করি। আমাদের টার্গেট ছিল এ মাসের প্রথম সপ্তাহের দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা। বর্তমানে কিছুটা উন্নতি হয়েছে।
এজন্য আমরা নিয়মিত কার্যক্রম জোরদারের পাশাপাশি মন্ত্রণালয় থেকে প্রতিটি ওয়ার্ডে যেসব কর্মকর্তাদের সমন্বয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সবাই মিলে নিরলস চেষ্টা করছি। বাসা-বাড়িতে যেহেতু আমাদের কর্মীরা খুব বেশি যেতে পারে না তাই আমাদের ট্যাক্স দাতা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও মসজিদে অ্যারোসল বিতরণ করেছি। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সবার ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ